• ই-পেপার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নতুন বউকে রেখে প্রবাসে পাড়ি, দুই মাসেই লাশ হয়ে ফিরছেন সালথার শোয়াইব

সালথা-নগরকান্দা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
নতুন বউকে রেখে প্রবাসে পাড়ি, দুই মাসেই লাশ হয়ে ফিরছেন সালথার শোয়াইব

নিজের অভাবী পরিবারকে স্বাবলম্বী করার জন্য বছর তিনেক আগে মালয়েশিয়ায় গিয়ে পাড়ি জমান মো. শোয়াইব বিশ্বাস (২৩) নামে এক যুবক। সেখানে গিয়ে দীর্ঘদিন একটি কম্পানিতে কাজ করে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দেশে আসেন। দেশে এসে গত মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেন। তবে তার বিয়ের মেহেদীর রং শুকানোর আগেই জীবিকার তাগিদে ফের মালয়েশিয়ায় নিজের কর্মস্থলে গিয়ে চলে যান। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস-কর্মস্থলে কাজ করার সময় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

নিহত শোয়াইব বিশ্বাস ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামের মো. শওকত বিশ্বাসের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সেজো।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সন্ধ্যায় শোয়াইবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভগ্নিপতি মো. তুহিন হাসান। এদিকে শোয়াইয়ের খবরে শোকে স্তব্দ হয়েছে পরিবার। এমন অবস্থায় দেশে লাশ আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে চেয়েছেন সরকারের সহযোগিতা।

নিহতের পরিবার জানান, জীবিকার তাগিদে ২০২৩ সালে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে একটি কম্পানিতে কাজ শুরু করেন শোয়াইব। সেখানে কাজ শেষে চলতি বছরের এপ্রিলে ছুটিতে বাড়িতে আসেন। বাড়ি আসার পর গত দুই মাস আগে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ছুটি শেষে গত ১ জুলাই মালয়েশিয়া চলে যায়। দেশটির জহুরবারু এলাকায় একটি কনস্ট্রাকশন কম্পানির অধীনে বোম্ব ক্রেনের সাহায্যে নির্মাণাধীন ভবনে ফায়ার ফাইটারের পাইপ লাগানোর কাজ শুরু করেন। শুক্রবার সকালে কাজ করাকালীন বোম্বক্রেন চাপায় নিহত হন তিনি।

নিহতের ভগ্নিপতি তুহিন হাসান বলেন, শুক্রবার দুপুরে মালয়েশিয়ার ওই কম্পানির দায়িত্বরত এক বাংলাদেশি আমাকে ফোন করে নিহতের বিষয়টি জানান। তাছাড়া ওই বাংলাদেশি ছবি ও ভিডিও পাঠিয়েছে, তাতে নির্মমভাবে মৃত্যুর বিষয় ফুটে উঠেছে। কম্পানির পক্ষ থেকে তার লাশ ফেরত পাঠানোর জন্য তিন সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তবে লাশটি দ্রুত দেশে আনার জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি। 

ফরিদপুর প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক মো. আশিক সিদ্দিকী বলেন, নিহত ব্যক্তি কোনো কম্পানির অধীনে কাজ করে থাকলে তাঁরা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে লাশ পাঠাতে পারবে। সেখান থেকে কোনো সহযোগিতার না পেলে নিহতের পরিবার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধকর্মী হয়ে থাকলে আমরা লাশ আনার ক্ষেত্রে দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করব।

উখিয়ায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে নষ্ট ত্রাণ বিতরণ

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
উখিয়ায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে নষ্ট ত্রাণ বিতরণ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সোনারপাড়া এলাকার ডেইলপাড়ায় পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা সরকারি ত্রাণসামগ্রীর মান নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ত্রাণের মধ্যে থাকা কিছু ডাল নষ্ট ও ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে ক্ষতিগ্রস্তদের নতুন ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েকদিন ধরে জলাবদ্ধতায় আটকে থাকা শতাধিক পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেল, মরিচের গুঁড়া ও হলুদের গুঁড়া বিতরণ করা হয়।

ত্রাণ পাওয়ার পর কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, ডালের প্যাকেটে উৎপাদন কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণের কোনো তথ্য উল্লেখ ছিল না। তাদের ভাষ্য, প্যাকেট খুলে দেখা যায় ডালের একটি অংশ জমাট বাঁধা ও আঠালো হয়ে গেছে, যা খাওয়ার উপযোগী নয়।

ডেইলপাড়ার বাসিন্দা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, কয়েক দিন ধরে পানিবন্দি অবস্থায় কষ্টে দিন কাটানোর পরও তারা ভালো মানের খাদ্যসামগ্রী পাননি। এমন পরিস্থিতিতে নষ্ট খাদ্যসামগ্রী বিতরণে তারা হতাশ।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, দুর্যোগের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে নিম্নমানের ত্রাণ দেওয়া দুঃখজনক। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও মানসম্মত খাদ্যসামগ্রী বিতরণের দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, বিষয়টি তিনি তদন্ত করে দেখেছেন। তার ভাষ্য, ত্রাণসামগ্রীর মেয়াদ শেষ হয়নি, তবে সংরক্ষণের সময় বাতাস প্রবেশ করায় কিছু প্যাকেট নষ্ট হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জনের মধ্যে এমন ত্রাণ গেছে। যারা নষ্ট ত্রাণ পেয়েছেন, তাদের পরিবর্তে ভালো মানের ত্রাণসামগ্রী দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতে ত্রাণ বিতরণের আগে খাদ্যসামগ্রীর মান নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মাগুরায় ভারি বর্ষণে ধসে গেল কালভার্ট

মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় ভারি বর্ষণে ধসে গেল কালভার্ট
ধসে যাওয়া কালভার্ট দেখে হতভম্ব পথচারী। ছবি : কালের কণ্ঠ

মাগুরার শালিখা উপজেলার শালিখা শতখালী সড়কের গোবরা এলাকার একটি পুরাতন কালভার্ট ধসে পড়েছে। এতে কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কটি কিছুদিন আগে নির্মাণ করা হয়েছিল।

শুক্রবার (১০ জুলাই) ভারি বর্ষণের এক পর্যায়ে কালভার্টটি ধসে পড়ে।

এলাকাবাসী জানান, সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভারি বর্ষণ হচ্ছিল। বর্ষণের এক পর্যায়ে হঠাৎ করে গোবরার এই পুরাতন কালভার্টটি ধসে যায়। একই সঙ্গে ধসে যায় কালভার্টের দুই পাশের সংযোগ সড়ক। এটি কিছুদিন আগে নির্মাণ করা হয়েছিল।

কালভার্টটি স্থানীয় গোবরা খালের উপর অনেক বছর আগে স্থাপিত হয়েছিল।

নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

নাটোরের লালপুরে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আ. লতিফ নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে, গত বুধবার রাতে উপজেলার দুয়ারিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর সাতপুকুরিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আ. লতিফের সঙ্গে তার স্ত্রী জুথি খাতুনের বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে যায়। পরবর্তীতে জুথি খাতুন অন্যত্র বিয়ে করেন। এ কারণে তাদের মেয়ে বেশিরভাগ সময় তার নানার বাড়ি গোপালপুর পৌরসভার বৈদ্যনাথপুর এলাকায় বসবাস করে এবং মাঝে মাঝে তার বাবার বাড়িতে যাতায়াত করত।  

গত বুধবার বাবার বাড়িতে বেড়াতে গেলে গভীর রাতে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন আ. লতিফ। সকালে নানার বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তাদের জানায় ভুক্তভোগী ওই কিশোরী।

এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম পলাশ জানান, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। ভিকটিমকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’