• ই-পেপার

ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর পৃথিবী উপহার দেওয়াই আমাদের মূল ভাবনা : কৃষিমন্ত্রী

রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
নিহত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হয়েছেন যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, মাসুদ চৌধুরীর পরিবার স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুপুরে তিনি ওষুধ কিনতে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বের হয়েছিলেন। পাহাড়তলী এলাকায় একটি মার্কেটের সামনে তাকে পেছন থেকে অতর্কিত মাথায় ও পায়ে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় মার্কেটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলি করার পর সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিকল্পিতভাবে মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ও ময়নাতদন্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হজযাত্রীর হারানো লাগেজ নিয়ে মারামারি, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয় প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হজযাত্রীর হারানো লাগেজ নিয়ে মারামারি, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া ব্যাগকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। 

আজ শনিবার দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় সংঘর্ষ চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছর শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা হজ করতে সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি তার একটি লাগেজ হারিয়ে আসেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহপুর গ্রামের ওই হজযাত্রী তার হারিয়ে যাওয়া লাগেজের জন্য আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত কসবা হজ কাফেলায় যান। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া লাগেজের দায়িত্ব হজযাত্রীর নিজের। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিছু করার নেই। এ নিয়ে ওই দিনই উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পৌর এলাকা ও আশেপাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

কসবা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনিন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ  সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 
 

ময়মনসিংহ

সৌদিতে নিয়ে প্রতারণা, ৯ মাসেও মেলেনি কাজের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
সৌদিতে নিয়ে প্রতারণা, ৯ মাসেও মেলেনি কাজের অনুমতি
মো. সোহাগ মিয়া (বাঁয়ে) ও রহমতউল্লাহ মনির। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৯ মাস আগে সৌদি আরবে গেছেন সোহাগ মিয়া ও রহমতউল্লাহ মনির। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার এ দুই যুবক সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

সোহাগ মিয়ার বাড়ি উপজেলার নওপাড়া গ্রামে। আর রহমতউল্লাহ মনিরের বাড়ি একই উপজেলার দক্ষিণ সাটিহারী গ্রামে। সৌদিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

দেশটিতে যাওয়ার পরই আকামা (সৌদিতে বসবাসের অনুমতিপত্র) ও নির্দিষ্ট কাজের আশ্বাস দিয়ে এ দুই যুবককে সৌদি আববে নেওয়ার পর কোনোটাই দেওয়া হয়নি। এতে প্রবাসে তারা মানবেতর জীবনযাবন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানান সোহাগ ও রহম প্রবাসী। তারা জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বটতলা কুল্লাপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকেন। ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সেদেশে যান এ দুইজন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, আশরাফুল সৌদি আরবে থেকেই তার বাবা বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে দেশ থেকে সে দেশে লোক নেওয়ার কাজ করেন। ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সৌদি আরবে যান সোহাগ ও মনিরসহ কয়েকজন। এ জন্য বিল্লাল হোসনের কাছে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা করে জমা দেন তারা। কথা ছিল সৌদি আরবে যাওয়ার পরই তাদের কাজে লাগানো হবে এবং আকামা দেওয়া হবে।  সোহাগকে গাড়ি ধোয়ার কাজ এবং মনিরকে ফুড ডেলিভারির (মোটরসাইকেলে করে ঘুরে খাবার সরবরাহ) কাজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন আশরাফুল। 

কিন্তু দেশটিতে যাওয়ার দুই মাস পার হলেও আশরাফুল তাদের কোনো কাজ দেননি। পরে তারা নিজেরাই যোগাযোগ করে কার্পেট ধোয়ার কাজ যোগাড় করেন। তবে ৯ মাসেও আকামা না দেওয়ায় তারা সেদেশে গোপনে বসবাস ও কাজ করে যাচ্ছেন। মোটা অংকের টাকা খরচ করে  আশরাফুলের মাধ্যমে সৌদিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন এ দুই যুবক। 

সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আকামা না থাকায় আমরা ভালো কাজ পাই না। কাজের সঠিক মূল্য পাই না। আমরা ঘর থেকে বের হয়ে কোথাও যেতে পারি না পুলিশের ভয়ে। বাজার করতে যেতে পারি না; এমনকি অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছেও যেতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী আকামা না থাকলে গ্রেপ্তার করে এক মাসের জেল দেয় পুলিশ। এক মাস জেলে থাকার পর দেশে পাঠিয়ে দেয়।’ 

রহমতউল্লাহ মনির বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যাওয়ার দুই মাস পর একটা কাজ দেন আশরাফুল। তবে আকামা না থাকায় আশরাফুল তার খালাতো ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। সেখানে আমি প্রথম মাসে বাংলাদেশের অর্থমূল্যে অন্তত এক লাখ টাকার কাজ করি। কিন্তু আশরাফুলের খালাতো ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলে আমাকে সেখান থেকে নামমাত্র টাকা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী দাবিদাররা বলেন, সোহাগ ও মনিরসহ আশরাফুলের মাধ্যমে সৌদিতে যাওয়া কয়েকজন প্রতারণার বিষয়টি নিজেদের অভিভাবকদের জানান। পরে গত মঙ্গলবার (৭ জুন) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে এ বিষয়ে একটি সালিসের আয়োজন করে স্থানীয়রা। তবে ওই সালিসে আসেননি আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সৌদি আরবে থাকা আশরাফুলের মোবাইলে ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আশরাফুল যাদের সৌদি আরবে নিয়েছে, তাদের এখনো কিছু টাকা বাকি আছে। এ  কারণে আকামা দিচ্ছে না আশরাফুল। টাকা পেলেই আকামা দিয়ে দেবে।’

সোহাগ ও মনিরের দাবি, তারা সৌদি আরবে যাওয়ার আগেই আশরাফুলের বাবা বিল্লালের কাছে চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা  দিয়েছেন। টাকা বাকি থাকার কথা সত্য নয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মাগুরা জেলা জামায়াতের আমিরকে অব্যাহতি

মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা জেলা জামায়াতের আমিরকে অব্যাহতি
অধ্যাপক মাওলানা এমবি বাকের। ছবি: সংগৃহীত

মাগুরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা এমবি বাকেরকে পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) জেলা জামায়াতের সূরা সদস্যদের এক সভা থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। 

জেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির অধ্যাপক মাওলানা সাইদ আহমেদ বাচ্চু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাংগঠনিক কোনো ত্রুটি হলে কেন্দ্রীয় কমিটি তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা নেন। তার ক্ষেত্রে সেটি ঘটেছে। তাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলা আমিরের পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাকে (সাইদ আহমেদ বাচ্চু) ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মাওলানা এমবি বাকের বলেন, অসুস্থতাজনিত চিকিৎসার প্রয়োজনে কেন্দ্রে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।