• ই-পেপার

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বান

বাসচাপায় নিহত একই গ্রামের তিনজনকে শেষ বিদায়

ভাঙ্গা (ফরিদপুর)প্রতিনিধি :
বাসচাপায় নিহত একই গ্রামের তিনজনকে শেষ বিদায়
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাসচাপায় নিহত একই গ্রামের তিনজনকে চোখের জলে শেষ বিদায় জানিয়েছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।

রবিবার (১২ জুলাই) সকালে ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী গ্রামে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নিহতরা হলেন জয়নাল মিয়া (৩০), ওবায়দুল শেখ (৪৫) ও আরিফ মিয়া (৪২)।

জানাজায় গ্রামের মানুষ, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন। স্বজনদের কান্নায় এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে জানাজায় অংশ নেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং তাদের জন্য দোয়া করেন।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় ভাঙ্গার সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডিমবোঝাই একটি ট্রাক দাড়িয়ে ছিল। ট্রাকটির পাশে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে যশোরগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের চাপা দেয়।

ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন। এর মধ্যে তিনজন ছিলেন সুয়াদী গ্রামের বাসিন্দা। অপর দুইজন হলেন নগরকান্দা উপজেলার হাফিজুল মাতুব্বর (২৮) এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার রেকার গাড়ির সহকারী জালাল খান (৩৬)।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চারটি বাসে আগুন দেন এবং সড়ক অবরোধ করেন। পরে প্রশাসন ও স্থানীয় নেতাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

চট্টগ্রামে বন্যায় ৫ দিনে ৬ শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু

আহত ৯০ জনের মধ্যে ৭৫ জনই সাপে কাটা রোগী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে বন্যায় ৫ দিনে ৬ শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে অতিভারি বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়-দেয়াল ধসে এখন পর্যন্ত ৬ শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে বন্যা ও পানিতে ডুবে মারা গেছে ৭ জন। গত ৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ৭টি উপজেলায় তারা মারা যান।

গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

এ দিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলায় ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক, বাঁশখালীতে ১৬ টি কমিউনিটি ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি উঠলেও এখন নেমে গেছে।

তিনি জানান, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় সর্বশেষ গত শনিবার পর্যন্ত মোট আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৯০ জন। এরমধ্যে ৭৫ জন সাপে কাটা রোগী আছে। এরমধ্যে কোন রোগী মারা যায়নি। বন্যা দুর্গত এলাকায় আমাদের মেডিকেল টিম পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওআরএস, প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য ওষুধপত্র নিয়ে এলাকায় কাজ করছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে জানা যায়, সদ্য চট্টগ্রাম জেলায় অতিভারি বৃষ্টিতে বন্যা, পাহাড় ও দেয়াল ধসে নগর, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, রাউজান, আনোয়ারা, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় মোট ১৩ জন মারা যান। এরমধ্যে ৬ জন শিশু, চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছে।

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন জানান, আহত ৯০ জনের মধ্যে পাহাড় ধসে ২ জন, দেয়াল ধসে ২ জন, সাপে কাটা ৭৫ জন এবং অন্যান্য আহত ১১ জন। এরমধ্যে সাপে কাটা ৭৫ জন আহতের মধ্যে বোয়ালখালী ২০, রাঙ্গুনিয়া ৩, হাটহাজারী ৮, সাতকানিয়া ৩, চন্দনাইশ ৩, লোহাগাড়া ২, পটিয়া ২২, রাউজান ১৪ জন।

জানালার গ্রিল কেটে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে চুরি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
জানালার গ্রিল কেটে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে চুরি
আদমদীঘি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের জানালার লোহার গ্রিল কেটে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার ও মনিটর চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে অফিস শেষে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ের দরজা-জানালা তালাবদ্ধ করে চলে যান। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন অফিসে এসে একটি জানালার লোহার গ্রিল কাটা এবং খোলা অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনি জানতে পারেন, দুর্বৃত্তরা জানালার গ্রিল কেটে কার্যালয়ে প্রবেশ করে কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, মনিটরসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি সরঞ্জাম চুরি করে নিয়ে গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাকির হোসেন জানান, ঘটনার বিষয়ে আদমদীঘি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তিনি।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসটি তুলনামূলক অরক্ষিত এলাকায় হওয়ায় এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় এ ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে।

আদমদীঘি থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত শুরু হয়েছে। কার্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

কুড়িগ্রাম

বন্যার পানি নামছে, কৃষিতে ভেসে উঠছে ক্ষত

দেখা দিয়েছে তীব্র নদীভাঙন  আতঙ্কে নদীপারের মানুষ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
বন্যার পানি নামছে, কৃষিতে ভেসে উঠছে ক্ষত
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের চর কড়াই বরিশাল এলাকায়। সম্প্রতি তোলা। কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে স্পষ্ট হয়ে উঠছে দুর্যোগের ভয়াবহ চিত্র। একদিকে নদীভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, অন্যদিকে পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়েছে শত শত হেক্টর ফসলের ক্ষেত। 

জানা গেছে, উজানের ঢল আর নদ-নদীর পানি বাড়া-কমার প্রভাবে কুড়িগ্রামের ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও দুধকুমার নদে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে পানি সরে যাওয়ার পর মাঠজুড়ে দেখা যাচ্ছে নষ্ট হয়ে যাওয়া সবজি, আমনের বীজতলা ও আবাদি ফসল। ফলে বসতভিটা হারানোর শঙ্কা আর কৃষি খাতে ক্ষতি— এই দুই সংকটে বিপর্যস্ত জেলার হাজারো মানুষ।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ভাঙনকবলিত ৪০টি পয়েন্টের মধ্যে ৩০টিতে জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা চলছে। তবে অধিকাংশ স্থানে এখনো স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় নদীপারের মানুষের উদ্বেগ কাটছে না।

সরেজমিন কুড়িগ্রাম সদর, উলিপুর, চিলমারী, ভূরুঙ্গামারী ও রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব অনেক পরিবার। একের পর এক নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকা। 

অন্যদিকে আবাদি জমি গ্রাস করে নদী এখন অনেক জায়গায় বসতভিটার কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে দিন-রাত আতঙ্কে কাটছে নদীপারের মানুষের।

ভুক্তভোগীরা জানায়, নদীভাঙনের কারণে অনেকে জীবনে পাঁচ থেকে ১৫ বার পর্যন্ত বসতভিটা হারিয়েছে। এবার শেষ আশ্রয়টুকুও নদীগর্ভে চলে গেলে তাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না। ফলে দ্রুত কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের।

পাউবোর তথ্য মতে, জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত ১৬টি নদ-নদীর মধ্যে পাঁচটি প্রধান নদ-নদীর দুই তীরের মোট দৈর্ঘ্য ৩৭৪ কিলোমিটার। এরমধ্যে মাত্র ৬৬ কিলোমিটার এলাকায় স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, পানি বাড়া-কমার কারণে বিভিন্ন নদীতে ভাঙন বেড়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে ছয় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে চার কিলোমিটারে কাজ চলছে। বাকি দুই কিলোমিটার এলাকায় কাজ করায় জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। 

অন্যদিকে বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে জেলার কৃষি খাতেও বড় ধরনের ক্ষতির ছবি ফুটে উঠেছে। 

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পটোল, মরিচ, বেগুন, আমনের বীজ তলা, পাটসহ বিভিন্ন সবজি ও আবাদি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যায়ই তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, বন্যার পানিতে আমার ক্ষেতের সবজি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। এত বড় ক্ষতির পর কী করব বুঝতে পারছি না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’ একই এলাকার কৃষক আবু মিয়া বলেন, ‘আমার ২০ শতক জমির বেগুন ও পটলের ক্ষেত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণের কাজ চলছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা মরিচ, বেগুন, শসা ও বিভিন্ন শাকজাতীয় ফসলের আবাদ করতে পারেন। তা সম্ভব না হলে মাসকলাই একটি লাভজনক ফসল বিকল্প হিসেবে চাষাবাদ করতে পারেন। 

এছাড়া আবারও বন্যার আশঙ্কা থাকায় উঁচু জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা। তবে পাট বড় হয়ে যাওয়ায় এ ফসলের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে বলেও জানান তিনি।