• ই-পেপার

নির্বাচনে ৫৪ বছরের ব্যর্থ শাসকদের লাল কার্ড দেখাব : গোলাম পরওয়ার

ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, জানে না কেউ

অনলাইন ডেস্ক
ভাঙা হচ্ছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, জানে না কেউ
সংগৃহীত ছবি

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশমুখে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালসংলগ্ন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও অসম্পূর্ণ ভাস্কর্য গত কয়েক দিন ধরে অপসারণ করা হচ্ছে। তবে কার নির্দেশে, কোন সংস্থার উদ্যোগে এবং কী কারণে এই কাজ চলছে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি জেলা প্রশাসন, পৌরসভা কিংবা সড়ক ও জনপথ বিভাগ। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে দেখা যায়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে শ্রমিকরা চত্বর ও ভাস্কর্যের অংশ ভাঙার কাজ করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক দিন ধরেই অপসারণের কাজ চলছে। তবে কে বা কারা কাজটি করছে, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

শ্রমিকদের দাবি, ওই স্থানে প্রায়ই ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটায় পৌরসভার উদ্যোগে এটি অপসারণ করা হচ্ছে বলে তারা শুনেছেন। তবে ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথিন্দ্র নাথ রায় এ দাবি নাকচ করে বলেন, ‘এ কাজটি কে করছে আমরা জানি না। পৌরসভার পক্ষ থেকে এটি করা হচ্ছে না।’

এদিকে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাঙা হচ্ছে তা তার জানা নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘এটা যে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য, তা জানা ছিল না। কারণ এটি অসম্পূর্ণ ছিল। জেলা প্রশাসন এ কাজ করছে না। আমি দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এটি ওই স্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সম্ভবত সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি আরো জানান, জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি নতুন প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ঝিনাইদহ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে ভাস্কর্য ও চত্বরটি কারা অপসারণ করছে, তা তার জানা নেই।

জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীরা দুই দফায় স্থাপনাটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। পাশাপাশি এটি সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও সৃষ্টি করছিল। বিভিন্ন সভায় এটি সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তবে এখন কে অপসারণ করছে, তা তিনি জানেন না।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল হোসেন বলেন, ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহ নয়, সারা দেশের গর্ব। তার স্মৃতিচিহ্ন অপসারণ করা হচ্ছে, এটি দুঃখজনক। দ্রুত একই স্থানে বা অন্য উপযুক্ত স্থানে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করতে হবে।’

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, পরিবারের কাউকে না জানিয়েই চত্বর অপসারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার চাচা দেশের সাত বীরশ্রেষ্ঠের একজন। আমাদের না জানিয়ে এটি অপসারণ করা দুঃখজনক। আমরা মনে করি, ইতিহাস থেকে তার নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’ তিনি দ্রুত নতুন করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের দাবি জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে জেলা বিএনপির নেতা আব্দুল মজিদ বিশ্বাস বলেন, বর্তমান স্থাপনাটি তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে নির্মাণ শুরু হলেও তা আর সম্পন্ন হয়নি। তবে যে কারণেই অপসারণ করা হোক, নতুন করে পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণ করা উচিত।

পৌরসভা সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কাজ শেষ না করেই প্রকল্পটি ফেলে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে মেয়র ও প্রশাসক পরিবর্তন হলেও কাজ আর এগোয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় চত্বরটি আগাছায় ঢেকে যায় এবং স্থাপনাটি অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল।

প্রসঙ্গত, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খর্দ্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য হিসেবে ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ হন। অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ লাভ করেন।

বিলের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু, রায়পুরায় ২৪ ঘণ্টায় ঝরল ৬ প্রাণ

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
বিলের পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু, রায়পুরায় ২৪ ঘণ্টায় ঝরল ৬ প্রাণ
নিহত নাতির মৃত্যুতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কান্নায় ভেঙে পড়েন লামিয়ার দাদি।

নরসিংদীর রায়পুরায় বিলের পানিতে গোসল করতে নেমে দুই কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর পূর্বপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো ভেলুয়ারচর পূর্বপাড়া এলাকার নুরুজ্জামানের মেয়ে জান্নাতী আক্তার (৮), উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর এলাকার সাদ্দাম মিয়ার মেয়ে লামিয়া আক্তার রিতা (৭)। এর মধ্যে লামিয়া স্থানী একটি মাদরাসা ও জান্নাতী একটি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষার্থী। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বড়কান্দা ও ভেলুয়ারচরে পানিতে ডুবে ৬  শিশুর মৃত্যু হলো।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নানাবাড়ি ভেলুয়ারচরে বেড়াতে আসে শিশু লামিয়া আক্তার। পরে স্থানীয় শিশু জান্নাতীর সঙ্গে বাড়ির পাশের একটি বিলে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সাঁতার না জানায় তারা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জান্নাতীর দাদা আবুল কালাম বলেন, ‘আমার নাতনি ও বেড়াতে আসা আরেকটি শিশু একসঙ্গে বিলে গোসল করতে নেমেছিল। সেখানেই তারা পানিতে ডুবে মারা যান।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শীলা বলেন, ‘আজ বেলা ১১টার দিকে ভেলুয়ারচর থেকে পানিতে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়।’ হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছিল।

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার চাঁদেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা এলাকায় কাঁকন নদীর একটি খালে গোসল করতে নেমে ৪ মাদরাসা শিক্ষার্থী তাবিয়া, জান্নাত, সুমাইয়া ও আয়েশা পানিতে ডুবে মারা যায়। সেই ঘটনার শোক কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আরো দুই কন্যাশিশুর প্রাণহানির ঘটনায় পুরো রায়পুরাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পৃথক দুই ঘটনায় পানিতে ডুবে মোট ৯ কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে।

কুমিল্লায় খাল থেকে ৫ বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় খাল থেকে ৫ বছরের শিশুর লাশ উদ্ধার
নিহত সাজ্জাদ হোসেন।

কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের ধনপুর গ্রামে একটি খাল থেকে সাজ্জাদ হোসেন (৫) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বাড়ির পাশের খাল থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত সাজ্জাদ হোসেন উপজেলার ধনপুর গ্রামের সানজু মিয়ার ছেলে।

স্বজনরা জানান, বুধবার বিকেল থেকে সাজ্জাদ নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে বাড়ির পাশের খালে সাজ্জাদের লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটি খেলতে খেলতে বাড়ির পাশের খালের পাড়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

মহানন্দা নদীতে গোসলে নেমে কিশোরের মৃত্যু, নিখোঁজ আরেকজন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
মহানন্দা নদীতে গোসলে নেমে কিশোরের মৃত্যু, নিখোঁজ আরেকজন
সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পৃথক ঘটনায় মহানন্দা নদীতে গোসল করতে নেমে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে নদীর অন্য একটি ঘাটে গোসল করতে নেমে আরো এক কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অভিযান চালাচ্ছে।

মৃত কিশোর সুমন আলী (১৫) সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের চানভাসা চানপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি ইসলামপুর ইউনিয়নের চাঁটাইডুবি রহমানিয়া মাদরাসার ছাত্র ছিলেন। নিখোঁজ হাসিব (১২) মহারাজপুর ইউনিয়নের চকটোলা গ্রামের আব্দুল বাশিরের ছেলে এবং মহারাজপুর আনন্দময় পাঠশালার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয়, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সুমন বন্ধুদের সঙ্গে ইসলামপুর এলাকার মহানন্দা নদীর গাজীপাড়া ঘাটে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে একই দিন দুপুর দেড়টার দিকে হাসিব কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মহারাজপুরের আকন্দবাড়িয়া মিশনতলা ঘাটে গোসল করতে নেমে তীব্র স্রোতে নিখোঁজ হয়। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা খোঁজাখুঁজি করেও তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন অফিসার সাঈদ হাসান শুভ বলেন, খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল শুক্রবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, ‘মহানন্দা নদীতে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে এবং আরেকজন নিখোঁজ রয়েছে। নৌ-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

নির্বাচনে ৫৪ বছরের ব্যর্থ শাসকদের লাল কার্ড দেখাব : গোলাম পরওয়ার | কালের কণ্ঠ