পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌর শহরের হাসপাতাল সড়কে ধান হাটার পাশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান টপটেন জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) মঠবাড়িয়া উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগে জানা গেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ ফেরদৌসী বেগম প্রসূতি অবস্থায় রবিবার শহরের টপটেন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ওই প্রসূতির একটি শিশুর জন্ম হয়।
পরিবারের দাবি, জন্মের পর শিশুটি সুস্থ ছিল। তবে দুই দিন পর হাসপাতালের ভুল চিকিৎসার কারণে এবং দায়িত্বে অবহেলায় শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে। পরবর্তীতে শিশুটিকে ডা. আশীষ দেবনাথের চেম্বারে নেওয়া হলে তাকে সরকারি হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
প্রসূতি ওই গৃহবধূর মা ফেরদৌসী বেগম জানান, গর্ভাবস্থায় তার মেয়েকে মঠবাড়িয়ার টপটেন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সন্তান জন্মের পর নবজাতকটি সুস্থই ছিল। তবে জন্মের দুদিন পর মঙ্গলবার শিশুটির নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেয়। পরে ডা. আশীষ দেবনাথের কাছে নিয়ে গেলে তিনি জানান, শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ তাকে ইমারজেন্সি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
টপটেন জেনারেল হাসপাতালের মালিক সাকিব সোহেল জানান, তাদের হাসপাতালে ফেরদৌসীর সিজার সম্পন্ন হয় এবং জন্মের পর নবজাতকটি সুস্থ্ ছিল। তবে হঠাৎ করে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদেরকে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়। পরে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সময় সেখানেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা, আশীষ দেবনাথ জানান, তিনি তার চেম্বারে রোগী দেখার সময় নবজাতক শিশুটিকে তার কাছে নিয়ে আসা হয়। তবে শিশুটিকে তার কাছে আনার আগেই তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। শিশুটির মুখ ও নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। পরিস্থিতি গুরুতর দেখে তিনি দ্রুত শিশুটিকে জরুরি বিভাগে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৌমিত্র সিংহ রায় বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই উপজেলা মেডিক্যাল অফিসার ডা. চঞ্চল গোলদারের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মঠবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাকিল সরোয়ার বলেন, বিষয়টি তদন্তে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





