• ই-পেপার

দোহারে দোকান থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটা, আটক ২

ভৈরব রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্ম দখল নিয়ে সংঘর্ষ, ৮ পুলিশসহ আহত ৩০

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
ভৈরব রেলস্টেশনে প্ল্যাটফর্ম দখল নিয়ে সংঘর্ষ, ৮ পুলিশসহ আহত ৩০
ছবি: কালের কণ্ঠ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম দখল করে ২ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ প্রায় ৫ ঘণ্টা যাবৎ চলছে। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট-কিশোরগঞ্জ রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে। সংঘর্ষের জেরে বিভিন্ন স্টেশন ও আউটারে ৫টি আন্তঃনগর ট্রেন আটকে আছে। এ সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষ থামাতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, রেলপুলিশ ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় শতাধিক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ঘটনাসূত্রে জানা যায়, ১৪-১৫ দিন আগে পৌর এলাকার পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুরের বালক ও যুবকদের মাঝে একটি ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ফুটবল খেলায় ২ গ্রামবাসীর ছেলেদের মাঝে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে ঝগড়া হয়। এই ঝগড়ার জের ধরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথপুরের সোহেল মিয়ার ছেলে লিয়ামকে (১৭) পঞ্চবটীর ছেলেরা হামলা করে আহত করে। আহত করার খবর জগন্নাথপুর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে ভৈরব রেলস্টেশনে ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম দখল করে ২ গ্রামবাসী ঝগড়ায় লিপ্ত হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে রেলপুলিশ, পরে ভৈরব থানা পুলিশ, ভৈরব র‍্যাব ক্যাম্প, ভৈরব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও সর্বশেষ সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ২ দলের সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কমপক্ষে ৬-৭ বার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়।

এসময় ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট ও কিশোরগঞ্জের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে কমপক্ষে ৫টি ট্রেন আটকে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর গোধূলি, সিলেট থেকে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কিশোরগঞ্জগামী এগারোসিন্ধুর গোধূলি, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী মহানগর এক্সপ্রেস, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ভৈরবগামী নরসিংদী কমিউটার- এ ৫টি ট্রেন রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আটকে থাকার খবর পাওয়া যায়। 

এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে দেখা যায়। সংঘর্ষের সময় ভৈরব রেলস্টেশনে শত শত যাত্রীরা দৌড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ জানান, আমরা চেষ্টা করছি সংঘর্ষ থামাতে।

ভৈরবের ইউএনও এ কে এম মামুনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে জানান, আমরা ধৈর্য ধারণ করে যাত্রী ও যানমালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আগাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ও সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করছি।

ভৈরবে খেলা নিয়ে সংঘর্ষ

ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ
সংগৃহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় খেলাধুলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম ও সিলেটের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত সোয়া নয়টার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন কাজ করছে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভৈরব স্টেশন এলাকায় খেলা নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সহিংসতা এড়াতে ও যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ভৈরব স্টেশনে কোনো ট্রেন প্রবেশ করতে দিচ্ছে না রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমান কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রেলওয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, আমরা ভৈরব স্টেশনে এই মুহূর্তে কোনো ট্রেন নিচ্ছি না। স্টেশনের দুই পাশের আউটসাইডে ট্রেনগুলো আটকে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই আবার ট্রেন চলাচল শুরু হবে।

হঠাৎ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটের বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত নিম্নোক্ত ট্রেনগুলো বিভিন্ন স্টেশনে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছে।

মহানগর গোধূলি (৭০৩) :  রাত ৯টা ১৫ মিনিট থেকে ভৈরব স্টেশনের আউটসাইডে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।

পারাবত এক্সপ্রেস (৭১০) : রাত ৯টা ৩৩ মিনিট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশনে অবস্থান করছে।

এগারোসিন্ধুর গোধূলি (৭৪৯) : রাত ৯টা ২২ মিনিট থেকে নরসিংদীর দৌলতকান্দি স্টেশনে আটকে আছে।

নরসিংদী কমিউটার : রাত ৯টা ৩৮ মিনিট থেকে খানাবাড়ী স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে।

কন্টেইনার ট্রেন (৬০)৬ : রাত ৯টা ৩৫ মিনিট থেকে মেথিকান্দা স্টেশনে আটকা পড়ে আছে।

নোয়াখালীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর কবিরহাট বাজার এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রতন দেবনাথ (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার হাসপাতাল রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রতন দেবনাথ উপজেলার চাপরাশীরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বরপুর গ্রামের মনোরঞ্জন দেবনাথের ছেলে। তিনি পেশায় পান দোকানদার ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রতন দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার স্ত্রী মনিকা রানী দেবনাথ কবিরহাট বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়া হিসেবে কর্মরত। হাসপাতালের পাশেই পরিবারের সহযোগিতায় তিনি পান দোকান পরিচালনা করতেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে হাসপাতালের উত্তর পাশে রতন দেবনাথকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী। পরে তাকে উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি হাসপাতাল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে ওই ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করেন। পরে ১টা ৯ মিনিটের দিকে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে পড়ে গেছেন অথবা ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার (৫ জুন) সকালে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আইভীকে দেখতে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের কর্মচারী চাকরিচ্যুত

অনলাইন ডেস্ক
আইভীকে দেখতে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের কর্মচারী চাকরিচ্যুত

জেল থেকে জামিনে কারামুক্ত হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে তার বাসায় দেখতে যাওয়ার পর টরিক আহমেদ নামের সিটি করপোরেশনের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। টরিক আহমেদ আইভীর পাশের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি নিজেই এ অভিযোগ করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন তাকে ডেকে নিয়ে সাবেক মেয়র আইভীর বাসায় যাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এরপর তিনি চাকরি থেকে ছাঁটাই হন।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান চাকরিচ্যুত করার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আইভীর সঙ্গে দেখা করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

টরিক আহমেদ জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পিয়নের কাজ করতেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন তাকে ডেকে নিয়ে বলেন, টরিক বুধবার রাতে সাবেক মেয়র আইভীর বাসায় গিয়েছিল। তার ছবি ফেসবুকে এসেছে। বিষয়টি অস্বীকার না করে টরিক জানান, প্রতিবেশী হওয়ায় ও দীর্ঘদিন পর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায় তিনি আইভীকে দেখতে গিয়েছিলেন।

টরিক আহমেদের দাবি, প্রশাসক তাকে আইভীর কাছ থেকে বেতন নিতে বলে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেন।

প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, টরিক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাজ করে একটি ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চাকরি করেন। সিটি করপোরেশনে হাজিরা দিয়ে তিনি চলে যান। এ অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সাবেক মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, জামিনে মুক্তি পেয়ে গতকাল বুধবার রাতে বাড়িতে যান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর আত্মীয়-স্বজন আর শুভানুধ্যায়ীরা একে একে দেখা করতে যাচ্ছেন তার সঙ্গে। অনেকেই ফোনে কথা বলছেন।