• ই-পেপার

সম্পত্তির জন্য মাকে বাড়ি থেকে বের করা সেই ইঞ্জিনিয়ার ছেলে কারাগারে

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ে, কাজ শেষ হয় না

চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ে, কাজ শেষ হয় না

চট্টগ্রাম নগরের অভিশাপখ্যাত জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনটি সংস্থা চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্প চারটির মেয়াদ বাড়ে, সঙ্গে বাড়ে ব্যয়। কিন্তু কাজ শেষ হয় না। ফলে নগরবাসীর জন্য বর্ষা মৌসুম মানেই জলাবদ্ধতার বিষয়টি ‘কপাল লিখন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই অন্তহীন দুর্ভোগ ও অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

চার প্রকল্পের মধ্যে আছে- চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ২০১৪ সালে নেওয়া নতুন খাল খনন প্রকল্প, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) ২০১৭ সালে নেওয়া মেগা প্রকল্প ও কালুরঘাট-চাক্তাই পর্যন্ত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০১৯ সালে নেওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প। তিনটি সংস্থার চার প্রকল্পে বরাদ্দ প্রায় ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এত প্রকল্প তবুও ডুবছে নগর। বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সিডিএ। সংস্থাটি ২০১৭ সালে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগা প্রকল্পের অনুমোদন পায়। শুরুতে প্রকল্পের মেয়াদ ছিল তিন বছর। কিন্তু তিন দফা সংশোধনের ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমান প্রকল্পটি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৫৯১ কোটি টাকায়। তিন বছর মেয়াদকালের প্রকল্পটির কাজ শেষ হতে সময় লাগছে ১১ বছর। বর্তমানে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ। তাছাড়া, সিডিএর ‘কর্ণফুলী নদীর তীর বরাবর কালুরঘাট সেতু থেকে চাক্তাই খাল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১৭ সালে ২ হাজার ৩১০ কোটি টাকায় অনুমোদন হয়। তিন দফা সংশোধন করে এর ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকায়। ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালে শুরু হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ করার কথা। এটির কাজ শেষ হয় ৮৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, চসিক জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৪ সালে ‘বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন’ শীর্ষক ৩২৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পায়। নানা কারণে কাজটিও শেষ হয়নি। এখন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১২৫৬ কোটি ১৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। কাজ শেষ হয়েছে ৯৭ শতাংশ। তাছাড়া, পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের উদ্যোগে ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসন’ শীর্ষক প্রকল্প চলমান। ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকার প্রকল্পটির ব্যয় সংশোধন করে ১ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত। প্রকল্পের কাজ শেষ ৯৬ শতাংশ।

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ফের নোয়াখালীর ব্যবসায়ী নিহত

নোয়াখালী প্রতিনিধি
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ফের নোয়াখালীর ব্যবসায়ী নিহত
বেলাল হোসেন ওরফে সুমন। সংগৃহীত ছবি

দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে দেশটির জোহানেসবার্গের মেফেয়ার এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

নিহত ওই ব্যবসায়ীর নাম বেলাল হোসেন ওরফে সুমন (৩৫)। তিনি উপজেলার ৯ নম্বর মিরওয়ারীশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মনির উদ্দিন মহাজন বাড়ির আব্দুল ওয়াদুদের ছেলে।

এ নিয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় নোয়াখালীর দুই ব্যবসায়ীকে হত্যা করল দুর্বৃত্তরা।

স্থানীয়রা জানায়, সুমন গত ১৫ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। গত ১ বছর আগে দেশে ঘুরে যান তিনি। বুধবার বিকেলের দিকে একদল দুর্বৃত্ত দোকানে এসে তাকে লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলি চালায়। এতে মাথা ও ঘাড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই সুমন নিহত হন। তার মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এর আগে, গত শুক্রবার রাতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার মোহাম্মদ ইয়াছিন নামের এক ব্যবসায়ীকে দক্ষিণ আফ্রিকার পোর্ট এলিজাবেথে দোকান বন্ধ করে বাসায় ফেরার মুহূর্তে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সুমনের নিহতের বিষয়টি গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জেনেছি। নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হবে।

নাটোরে ইজিবাইকে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণহানি বেড়ে ৩

নাটোর প্রতিনিধি
নাটোরে ইজিবাইকে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণহানি বেড়ে ৩
ছবি: কালের কণ্ঠ

নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে ইজিবাইকের চালক নিহত হওয়ার পর হাসপাতালে আরো দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের গোপালপুর রাজাপুর সরকারের ঢালান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ইজিবাইক চালক রান্টু মিয়া (২৮), যাত্রী তলৈক্ষ্য হালদার (৬০) ও শিপন খান (২৪)।

রান্টু মিয়া উপজেলার গোপালপুর গড়মাটি গ্রামের তফেজউদ্দিন ঝড়ুর ছেলে। তলৈক্ষ্য পারগোপালপুরের মৃত কৃপা হালদারের ছেলে ও শিপন গড়মাটি খাঁ পাড়ার চাঁদ আলী খানের ছেলে। আহত একজনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এবং অপরজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ৪ জন যাত্রী নিয়ে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকটি রাজাপুর থেকে গড়মাটি বাজারের উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে সরকারের ঢালান এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ট্রাকটিকে আটক করেছে। তবে চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে।

কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজারে বন্যা-পাহাড়ধসে প্রাণহানি ২৪, পানিবন্দি ৪ লাখ মানুষ
ছবি: কালের কণ্ঠ

কক্সবাজারে টানা ৬ দিনের ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলার রামু, চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন ৪ লাখেরও বেশি মানুষ। বর্ষণজনিত পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কয়েকটি অংশ ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

একই সঙ্গে পাহাড়ধস ও পানিতে ডুবে প্রাণহানিও বাড়ছে। সর্বশেষ চকরিয়ায় বন্যার পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় পাহাড়ধসে ২০ জন এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে ও ডুবে ৪ জনসহ মোট ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকাকারা এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে মোহাম্মদ ওয়াকিম (২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মছনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে তৌসিফ (১৪) ও রুমি আক্তার (১৭) নামের চাচাতো ভাই-বোন নিহত হন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে বিভিন্ন এলাকায় উপচে পড়েছে। রামু উপজেলার গর্জনীয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, রাজারকুল, চাকমারকুল ও দক্ষিণ মিঠাছড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

চকরিয়া উপজেলার হারবাং, বরইতলী, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং পৌরসভার নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, বদরখালী, ঢেমুশিয়া ও সাহারবিল ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মাতামুহুরির কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী এলাকায় মাতামুহুরী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে বানের পানি ঢুকে পড়ে। এতে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া, রাজাখালী, মগনামা, শিলখালী ও উজানটিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকাও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় যানচলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো সরকারি সহায়তা অনেক এলাকায় পৌঁছেনি।

এদিকে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ঘেঁষা বসতিগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, দুর্যোগ মোকাবেলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ত্রাণ বিতরণের জন্য মজুদ রয়েছে খাদ্যসামগ্রী, মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা। প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গত ৬ দিনে কক্সবাজারে ৬৫০ মিলিমিটারেরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।