• ই-পেপার

চট্টগ্রামের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

ময়মনসিংহে ৪ দিন পর ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহে ৪ দিন পর ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের নান্দাইলে খারুয়া বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে জারি করা ১৪৪ ধারা চারদিন পর প্রত্যাহার করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) বিকেল ৪টার দিকে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। 

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বিষয়টি নিশ্চিত করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, এর আগে গত ৪ জুন মাত্র ২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে উপজেলার খারুয়া ইউনিয়নের নরেন্দ্রপুর গ্রামের শওকত আলী ও খারুয়া গ্রামের আব্দুর রউফ ভুইয়ার মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, দোকান ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট শুরু হয়। খবর পেয়ে থানা-পুলিশ ও র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বাজার ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন নান্দাইল উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত।

আরো পড়ুন
সুনামগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহনন, শ্বশুর গ্রেপ্তার

সুনামগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহনন, শ্বশুর গ্রেপ্তার

 

সংঘর্ষের ঘটনায় নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ বাদী হয়ে ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা চার-পাঁচশত লোককে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের আশংকায় অনেকেই গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। 

নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম জানান, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের পরও এলাকাটি নজরদারীতে থাকবে।

ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির লাশ বাড়িতে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত ২ বাংলাদেশির লাশ বাড়িতে

গত ১১ মে লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম ও নাহিদুল ইসলাম নাহিদের লাশ দেশে ফিরেছে। রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে এবং সকাল ১১টায় আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামে মরদেহ দুটি পৌঁছালে দুই বাড়িতে নেমে আসে শোকের মাতম।

নিহত শফিকুল ইসলাম (৪৮) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামের আফসার আলীর ছেলে এবং নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২০) আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।

শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন জানান, মৃত্যুর খবর জানার পর স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তারই প্রেক্ষিতে রোববার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে মরদেহটি লেবানন থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। রাত আড়াইটার দিকে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আরো পড়ুন

ফায়ার সার্ভিসের সুনাম বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান

ফায়ার সার্ভিসের সুনাম বৃদ্ধিতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান

 

পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শফিকুল ইসলামের মরদেহ বাড়িতে আনা হয়। বাদ জোহর স্থানীয় মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

অন্যদিকে নাহিদুল ইসলামের স্বজন নাফিজ জানান, শফিকুল ইসলামের সঙ্গে একই দিনে লেবাননে গিয়েছিলেন নাহিদ। একই ড্রোন হামলায় দুজনই নিহত হন। নাহিদের মরদেহও একই সময়ে দেশে আনা হয় এবং সকাল ১১টায় তার বাড়িতে পৌঁছায়। বাদ জোহর জানাজা শেষে তাকেও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

মরদেহ দুটি বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশীরাও শোকাহত হয়ে ভিড় করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু, ভালুকা চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু ওয়াহিদ বাবলু এবং স্বজনরা জানান, উন্নত জীবনের আশায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি শফিকুল ও নাহিদ লেবাননে যান। সেখানে গিয়ে তারা পরিবারে একবারই ৪০ হাজার টাকা করে পাঠিয়েছিলেন। ১১ মে ড্রোন হামলায় তাদের মৃত্যু হয়।

তারা আরো জানান, দুই পরিবারেরই একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের মৃত্যুতে পরিবার দুটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। প্রসঙ্গত, শফিকুল ইসলাম আট লাখের বেশি টাকা এবং নাহিদুল ইসলাম পাঁচ লাখের বেশি টাকা ঋণ করে লেবাননে গিয়েছিলেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার থলিয়ারা গ্রামে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ২০ আহত হয়েছে। এ সময় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকটি বাড়ি-ঘর ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে বিকেল নাগাদ এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের মিন্দার আলী (ছোট গোষ্ঠী) গোষ্ঠীর জুবায়েরের সঙ্গে বাদৈর বাড়ি (বড় গোষ্ঠির) জয়নাল মিয়ার একটি দোকানের জায়গা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। দোকানটি ছোট গোষ্ঠীর শিরু মিয়া পরিচালনা করে আসছিলেন। গ্রাম্য সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের জন্য সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই জের ধরে রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ২০ জনের মতো আহত হন। পুলিশ আসার পর তাদের ওপরও আক্রমণের চেষ্টা করা হয়। আহতদের কয়েকজন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

সদর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। কোনো পক্ষের অভিযোগ পেলে সে অনুযায়ি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুনামগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহনন, শ্বশুর গ্রেপ্তার

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জে গৃহবধূর আত্মহনন, শ্বশুর গ্রেপ্তার
রিক্তামণি। ছবি সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে রিক্তামণি (১৯) নামের এক গৃহবধূর আত্মহননের ঘটনায় তার শ্বশুর আব্দুল মন্নাফকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৭ জুন) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ৫ জুন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিক্তামণির মৃত্যু হয়। মৃত রিক্তামণি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে। 

মৃত রিক্তামণির পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মাত্র আড়াই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ছেলে সোহাগ মিয়ার (২৩) সঙ্গে রিক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিলেন সোহাগ। মোটরসাইকেল কেনার জন্য রিক্তার মা হোসনা খাতুন সোহাগকে ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে নেওয়া সেই টাকা মাদক সেবনেই উড়িয়ে দেন সোহাগ। সম্প্রতি তিনি আবারও টাকার জন্য রিক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় রিক্তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এই ক্ষোভ ও অপমান সইতে না পেরে গত ৪ জুন রিক্তা বিষপান করেন।

মৃত রিক্তার প্রতিবেশী জুলহাস মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, সোহাগ একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই রিক্তাকে মারধর করতেন। আত্মহননের ২ থেকে ৩ দিন আগেও যৌতুকের টাকার জন্য রিক্তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

আরো পড়ুন
নাটোরে আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

নাটোরে আ. লীগের ২ নেতা গ্রেপ্তার

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত রিক্তার মা হোসনা খাতুন বলেন, ‘দাবি অনুযায়ী যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে বিষ খেয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ড সমতুল্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ছেলের বাবা আব্দুল মন্নাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সোহাগসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। 

ময়নাতদন্ত শেষে রিক্তামণির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি।