• ই-পেপার

চাঁদপুরে দুই প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

চট্টগ্রাম

মানুষের চাপে ত্রাণ বিতরণের মঞ্চ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
মানুষের চাপে ত্রাণ বিতরণের মঞ্চ ভেঙে পড়ে গেলেন অর্থমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে ত্রাণ বিতরণের সময় মঞ্চ ভেঙে পড়ে ১০ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। তবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং কয়েকজন সংসদ সদস্য নিচে পড়ে গেলেও কেউ গুরুতর আহত হননি বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের সময় অতিরিক্ত মানুষের চাপে মঞ্চ ভেঙে পড়ে। পরে অর্থমন্ত্রী পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে সাতকানিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অর্থমন্ত্রী ত্রাণ বিতরণের সময় হঠাৎ মঞ্চটি ভেঙে পড়ে যায়। এতে মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ মঞ্চে অবস্থানরত সবাই নিচে পড়ে গেলেও তারা কেউ গুরুতর আহত হননি। মন্ত্রীর চলে যাওয়ার পর ত্রাণ গ্রহণকে কেন্দ্র করে উপস্থিত মানুষের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এসময় ১০ থেকে ১২ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে দোহাজারী হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান জানান, ত্রাণ বিতরণের জন্য অর্থমন্ত্রী মঞ্চে ওঠার পর অতিরিক্ত লোকজনের চাপে সেটি ভেঙে পড়ে। এতে মঞ্চে থাকা সবাই পড়ে যান। তবে তাদের কেউ আহত হননি। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আবারও শুরু হয়।

আহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, অর্থমন্ত্রী চলে যাওয়ার পর ত্রাণ নিতে গিয়ে হুড়োহুড়িতে আহত হওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তখন তিনি ঘটনাস্থল থেকে চলে গিয়েছিলেন।

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক চম্পা

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক চম্পা
সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কাব শিক্ষক (মহিলা) নির্বাচিত হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার শিক্ষক চম্পা আক্তার। তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার  ১ নম্বর ভাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে কর্মরত রয়েছেন।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত  অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সম্মাননা স্মারক নিয়েছেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী আ. ন. ম. এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

এর আগে চম্পা আক্তার উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সবগুলো ধাপ পেরিয়ে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন এবং তার অনন্য কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ  দেশসেরা কাব শিক্ষক নির্বাচিত হন।

বিজয়ী শিক্ষক চম্পা আক্তার নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই অর্জন আমার বিদ্যালয়, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের সবার। ভবিষ্যতেও শিশুদের সুশিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ ও কাব কার্যক্রমের উন্নয়নে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যেতে চাই।’

সিসা দূষণ বন্ধে রংপুরে পদযাত্রা, শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিসা দূষণ বন্ধে রংপুরে পদযাত্রা, শিশুদের সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি

শিশুদের স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সিসা দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে রংপুরে সচেতনতামূলক পদযাত্রা ও প্রচারণা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা সতর্ক করে বলেছেন, অনিয়ন্ত্রিত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিংসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ছড়িয়ে পড়া সিসা শিশুদের স্বাস্থ্য, মেধার বিকাশ ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সিসা ও বিষাক্ত দূষণ মোকাবেলায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা পিওর আর্থ-এর সহযোগিতায় এবং ইয়ুথনেট গ্লোবালের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

‘সিসা দূষণ বন্ধ করি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নগরীর চন্দ্রার মোড় থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। পরে এটি আবু সাঈদ চত্বরসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে গিয়ে শেষ হয়।

পদযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবেশকর্মী, সরকারি প্রতিনিধি ও তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা সিসা দূষণবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারি ভাঙা ও রিসাইক্লিংয়ের ফলে মাটি, পানি ও বাতাসে বিষাক্ত সিসা ছড়িয়ে পড়ছে, যা শ্রমিক, শিশু এবং আশপাশের জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

র‍্যালি থেকে সিসাকে ‘বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য’ হিসেবে ঘোষণা করে সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর রক্তে সিসার মাত্রা পর্যবেক্ষণে নিয়মিত ব্যবস্থা চালু, অনিরাপদ ব্যাটারি রিসাইক্লিং বন্ধে এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি (ইপিআর) কার্যকর করা, ব্যবহৃত ব্যাটারির নিরাপদ সংগ্রহ ও পরিবেশবান্ধব পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ নিশ্চিত করা এবং সিসা দূষণবিষয়ক গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়।

বিবিএস ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিশুদের সিসা দূষণের বোঝার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। দেশে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি শিশু সিসার ক্ষতিকর প্রভাবের ঝুঁকিতে রয়েছে।

তারা জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুর রক্তে সিসার মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি। বিভাগভিত্তিক তথ্যে ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রামে শিশুদের রক্তে উচ্চমাত্রার সিসা শনাক্তের হার যথাক্রমে ৬৫ শতাংশ, ৪৬ দশমিক ৭ শতাংশ ও ৪২ দশমিক ১ শতাংশ।

বক্তারা বলেন, শিশুদের সিসা দূষণ থেকে সুরক্ষায় সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও তরুণদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের রংপুর বিভাগীয় সমন্বয়কারী জিলহজ্জ সরকার বলেন, ‘সিসা দূষণ শিশুদের অধিকার, জনস্বাস্থ্য এবং সুবিচারের প্রশ্ন। শিশুদের সুরক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক নজরদারি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই।’

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ বিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু রেজা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সিসা একটি নীরব বিষ, যা ধীরে ধীরে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ ও সচেতনতাই পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই অদৃশ্য হুমকি থেকে রক্ষা করতে।’

ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান বলেন, ‘অপরিকল্পিত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারি রিসাইক্লিং শুধু শ্রমিকদের পাশাপাশি আশপাশের পুরো জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। সিসা দূষণ একটি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সুবিচারের বিষয়। এটি মোকাবেলায় কঠোর নীতিমালা, কার্যকর নজরদারি এবং তরুণদের সম্পৃক্ততা জরুরি।’

তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করলে এই সংকট মোকাবেলা করা কঠিন হবে।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের রংপুর জেলা প্রতিনিধি ও সলিউশন বাংলাদেশের সদস্য সোহাগ কুমার বলেন, ‘সিসা কোনো সাধারণ বর্জ্য নয়, এটি একটি নীরব ঘাতক, যা আমাদের অজান্তেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সিসা দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ বিষাক্ত দূষণের কাছে জিম্মি হতে পারে না। নিরাপদ পরিবেশ, সুস্থ জীবন ও সিসামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’

পিওর আর্থ বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিতালী দাস বলেন, শিশুদের খেলনা থেকে শুরু করে রান্নার বাসনপত্রসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে সিসার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। তাই সরকারি পর্যায়ে কঠোর নজরদারি, ব্যবহৃত সিসা অ্যাসিড ব্যাটারির নিরাপদ রিসাইক্লিং এবং ব্যাপক জনসচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

ইয়ুথনেট গ্লোবালের পরিবেশগত সুবিচার ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক সমন্বয়ক মোহাইমিনুল ইসলাম জিপাত বলেন, শিশুদের জন্য নিরাপদ ও সিসামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সিসা দূষণ প্রতিরোধ শুধু সরকারের পাশাপাশি এটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : মন্ত্রী আরিফুল

অনলাইন ডেস্ক
ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত : মন্ত্রী আরিফুল
ফাইল ছবি

ধর্মীয় সম্প্রীতির ক্ষেত্রে সিলেট একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। 
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সিলেটের চালিবন্দর মহাশ্মশান কমপ্লেক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ধর্মীয় রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় গুরুদের দিকনির্দেশনার মাধ্যমে যুবসমাজকে নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। যাতে তারা বিপথগামী না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, ভারতের সহকারী হাইকমিশনারসহ শ্মশান কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চাঁদপুরে দুই প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার | কালের কণ্ঠ