চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থেকে নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার আনিশাকে (১২) কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা বাজার এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনিশার বাবা শাহাদাত ও তার বাবার বন্ধু ব্যবসায়ী আমির হোসেন আজাদ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর ১.৩০ মিনিটের দিকে সন্দ্বীপ আনন্দ পাঠশালা স্কুলের গেট থেকে আনিশা নিখোঁজ হয়। সে সন্দ্বীপ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের তালতলী বাজার এলাকার ব্যবসায়ী শাহাদাতের মেয়ে এবং আনন্দ পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আরো পড়ুন
গ্লাসগোয় শুরু ২৩তম কমনওয়েলথ গেমস, উদ্বোধন করেন রাজা তৃতীয় চার্লস-রানি ক্যামিলা
স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে আনিশাকে তাদের বাড়ির পাশের মুরগির খামারে কর্মরত এক যুবকের সঙ্গে স্কুলের গেট থেকে বের হতে দেখা যায়। ওই যুবকের বাড়ি রংপুরে। পারিবারিক পরিচয়ের কারণে অতীতেও জরুরি প্রয়োজনে তার মাধ্যমে আনিশাকে স্কুল থেকে আনা হয়েছে। ঘটনার দিন যুবকটি তার মায়ের অসুস্থতার কথা বলে আনিশাকে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান।
সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ অটোরিকশার চালককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ নিশ্চিত হয়, ওই যুবক আনিশাকে নিয়ে সেদিনই সন্দ্বীপ ত্যাগ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
আরো পড়ুন
জুমার দিন যে আট আমল কখনো ছাড়বেন না
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিখোঁজের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফেসবুকে মুহাম্মদ সারোয়ার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি দাবি করেন, বিকেল ৩টার দিকে তিনি কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের একটি সার্ভিস ট্রলারের কেবিনে স্কুলড্রেস পরা আনিশাকে দেখেছিলেন।
আনিশার বাবার বন্ধু আমির হোসেন আজাদ জানান, অপহরণকারী মেয়েটিকে কোনো ওষুধ প্রয়োগ করে অস্বাভাবিক অবস্থায় সীতাকুণ্ডের কুমিরা হয়ে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কাবিলা বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মেয়েটি স্বাভাবিক হলে কান্নাকাটি শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অপহরণকারী পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে মেয়েটির পরিচয় জানতে পারেন এবং তার বাবার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের ব্যবস্থা করে দেন।
খবর পেয়ে আনিশার বাবা ও আমির হোসেন আজাদ বুড়িচংয়ে ছুটে যান। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তারা আনিশার সঙ্গে দেখা করেন এবং তাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।