• ই-পেপার

ব্রাজিলের জার্সিতে পড়শী, জানালেন শুভ কামনা

অভিনেত্রী ঝিলিককে ৮ তলা থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

বিনোদন প্রতিবেদক
অভিনেত্রী ঝিলিককে ৮ তলা থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর ধানমণ্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালের অষ্টম তলা থেকে পড়ে অভিনেত্রী আসমা ঝিলিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। 

পরিবারের অভিযোগ, এটি দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে ঘটনাটি ঘটে। আসমা ঝিলিক ছোট ও বড় পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পান। তিনি শাকিব খান অভিনীত ‘রংবাজ’ চলচ্চিত্রেও কাজ করেছিলেন।

BD Today | ধানমন্ডিতে ৮ তলা থেকে ফেলে ...

নিহতের ভাই মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমার বোনকে ওর স্বামী মেরে ফেলেছে। আমরা ধানমণ্ডি থানায় বোন হত্যার বিচার চেয়ে মামলা করেছি।’

তিনি দাবি করেন, চিকিৎসার জন্য ঝিলিক ও তার স্বামী হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সেখানে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে স্বামী তাকে অষ্টম তলা থেকে ফেলে দেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রাথমিক তদন্তে হত্যার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। 

ধানমণ্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে হত্যার কোনো প্রমাণ পাইনি। ময়নাতদন্ত হয়েছে। মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ তদন্তের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।

উল্লেখ্য, আসমা ঝিলিক কয়েক বছর আগে নিয়মিত অভিনয় করলেও পরবর্তীতে শোবিজ অঙ্গন থেকে দূরে সরে যান। পারিবারিক জীবনে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তিনি অভিনয় ছেড়েছিলেন বলে জানা গেছে।

গানে গানে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা, দেওয়া হলো সংবর্ধনা

বিনোদন প্রতিবেদক
গানে গানে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে শ্রদ্ধা, দেওয়া হলো সংবর্ধনা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করেছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। তার দীর্ঘ সংগীতজীবন, অসামান্য অবদান এবং কালজয়ী সৃষ্টিকে স্মরণ করে শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় ‘কালজয়ী কণ্ঠ : শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সৈয়দ আব্দুল হাদী’ শীর্ষক বিশেষ অনুষ্ঠান।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিল্পীর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘সবার অকুণ্ঠ প্রশংসায় তিনি যেমন আপ্লুত হয়েছেন, তেমনি কিছুটা বিব্রতও বোধ করেছেন।’ নিজের অর্জনের বিষয়ে বিনয় প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার মতো তেমন কিছু তার নেই।’

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘তাদের প্রজন্ম বড় হয়েছে সৈয়দ আব্দুল হাদীর গান শুনে। বিশেষ করে বাংলা চলচ্চিত্রের অসংখ্য জনপ্রিয় গানে তার কণ্ঠ ও পর্দার অভিনয়ের সমন্বয় দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে এবং বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান শৈশবের স্মৃতিচারণা করে বলেন, “বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ছায়াছন্দ’-এ নিয়মিতই সৈয়দ আব্দুল হাদীর গান শোনা যেত। তার মতে, সংগীতের জগতে সৈয়দ আব্দুল হাদী নিজেই একটি মানদণ্ডে পরিণত হয়েছেন।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। এ সময় আরো বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) আহ্বায়ক হেলাল খান, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন এবং একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

আয়োজনের শুরুতেই প্রদর্শন করা হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর দীর্ঘ সংগীতজীবন ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র। এরপর ভিডিও বার্তায় তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণা ও মূল্যায়ন করেন আবিদা সুলতানা, ফোয়াদ নাসের বাবু, মাকসুদ জামিল মিন্টু, মনির খান এবং রোমানা ইসলাম।

আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রায় দেড় ঘণ্টার বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান। বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীরা পরিবেশন করেন সৈয়দ আব্দুল হাদীর জনপ্রিয় একের পর এক গান। এর মধ্যে ছিল ‘বাংলাদেশের ছবি এঁকে দিও’, ‘তোমাদের সুখের এই নীড়’, ‘চোখ বুঝিলেই দুনিয়া আঁধার’, ‘আমার অর্থই একবার যদি কেউ ভালোবাসত’, ‘আমি তোমারই প্রেম ভিখারি’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘তুমি ছাড়া আমি একা’, ‘যেও না সাথি’ এবং ‘আউল বাউল লালনের দেশে’সহ তাঁর বহু কালজয়ী সৃষ্টি।

অনুষ্ঠানের শেষ মুহূর্তটি ছিল সবচেয়ে আবেগঘন। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় তাঁর বহুল জনপ্রিয় দুটি গান—‘আছেন আমার মোক্তার’ এবং ‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’। সেই সুরে পুরো মিলনায়তন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় মুখর হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য, সৈয়দ আব্দুল হাদী ১৯৪০ সালের ১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন। এ ছাড়া ২০০০ সালে তাঁকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

আর ডি বর্মণের বায়োপিকে ফারহান আখতার

বিনোদন ডেস্ক
আর ডি বর্মণের বায়োপিকে ফারহান আখতার
সংগৃহীত ছবি

ভারতীয় সংগীতের কিংবদন্তি সুরকার ও সংগীত পরিচালক রাহুল দেব বর্মণের জীবন এবার উঠে আসছে বড় পর্দায়। ‘আর ডি বর্মণ’ নামে পরিচিত এই কালজয়ী শিল্পীর জীবনীভিত্তিক সিনেমা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন পরিচালক নীরাজ পাণ্ডে। আর বহুল প্রতীক্ষিত এই প্রকল্পে আর ডি বর্মণের চরিত্রে অভিনয় করতে যাচ্ছেন বলিউড অভিনেতা, নির্মাতা ও সংগীতশিল্পী ফারহান আখতার।

‘এম এস ধোনি : দি আনটোল্ড স্টোরি’ নির্মাণের মাধ্যমে প্রশংসিত নীরাজ পাণ্ডে এবার ভারতীয় সংগীতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের জীবনগাথা তুলে ধরতে চান। 

নির্মাতাদের লক্ষ্য শুধু একজন সফল সুরকারের গল্প বলা নয়, বরং তার সৃষ্টিশীলতা, সংগীতচিন্তা এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রসংগীতে তার বৈপ্লবিক অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, চরিত্রটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেবেন ফারহান আখতার। আর ডি বর্মণের হাঁটার ভঙ্গি, কথা বলার ধরণ, মঞ্চে উপস্থিতির স্বকীয়তা এবং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের কৌশল রপ্ত করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন তিনি। প্রয়োজন হলে চরিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে নিজের শারীরিক গঠনেও পরিবর্তন আনবেন এই অভিনেতা।

সিনেমাটির সংগীত নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা। ইতোমধ্যে আর ডি বর্মণের একাধিক জনপ্রিয় গানের স্বত্ব সংগ্রহ করা হয়েছে। গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব গান নতুনভাবে উপস্থাপনের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এই বায়োপিকে শুধু তাঁর সংগীতজীবনের সাফল্যই নয়, ব্যক্তিগত জীবনের নানা অজানা অধ্যায়ও তুলে ধরা হবে। প্রেম, সংগ্রাম, একাকিত্ব, সৃষ্টিশীলতার উত্থান-পতন এবং ভারতীয় সংগীতে তাঁর যুগান্তকারী অবদানের নানা দিক সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠবে।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চলতি বছরের শেষ দিকেই ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে এই প্রকল্পের পাশাপাশি ফারহান আখতার আরও একটি আন্তর্জাতিক বায়োপিকে যুক্ত হয়েছেন। অস্কারজয়ী পরিচালক স্যাম মেন্ডিস নির্মিত ‘দ্য বিটলস’–ভিত্তিক চলচ্চিত্রে তিনি কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করের চরিত্রে অভিনয় করবেন।

আদালতে সালমান খান

বিনোদন ডেস্ক
আদালতে সালমান খান
সংগৃহীত ছবি

১৯৯৮ সালের বহুল আলোচিত কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে নির্মিতব্য ‘কালা হিরন : দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’ সিনেমা নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নেমেছেন বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। নিজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে সিনেমাটির প্রদর্শন ও প্রচারণার ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১২ জুন) সালমানের আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি নীনা বানসাল কৃষ্ণার বেঞ্চ সিনেমাটির প্রযোজক অমিত জানি, অক্ষয় পান্ডেসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ জারি করেন। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৯ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আদালতে সালমান খানের পক্ষে আইনজীবী দয়ান কৃষ্ণান যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ছবিটি অভিনেতার পুরনো কৃষ্ণসার হরিণ শিকার মামলাকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে এটি দিল্লি হাইকোর্টের আগের একটি নির্দেশনার পরিপন্থী, যেখানে সালমানের ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।

মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, ‘কালা হিরন : দ্য ব্যাটেল ফর লেগাসি’-এর টিজারে এমনভাবে একটি চরিত্র উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সরাসরি সালমান খানকে ইঙ্গিত করে। বিশেষ করে চরিত্রটির চেহারা ও উপস্থাপনায় অভিনেতার সঙ্গে মিল রয়েছে।

সালমানের পক্ষ থেকে আদালতে আরো বলা হয়, ‘পর্দায় ফুটিয়ে তোলা চরিত্রের সঙ্গে বাদীর (সালমান খান) সাদৃশ্য রয়েছে। তাঁকে স্পষ্টভাবে একটি নীল ব্রেসলেট পরা অবস্থায় দেখা যাচ্ছে, যা সালমানের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।’

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, অস্ত্র আইনের মামলায় সালমান খান ইতিমধ্যে আদালত থেকে খালাস পেয়েছেন। এরপরও এই ধরনের উপস্থাপনা সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৪ এপ্রিল সিনেমাটির প্রযোজকদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই নোটিশের পরও ছবিটির প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিনেতা।

অন্যদিকে শুনানির সময় প্রযোজক পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, গত শুক্রবার সিনেমাটির টিজার প্রকাশ করা হয়েছে, তবে এখনো ছবির মুক্তির তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। 

তাঁর দাবি, শুধু একটি টিজার প্রকাশের ভিত্তিতেই সিনেমার মুক্তি ও প্রচারণা বন্ধের আবেদন জানিয়েছেন সালমান খানের আইনজীবীরা।

এখন ১৯ জুনের শুনানিতে আদালত এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকেই নজর থাকবে বলিউড মহলের।