সামনের সপ্তাহে অনার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থী সুমাইয়ার। সেই ফলাফলে ৩.৫০-এর বেশি সিজিপিএ অর্জনের প্রত্যাশা ছিল তার। কিন্তু সেই আনন্দ আর দেখা হলো না বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের (১০ম ব্যাচ) এ শিক্ষার্থীর। নিয়তির নির্মম পরিহাসে সাফল্যের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েই চিরবিদায় নিলেন হাস্যোজ্জ্বল এই তরুণী।
শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে (হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে) সুমাইয়া শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ২৪ বছর। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলায়।
জানা গেছে, সুমাইয়া শুধু পড়াশোনাতেই নয়, বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রমেও ছিলেন অনন্য। তার প্রজেক্ট সুপারভাইজার এবং পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আহসানুল হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোক প্রকাশ করে জানান, সুমাইয়া তার প্রজেক্টের শিক্ষার্থী ছিলেন। ব্যাচের প্রেজেন্টেশনগুলোতে তিনি সবসময় সেরা পারফর্মারদের একজন ছিলেন।
শিক্ষাজীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন সুমাইয়া। সংসার ও ক্যারিয়ার নিয়ে যখন তার একরাশ স্বপ্ন, ঠিক তখনই অকাল মৃত্যু সব স্বপ্ন থামিয়ে দিল।
সুমাইয়ার অকাল প্রয়াণে তার পরিবার, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সহপাঠীরা জানান, তিনি অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল, মিশুক ও বন্ধুসুলভ একজন মানুষ ছিলেন। তার এই আকস্মিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা।
পরিবার ও সহপাঠীরা সুমাইয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। একই সঙ্গে, জীবদ্দশায় তার কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ১০টায় পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়ায় তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




