• ই-পেপার

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গুপ্তবাহিনী মব সৃষ্টি করে : কামরুল হুদা

ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগে সন্দ্বীপে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার

সন্দ্বীপ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
ছাত্র বলাৎকারের অভিযোগে সন্দ্বীপে মাদরাসা শিক্ষক গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার সারিকাইত বাংলাবাজার এলাকায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আল-আমিন। সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, ওই শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, আল-আমিন সংশ্লিষ্ট মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দ্বীপ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক বর্তমানে থানা হাজতে রয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতার কাঁটাতারে প্রবাসীর বাড়ি ঘেরাও

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতার কাঁটাতারে প্রবাসীর বাড়ি ঘেরাও
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত নেতা এবাদ উল্যা গাজীর বিরুদ্ধে এক ইতালি প্রবাসীর বাড়ি দখলে নিতে চারপাশে জোরপূর্বক কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (৬ জুন) ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী মামুন মিজির স্ত্রী রোজিনা বেগম রায়পুর থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরবংশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত এবাদ উল্যা উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী খাসের হাট এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন শাকিল কবিরাজ, রাছেল হোসেন ছোটন ছৈয়াল, রায়হান গাজী, ইসমাইল বেপারী, ইয়ামিন দেওয়ান ও অজ্ঞাত ১২ জন। শাকিল উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া বাজার এলাকার মৃত জয়নাল কবিরাজের ছেলে ও অন্যরা চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্র জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে ইতালি প্রবাসী মামুন ঘটনাস্থলে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। সম্প্রতি ওই বাড়ি দখলের জন্য এবাদ উল্যা ও শাকিল পাঁয়তারা করে আসছে। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে বাড়ির টিনের বেড়ার চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়ে দেয়। এতে প্রবাসী পরিবার বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গেলে পরিবারের লোকজনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করে বাদী। এর আগেও গত ডিসেম্বর মাসে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হয়। তখন রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে প্রবাসী পরিবার।

ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম বলেন, শাকিল ও এবাদ আমাদের বাড়ি ঘর দখলে নিতে চারপাশে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। জমি নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে তাদেরকে বৈঠকে বসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা না বলে বারবার আমার বাড়ি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। দুইদিন ধরে আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আছি। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাচ্ছি।

সাবেক বিএনপি নেতা এবাদ উল্যা গাজী বলেন, শাকিল কবিরাজ লোকজন এনে ওই বাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। জমির বিরোধ নিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়েছে। তখন আমি সালিশি বৈঠকের একজন ছিলাম। সালিশদার হিসেবে ঘটনার দিন আমাকে ডেকেছে, এজন্য আমি সেখানে গিয়েছি। আমি কিছু করিনি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে শাকিল কবিরাজের মোবাইলফোনে কল দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে কল করার কথা বলে কেটে দেন তিনি।

রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল।

কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসে থাকতে দেখতে পান। এসময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

এদিকে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ তিনজন আহত হন। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল জানান, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পল্লী চিকিৎসক আটক

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পল্লী চিকিৎসক আটক
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে আত্তাব হোসেন (৬০) নামে এক পল্লী চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে আটক করে। অভিযুক্ত আত্তাব হোসেন উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা। 

স্থানীয়রা বলছেন, শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তৃতীয় শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী তার দাদির জন্য ওষুধ আনতে চিকিৎসক আত্তাবের দোকানে যায়। এসময় কেউ না থাকার সুযোগে চিকিৎসক মেয়েটি ঘরের ভেতর নিয়ে ধর্ষণ করে। 

এ ঘটনা জানাজানির পর স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে আটকে রাখে। এসময় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। একই সঙ্গে ভিকটিমকে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর ভিকটিম ও তার পরিবার বলছে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। মেয়েটি বাড়ি ফেরার পর তার আচরণ দেখে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে।

কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।