রাজশাহী মহানগরীতে পৃথক দুটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)। এসব ঘটনায় মোট ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ছিনতাইকৃত অটোরিকশা, ব্যাটারি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত মামুনুর রশিদ গত ২ মে বিকেলে প্রতিদিনের মতো ভাড়ায় চালানোর উদ্দেশ্যে অটোরিকশা নিয়ে বের হন। রাতে বাড়িতে না ফিরলে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পেয়ে দামকুড়া থানা পুলিশ জোতরাবোন উত্তরপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পিবিআই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করে।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. বাবুল বাদী হয়ে দামকুড়া থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, দুর্বৃত্তরা অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মামুনুর রশিদকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
আরো পড়ুন
কেরানীগঞ্জে গাঁজা-ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩
ঘটনার পর ডিবি পুলিশের একটি টিম তথ্য-প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ১৫ মে ছিনতাইকৃত অটোরিকশা উদ্ধারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারীসহ আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে অটোরিকশার চারটি ব্যাটারি ও ব্যাটারি খোলার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অপরদিকে, মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে গুলিতে নিহত হন মো. গোলাম মোস্তফা। পুলিশ জানায়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৭টার দিকে এশার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে খোঁজাপুর এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও অব্যবহৃত গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের স্ত্রী মোসা. নাজেরা বেগম মতিহার থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক মামলা করেন।
পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলমাস আল রাজী ও তার টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৯ মে দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি হাসিবুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গাজিউর রহমান আরএমপি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায়। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। সেই সঙ্গে পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।