• ই-পেপার

পিরোজপুরে ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে থাইল্যান্ডের নাগরিক নিহত, গ্রেপ্তার ১

কর্ণফুলী(চট্টগ্রাম)প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজে থাইল্যান্ডের নাগরিক নিহত, গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলে গভীর সমুদ্রে নোঙর করা একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দুই ক্রুর সংঘর্ষে এক থাই নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরেক থাই নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২০ মে) সকালে এমভি কেপিপি-০১ (আইএমও ৯০২১২০৩) নামের জাহাজ থেকে তুরাকর্ন বুরুসিক (৩৫) নামের অভিযুক্ত ক্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি থাইল্যান্ডের নাগরিক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আনোয়ারা উপকূলের বঙ্গোপসাগরে নোঙর করা জাহাজটিতে দুই ক্রুর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন রাফিফং কালাহান (৩০) নামের এক ক্রু সদস্য। পরে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, পতেঙ্গা থানা পুলিশ প্রথমে অভিযুক্ত তুরাকর্ন বুরুসিককে গ্রেপ্তার করে। পরে বুধবার সকালে তাকে আনোয়ারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

রূপগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলায় নিন্দা

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
রূপগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর হামলায় নিন্দা
সংগৃহীত ছবি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক আলআমিন মিয়ার ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা। মঙ্গলবার (১৯ মে) এ হামলার ঘটনা ঘটে। আলআমিন নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য ও ইসলামিক টিভির রূপগঞ্জ প্রতিনিধি।

আরো পড়ুন
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ভোক্তাদের প্রত্যাখ্যান

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, ভোক্তাদের প্রত্যাখ্যান

 

সাংবাদিক নেতা ও বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাতের শামিল। তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

বক্তারা আরো বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অসংগতি, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরেন। তাই তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত না হলে সাংবাদিক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে সাংবাদিক আলআমিন মিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন সহকর্মীরা।

গাইবান্ধা

নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে মহিলা পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
নারী ও শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে মহিলা পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণপরিসরে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে একযোগে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে। 

বুধবার (২০ মে) সকালে শহরের কাচারি বাজারস্থ গাইবান্ধা প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখা এই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে। 

সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজা খানম মিতা, সাধারণ সম্পাদক রিকতু প্রসাদ, সহসাধারণ সম্পাদক লায়লা নাছরিন কলি, লিগ্যাল এইড সম্পাদক নিয়াজ আক্তার ইয়াসমিন, সদস্য বিথী বেগম, তরুণ সদস্য বন্যা ইসলাম। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক-কবি রজতকান্তি বর্মন, আদিবাসী-বাঙালি নেতা গোলাম রব্বানী মুসা, সাংবাদিক উত্তম সরকার ও ময়নুল ইসলাম।

আরো পড়ুন
হাম ও উপসর্গে ঝরে গেল আরো ৬ প্রাণ

হাম ও উপসর্গে ঝরে গেল আরো ৬ প্রাণ

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ, অনলাইন নিপীড়ন এবং সামাজিক অনাচারের ঘটনা প্রতিদিনই ঘটছে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র কিংবা রাস্তাঘাট কোথাও নারীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। এটি শুধু একজন নারীর সমস্যা নয়, এটি পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার বিষয়। কারণ, নারীর প্রতি সম্মান ছাড়া কোনো সভ্য সমাজ গড়ে উঠতে পারে না।

তারা বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষের সম-অধিকার নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা এখনো সেই নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে পারিনি। তাই আজকের এই বিক্ষোভ সমাবেশ কেবল প্রতিবাদ নয়, এটি একটি সামাজিক জাগরণের আহ্বান। 

বক্তারা আরো বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ, সম্মান ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে একযোগে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জামের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি
সংগৃহীত ছবি

নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ওপর আরোপিত সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের ওপর থেকে কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করলে সাধারণ মানুষ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ব্যবহারে আরো আগ্রহী হবে। এতে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা অনেকটা কমবে।

আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে ন্যায়সংগত ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় উত্তরণের পথ খুঁজতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন তারা।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক ও প্রগতিশীল অবস্থানকে তুলে ধরেছে। সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আসন্ন জাতীয় বাজেটে উপযুক্ত প্রণোদনা, নেট মিটারিং কার্যকর বাস্তবায়ন ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’ তরুণদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ও নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা সরকারের নীতি বাস্তবায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ন্যায়সংগত উত্তরণের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ করা হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে এবং গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ ও উৎপাদন ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে ন্যায়সংগত উত্তরণ নিশ্চিত করতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং শ্রমিকসহ ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। বৈশ্বিক এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ সরকার, নাগরিক সমাজ, গবেষক ও তরুণদের সমন্বিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অর্থবহ ও কার্যকর জ্বালানি রূপান্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।


সভাপতির বক্তব্যে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, ‘জলবায়ু সংকট ও জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা একটি আন্তঃসম্পর্কিত বৈশ্বিক সংকট, যা মোকাবেলায় সমন্বিত ও ন্যায়ভিত্তিক পদক্ষেপ জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, জাস্ট ট্রানজিশনকে কেবল প্রযুক্তিগত সমাধান হিসেবে দেখলে হবে না; বরং প্রাতিষ্ঠানিক, আর্থিক, আইনি, রাজনৈতিক ও সামাজিক বাধা দূর করে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।’ এ প্রক্রিয়ায় নারী, যুব, শ্রমিক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জেন্ডার-রেসপনসিভ পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত জলবায়ু অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

একশনএইড বাংলাদেশের জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন টিমের ম্যানেজার মো. আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তৃতা দেন ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিক্স অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) বাংলাদেশের লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ বিভাগের সাদিয়া জাহান রথি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের অপারেশন লিড জুবায়ের ইসলাম প্রমূখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কলম্বিয়ার সান্তা মার্তায় গত মাসের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি উত্তরণ সম্মেলনের অভিজ্ঞতা, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এবং সম্মেলনের বিভিন্ন ফলাফল তুলে ধরে ধরেন কাঠপেন্সিল-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফারজানা ফারুক ঝুমু ও ব্রাইটার্স সোসাইটির চেয়ার ফারিহা এস অমি।