• ই-পেপার

নীলফামারীতে ট্রাকচাপায় নিহত ৪

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর রুমে আগুন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোর রুমে আগুন
সংগৃহীত ছবি

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টোররুমে আগুন লেগে মজুদ রাখা সরকারি ওষুধ ও মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে গেছে। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর স্টোর রুমে এ ঘটনা ঘটে।  

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী জুয়েল খান জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে হঠাৎ করে স্টোর রুমের ভেতর আগুন ধরে যায়। 

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফজলে বারী জানান, বৈদ্যুতিক শট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে নিজেরাই চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছি। তবে ওই কক্ষে বেশ কিছু মালামাল ছিল। সেগুলো আগুনে পুড়ে গেছে। 

সাভার ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম জানান, খবর পেয়ে সাভার ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মচারীরা।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ওই কর্মকর্তা। 

বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, পলাতক স্ত্রী

বুড়িচংয়ে ভাড়া বাসা থেকে চালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, পলাতক স্ত্রী
ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে এক পিকআপচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে নিহত পিকআপচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের (৩৫)  দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইব্রাহিম ওই এলাকার ফরিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় পিকআপচালক ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রথম স্ত্রী ও সন্তান থাকা অবস্থায় প্রায় ছয়-সাত মাস আগে ইব্রাহিম দ্বিতীয় বিয়ে করেন। পরে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমকে নিয়ে নিমসারের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক বিরোধ হতো।

স্থানীয়রা জানায়, রবিবার দুপুরে পাশের ঘরের ভাড়াটিয়ারা দুর্গন্ধ পেয়ে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানান। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মঞ্জুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে ইব্রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। মরদেহে পচন ধরেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। ঘটনাস্থলের প্রাথমিক আলামত দেখে এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত ইব্রাহিমের দ্বিতীয় স্ত্রী রেহেনা বেগমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।  

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বান

দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার।

রবিবার (১২ জুলাই) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক তপন কুমার বসুর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষ করে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় মানুষের অবর্ণনীয় কষ্ট ও দুর্ভোগ হচ্ছে। সেদিকে খেয়াল রেখে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার সব জেলা, মহানগর, থানা কমিটিকে দুর্গত মানুষের পাশে থেকে জরুরি ওষুধ শুকনো খাবার ও বস্ত্রসহ দুর্গত এলাকায় মানুষের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।’

ধুনটে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন, জনমনে আতঙ্ক

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি
ধুনটে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যমুনা নদীর ভাঙন, জনমনে আতঙ্ক
বগুড়ার ধুনটে যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারে ভাঙন।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর প্রবল স্রোতে বগুড়ার ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও টিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছে। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে নদী ভাঙন।  

রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে নতুন করে উপজেলার যমুনা নদীর শহড়াবাড়ী স্পারের সামনের অংশের প্রায় ৩০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে চরম ভাঙন আতঙ্ক। যমুনা পাড়ের মানুষ আশঙ্কা করছেন, যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে। এ ভাঙন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও লোকালয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। তারা ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধান দাবি করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের শহরাবাড়ি গ্রামে গত বছর অক্টোবরে যমুনা নদীর হঠাৎ ভাঙনে ভূমিসহ ৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে নদীর তলদেশ ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় এবং পানির প্রবল স্রোতে ঘূর্ণাবর্তে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। পরবর্তীতে ভাঙনকবলিত তীর ধরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ও টিউব ফেলার মাধ্যমে ভাঙন রোধ করা হয়।

তবে সম্প্রতি যমুনা নদীতে আবারও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৯ জুন থেকে শহরাবাড়ী ও বানিয়াজান স্পারের মধ্যবর্তী কয়েকটি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রবল স্রোতের কারণে ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে পানি নদীপাড়ে আঘাত হানছে। এতে জিওব্যাগ দিয়ে তীর সংরক্ষিত এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি। এ কারণে স্থানীয় লোকজনের মাঝে নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক দেখা দেয়।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি হলেও স্থায়ী ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। ফলে  নদীতীরবর্তী এলাকা যমুনার গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, ভাঙন শুরুর পরপরই ভাঙনরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বালুভর্তি এই বিশেষ টিউবগুলো নদীর ভাঙনরোধে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ কারণে নদী ভাঙনে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতির কোনো সম্ভাবনা নেই।