• ই-পেপার

কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে পল্লী চিকিৎসক আটক

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গুপ্তবাহিনী মব সৃষ্টি করে : কামরুল হুদা

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গুপ্তবাহিনী মব সৃষ্টি করে : কামরুল হুদা
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সভাপতি মো. কামরুল হুদা বলেছেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে গুপ্তবাহিনী মব সৃষ্টি করে চলেছে। এ গুপ্তবাহিনী যে ভাষায় স্লোগান দেয়, মিছিল করে, ছাত্রদলকে তা প্রতিহত করতে হবে। গুপ্ত বাহিনী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করছে। 

শনিবার (৬ জুন) বিকেলে জিয়াউর রহমান বীর উত্তম হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চৌদ্দগ্রাম উপজেলা এবং পৌরসভার ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রদলকে সুসংগঠিত ও গতিশীল করতে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, গুপ্ত শক্তি ও কিছু চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা। এ দেশের সফলতা তাদের সহ্য হয় না।

তিনি আরো দাবি করেন- গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ সকল অঙ্গ সংগঠন ঐক্যবদ্ধ থাকলে এসব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবে।

কামরুল হুদা বলেন, অতীতে আমাদের অনেক নেতাকর্মীদের ওপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার চালিয়েছেন। আমাদের কোনো নেতাকর্মীর ওপর অন্যায়ভাবে হামলা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আবুল হাসনাত মিঞা মো. জুবায়েরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, তোফায়েল হোসেন জুয়েল, উপজেলা ছাত্র দলের সভাপতি ফখরুল হাসান, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা ছাত্র দলের সভাপতি শাহরিয়ার জাকির বাঁধন, উপজেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক আবির আবদুল্লাহ চৌধুরী, পৌরসভা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের রায়হান। 

বিএনপির বহিষ্কৃত নেতার কাঁটাতারে প্রবাসীর বাড়ি ঘেরাও

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
বিএনপির বহিষ্কৃত নেতার কাঁটাতারে প্রবাসীর বাড়ি ঘেরাও
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কৃত নেতা এবাদ উল্যা গাজীর বিরুদ্ধে এক ইতালি প্রবাসীর বাড়ি দখলে নিতে চারপাশে জোরপূর্বক কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার (৬ জুন) ভুক্তভোগী ইতালি প্রবাসী মামুন মিজির স্ত্রী রোজিনা বেগম রায়পুর থানায় ১৮ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

এর আগে শুক্রবার সকালে উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড চরবংশী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত এবাদ উল্যা উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরবংশী খাসের হাট এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন শাকিল কবিরাজ, রাছেল হোসেন ছোটন ছৈয়াল, রায়হান গাজী, ইসমাইল বেপারী, ইয়ামিন দেওয়ান ও অজ্ঞাত ১২ জন। শাকিল উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের রাখালিয়া বাজার এলাকার মৃত জয়নাল কবিরাজের ছেলে ও অন্যরা চরবংশী গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযোগ সূত্র জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে ইতালি প্রবাসী মামুন ঘটনাস্থলে জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। সম্প্রতি ওই বাড়ি দখলের জন্য এবাদ উল্যা ও শাকিল পাঁয়তারা করে আসছে। ঘটনার দিন অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে বাড়ির টিনের বেড়ার চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়ে দেয়। এতে প্রবাসী পরিবার বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করতে গেলে পরিবারের লোকজনকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করে বাদী। এর আগেও গত ডিসেম্বর মাসে বাড়িটি দখলের চেষ্টা করা হয়। তখন রায়পুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে প্রবাসী পরিবার।

ভুক্তভোগী রোজিনা বেগম বলেন, শাকিল ও এবাদ আমাদের বাড়ি ঘর দখলে নিতে চারপাশে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে রেখেছে। জমি নিয়ে কোন সমস্যা থাকলে তাদেরকে বৈঠকে বসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা না বলে বারবার আমার বাড়ি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করছে। দুইদিন ধরে আমরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে আছি। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাচ্ছি।

সাবেক বিএনপি নেতা এবাদ উল্যা গাজী বলেন, শাকিল কবিরাজ লোকজন এনে ওই বাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। জমির বিরোধ নিয়ে উভয়পক্ষকে নিয়ে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হয়েছে। তখন আমি সালিশি বৈঠকের একজন ছিলাম। সালিশদার হিসেবে ঘটনার দিন আমাকে ডেকেছে, এজন্য আমি সেখানে গিয়েছি। আমি কিছু করিনি।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে শাকিল কবিরাজের মোবাইলফোনে কল দিলে ব্যস্ততা দেখিয়ে পরে কল করার কথা বলে কেটে দেন তিনি।

রায়পুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মান্নান বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নোয়াখালীতে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে আ. লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ : পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ, আহত ৬

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়। সংঘর্ষে নোয়াখালী শহর শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হৃদয়সহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম শুল্লুকিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধেরহাট এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এর প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেলের নেতৃত্বে সেখানে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে ছাত্রদল।

কর্মসূচি শেষে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ফেরার পথে কালাদরাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমকে তার বাড়ির পাশের একটি দোকানে বসে থাকতে দেখতে পান। এসময় চেয়ারম্যানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।

এদিকে মসজিদের মাইকে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘোষণা দেওয়া হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় এবং ছাত্রদলের একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকদল নেতা হৃদয়সহ তিনজন আহত হন। পরবর্তীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা একত্রিত হয়ে শাহাদাত হোসেন সেলিমের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এন বি এস রাসেল জানান, চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে ছাত্রলীগের লোকজন মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিল। খবর পেয়ে ওয়ার্ড ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে আমরা বাঁধেরহাটের কর্মসূচি শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে নেতা-কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে আনি। হামলায় আমাদের তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে সুধারাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

তারেক রহমানের চকরিয়া সফর ঘিরে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি

জনসভায় ৩ লাখ মানুষের সমাগমের আশা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার
তারেক রহমানের চকরিয়া সফর ঘিরে বিএনপির ব্যাপক প্রস্তুতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

আগামী ১৪ জুন চকরিয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চকরিয়া পৌরসভা বিএনপি। ওই দিন বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল মাঠে অনুষ্ঠিতব্য জনসভাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জনসভাকে সফল করতে ইতোমধ্যে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

সম্ভাব্য সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১১টায় ডুলহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও পার্ক পরিদর্শন করবেন। পরে পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসীমের কবর জিয়ারত, পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এরপর চকরিয়ায় এসে মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন করবেন। বিকেল ৪টায় চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম জানান, জনসভায় চকরিয়া পৌরসভা এলাকা থেকে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৫০ হাজারের বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেবেন। এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে আগত প্রায় ৩ লাখ মানুষের সমাগম ঘটতে পারে বলে তারা আশা করছেন।

জনসভা সফল করার লক্ষ্যে শনিবার (৬ জুন) চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ প্রাঙ্গণে চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির উদ্যোগে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৌর বিএনপি, ওয়ার্ড বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় নেতারা জনসভা সফল করতে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং আগত মানুষের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বিএনপি নেতাদের প্রত্যাশা, ১৪ জুনের জনসভা চকরিয়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সমাবেশে পরিণত হবে এবং এতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা উঠে আসবে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরসূচি এখনো সম্ভাব্য পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এতে পরিবর্তন আসতে পারে।