সন্তান সবচেয়ে নিরাপদ তার মায়ের কোলে। কিন্তু সেই মা-ই যখন জীবনের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, তখন শিশুর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে যায়। মা চেয়েছিলেন মেয়েকে নিয়ে মরতে। হয়তো ভেবেছিলেন, তিনি না থাকলে কে তার সন্তানকে দেখে রাখবে। তার চেয়ে মেয়েকে নিয়ে মরে যাওয়াই ভালো। কিন্তু আড়ালে হেসেছিলেন সৃষ্টিকর্তা।
৩৭ বছর বয়সী ইশা সাহু ৬ মাস বয়সী মেয়ে বাণীকে নিয়ে ছয়তলা ভবন থেকে লাফ দিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলেই ইশা মারা গেছেন। তবে অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে তার মেয়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাটিতে পড়ার আগে শিশুটি নিরাপত্তার জন্য দেওয়া বেড়ায় ধাক্কা খায়। সেই ধাক্কাই শিশুটিকে নিরাপদ রেখেছে। তাকে দ্রুত কাছের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ছোটখাটো আঘাত পেলেও শিশুটির বিপদ কেটে গেছে।
ভারতের হায়দরাবাদের মিয়াপুর এলাকার একটি ভবনে এই ঘটনা ঘটে। ইশা সাহু তার পরিবার নিয়ে কমপ্লেক্সের ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেলে ৩টা ৪৫ মিনিটে ইশা যখন তার কন্যাকে নিয়ে লাফ দেন, তখন পরিবারের অন্য সদস্যরা বাসাতেই ছিলেন। ১১ বছরের বিবাহিত জীবনে ইশা দুই কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। ৮ বছর বয়সী বড় মেয়ের নাম বিঁথি। মধ্যপ্রদেশ থেকে আসা ইশা এবং তার স্বামী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, ছোট মেয়ে বাণীর জন্মের পর থেকেই ইশা তীব্র অনিদ্রা, উদ্বেগ এবং প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এই ঘটনায় মিয়াপুর এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।




