• ই-পেপার

ভৈরবে খেলা নিয়ে সংঘর্ষ

ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম-সিলেটের ট্রেন চলাচল বন্ধ

দোহারে দোকান থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটা, আটক ২

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
দোহারে দোকান থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাতুড়িপেটা, আটক ২
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দোহারে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে উপজেলার জয়পাড়া বাজারের কলেজ মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, খোকন নামের এক ব্যবসায়ী দোকানে বসে কাজ করছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে সামীর হোসেন (২২) ও জিহাদ হোসেন নামের দুই যুবক দোকানে প্রবেশ করে তাকে বাইরে যেতে বলে। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাকে টেনে-হিঁচড়ে দোকানের বাইরে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মারধর করা হয়।

ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বানাঘাটা এলাকা থেকে সামীর হোসেন ও জিহাদ হোসেনকে আটক করে।

আহত ব্যবসায়ী খোকনকে উদ্ধার করে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে পূর্ব শত্রুতার জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।’

এদিকে স্থানীয়রা প্রকাশ্যে সংঘটিত এ ধরনের হামলার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

নোয়াখালীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

নোয়াখালী প্রতিনিধি
নোয়াখালীতে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর কবিরহাট বাজার এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে রতন দেবনাথ (৫২) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার কবিরহাট পৌরসভার হাসপাতাল রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে সন্ধ্যায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত রতন দেবনাথ উপজেলার চাপরাশীরহাট ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামেশ্বরপুর গ্রামের মনোরঞ্জন দেবনাথের ছেলে। তিনি পেশায় পান দোকানদার ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রতন দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার স্ত্রী মনিকা রানী দেবনাথ কবিরহাট বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আয়া হিসেবে কর্মরত। হাসপাতালের পাশেই পরিবারের সহযোগিতায় তিনি পান দোকান পরিচালনা করতেন।

দুপুর সোয়া ১টার দিকে হাসপাতালের উত্তর পাশে রতন দেবনাথকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তার স্ত্রী। পরে তাকে উদ্ধার করে কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, তিনি হাসপাতাল ভবনের ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেলে খবর পেয়ে সন্ধ্যায় পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দুপুর ১২টা ৫৯ মিনিটে ওই ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করেন। পরে ১টা ৯ মিনিটের দিকে তাকে নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে পড়ে গেছেন অথবা ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার (৫ জুন) সকালে নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

আইভীকে দেখতে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের কর্মচারী চাকরিচ্যুত

অনলাইন ডেস্ক
আইভীকে দেখতে যাওয়ার পর সিটি করপোরেশনের কর্মচারী চাকরিচ্যুত

জেল থেকে জামিনে কারামুক্ত হওয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীকে তার বাসায় দেখতে যাওয়ার পর টরিক আহমেদ নামের সিটি করপোরেশনের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। টরিক আহমেদ আইভীর পাশের বাড়ির বাসিন্দা। তিনি নিজেই এ অভিযোগ করেছেন।

তিনি দাবি করেছেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন তাকে ডেকে নিয়ে সাবেক মেয়র আইভীর বাসায় যাওয়ার বিষয় নিয়ে কথা বলেন। এরপর তিনি চাকরি থেকে ছাঁটাই হন।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান চাকরিচ্যুত করার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আইভীর সঙ্গে দেখা করার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

টরিক আহমেদ জানান, তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে পিয়নের কাজ করতেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন তাকে ডেকে নিয়ে বলেন, টরিক বুধবার রাতে সাবেক মেয়র আইভীর বাসায় গিয়েছিল। তার ছবি ফেসবুকে এসেছে। বিষয়টি অস্বীকার না করে টরিক জানান, প্রতিবেশী হওয়ায় ও দীর্ঘদিন পর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ায় তিনি আইভীকে দেখতে গিয়েছিলেন।

টরিক আহমেদের দাবি, প্রশাসক তাকে আইভীর কাছ থেকে বেতন নিতে বলে চাকরি থেকে ছাঁটাই করেন।

প্রশাসক শাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, টরিক নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাজ করে একটি ব্যাংকের এজেন্ট শাখায় চাকরি করেন। সিটি করপোরেশনে হাজিরা দিয়ে তিনি চলে যান। এ অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। সাবেক মেয়র আইভীর সঙ্গে দেখা করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।

উল্লেখ্য, জামিনে মুক্তি পেয়ে গতকাল বুধবার রাতে বাড়িতে যান সেলিনা হায়াৎ আইভী। এরপর আত্মীয়-স্বজন আর শুভানুধ্যায়ীরা একে একে দেখা করতে যাচ্ছেন তার সঙ্গে। অনেকেই ফোনে কথা বলছেন।

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে রিকশাচালকের মৃত্যু

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে রিকশাচালকের মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহ সদরে সাত বছরের এক শিশুকে মিষ্টি দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে বিল্লাল হোসেন (৪০) নামের এক রিকশাচালকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার চরখাজুর গ্রামের আবাসন প্রকল্পে ধর্ষণ চেষ্টার এ ঘটনা ঘটে। পরে তাকে আটকে গণপিটুনি দেয় স্থানীয়রা।

নিহত বিল্লাল মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার দেউনি গ্রামের বরকত আলীর ছেলে। তিনি ঝিনাইদহ শহরের রিকশা চালাতেন এবং চরখাজুরা আবাসনে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে মিষ্টি দেওয়ার প্রলোভনে আবাসনের সাত বছরের এক শিশুকে নিজের ঘরে নিয়ে যায় অভিযুক্ত বিল্লাল। পরে তার ঘর থেকে শিশুটির চিৎকারের শব্দ শুনে স্থানীয়রা গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। 

এসময় উত্তেজিত জনতা বিল্লালকে গণপিটুনি দেয়। পরে খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে পুলিশ। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) মো. আসাদউজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিকেলে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বিল্লাল হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘বিকেল ওই ব্যক্তিকে আবাসন ও আশেপাশের উত্তেজিত লোকজন গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। পরে খবর পেয়ে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে মারা যান তিনি। মরাদেহ হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’