সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে রিক্তামণি (১৯) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনায় তার শ্বশুর আব্দুল মন্নাফকে গ্রেপ্তার করেছে। শনিবার (৭ জুন) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ৫ জুন তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিক্তামণির মৃত্যু হয়। মৃত রিক্তামণি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বংশীকুণ্ডা উত্তর ইউনিয়নের সাউদপাড়া গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে।
মৃত রিক্তামণির পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা যায়, মাত্র আড়াই মাস আগে পারিবারিকভাবে তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের কলাগাঁও গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ছেলে সোহাগ মিয়ার (২৩) সঙ্গে রিক্তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক হিসেবে মোটরসাইকেল দাবি করে আসছিলেন সোহাগ। মোটরসাইকেল কেনার জন্য রিক্তার মা হোসনা খাতুন সোহাগকে ৫০ হাজার টাকা দেন। তবে শ্বশুরবাড়ি থেকে নেওয়া সেই টাকা মাদক সেবনেই উড়িয়ে দেন সোহাগ। সম্প্রতি তিনি আবারো টাকার জন্য রিক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। এতে অপারগতা প্রকাশ করায় রিক্তার ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। এই ক্ষোভ ও অপমান সইতে না পেরে গত ৪ জুন রিক্তা বিষপান করেন।
মৃত রিক্তার প্রতিবেশী জুলহাস মিয়াসহ স্থানীয়রা জানান, সোহাগ একজন মাদকাসক্ত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তিনি প্রায়ই রিক্তাকে মারধর করতেন। আত্মহত্যার ২ থেকে ৩ দিন আগেও যৌতুকের টাকার জন্য রিক্তাকে প্রচণ্ড মারধর করা হয়। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোহাগের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত রিক্তার মা হোসনা খাতুন বলেন, দাবি অনুযায়ী যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় আমার মেয়ের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। এই অপমান সইতে না পেরে আমার মেয়ে বিষ খেয়েছে। আমি এই হত্যাকাণ্ড সমতুল্য ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত ছেলের বাবা আব্দুল মন্নাফকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সোহাগসহ বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ময়নাতদন্ত শেষে রিক্তামণির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ওসি।




