• ই-পেপার

খুলনায় গোলাম পরওয়ার

গণভোটের দাবিকে উপেক্ষা করা হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটগ্রস্ত হতে পারে

কুষ্টিয়া সীমান্তে পতাকা বৈঠক ব্যর্থ, শূন্যরেখায় ১২ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়া সীমান্তে পতাকা বৈঠক ব্যর্থ, শূন্যরেখায় ১২ জন
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জন এখনও সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

শনিবার (১৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তের ১৫০/৩-এস সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক (সিও) নুরুল হুদার নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল এবং বিএসএফের পক্ষে রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার সুনিল কুমার ইয়াদবের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।

বিজিবি জানায়, বৈঠকে বিএসএফ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে। একই সঙ্গে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ওই ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ অবস্থায় বিজিবি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবে বলে জানায়। ফলে আপাতত ওই ১২ জন শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।

ভারতের কেরালা থেকে পুশইনের জন্য আনা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাথানপাড়া গ্রামের মৃত ওয়াসেদ আলীর ছেলে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), বড় ছেলে শিহাদ (১৭), মেজো ছেলে ইনজামুল (৮) এবং আড়াই বছরের শিশু সামাদ (২)। এছাড়া সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই নিজেদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাবি করেছেন।

গত শুক্রবার (১২ জুন) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ এই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেন।

পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের দাবি, ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে তাদের আটক করা হয়েছিল। পরে বিএসএফ তাদের বিলগাতুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের তৎপরতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ৪টায় বিজিবি–বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিজিবির অভিযোগ, বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে নির্ধারিত বৈঠকটি ভেস্তে যায়। ফলে ১২ জনকে সীমান্ত এলাকায় রাত কাটাতে হয়।

কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, ‘শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বিএসএফ পুশইনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য সময় চেয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সীমান্ত রক্ষায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল নেতা নিহত
নিহত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী।

চট্টগ্রামের রাউজানে দুর্বৃত্তের গুলিতে খুন হয়েছেন যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, মাসুদ চৌধুরীর পরিবার স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দুপুরে তিনি ওষুধ কিনতে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বের হয়েছিলেন। পাহাড়তলী এলাকায় একটি মার্কেটের সামনে তাকে পেছন থেকে অতর্কিত মাথায় ও পায়ে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় মার্কেটে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলি করার পর সন্ত্রাসীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

এ ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরিকল্পিতভাবে মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। পরে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ও ময়নাতদন্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হজযাত্রীর হারানো লাগেজ নিয়ে মারামারি, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয় প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হজযাত্রীর হারানো লাগেজ নিয়ে মারামারি, আহত ১৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় হজযাত্রীর হারিয়ে যাওয়া ব্যাগকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়। 

আজ শনিবার দুপুর আড়াইটায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় সংঘর্ষ চলছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

স্থানীয়রা জানান, চলতি বছর শাহপুর গ্রামের এক বৃদ্ধা হজ করতে সৌদি আরবে যান। সেখানে তিনি তার একটি লাগেজ হারিয়ে আসেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহপুর গ্রামের ওই হজযাত্রী তার হারিয়ে যাওয়া লাগেজের জন্য আড়াইবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন পরিচালিত কসবা হজ কাফেলায় যান। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, হারিয়ে যাওয়া লাগেজের দায়িত্ব হজযাত্রীর নিজের। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কিছু করার নেই। এ নিয়ে ওই দিনই উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পৌর এলাকা ও আশেপাশে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

কসবা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজনিন সুলতানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশ  সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 
 

ময়মনসিংহ

সৌদিতে নিয়ে প্রতারণা, ৯ মাসেও মেলেনি কাজের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
সৌদিতে নিয়ে প্রতারণা, ৯ মাসেও মেলেনি কাজের অনুমতি
মো. সোহাগ মিয়া (বাঁয়ে) ও রহমতউল্লাহ মনির। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ৯ মাস আগে সৌদি আরবে গেছেন সোহাগ মিয়া ও রহমতউল্লাহ মনির। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার এ দুই যুবক সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

সোহাগ মিয়ার বাড়ি উপজেলার নওপাড়া গ্রামে। আর রহমতউল্লাহ মনিরের বাড়ি একই উপজেলার দক্ষিণ সাটিহারী গ্রামে। সৌদিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

দেশটিতে যাওয়ার পরই আকামা (সৌদিতে বসবাসের অনুমতিপত্র) ও নির্দিষ্ট কাজের আশ্বাস দিয়ে এ দুই যুবককে সৌদি আববে নেওয়ার পর কোনোটাই দেওয়া হয়নি। এতে প্রবাসে তারা মানবেতর জীবনযাবন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কালের কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে নিজেদের দুর্ভোগের কথা জানান সোহাগ ও রহম প্রবাসী। তারা জানান, ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বটতলা কুল্লাপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলাম সৌদি আরবে থাকেন। ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সেদেশে যান এ দুইজন। 

ভুক্তভোগীরা জানান, আশরাফুল সৌদি আরবে থেকেই তার বাবা বিল্লাল হোসেনের মাধ্যমে দেশ থেকে সে দেশে লোক নেওয়ার কাজ করেন। ৯ মাস আগে তার মাধ্যমে সৌদি আরবে যান সোহাগ ও মনিরসহ কয়েকজন। এ জন্য বিল্লাল হোসনের কাছে চার লাখ ৮০ হাজার টাকা করে জমা দেন তারা। কথা ছিল সৌদি আরবে যাওয়ার পরই তাদের কাজে লাগানো হবে এবং আকামা দেওয়া হবে।  সোহাগকে গাড়ি ধোয়ার কাজ এবং মনিরকে ফুড ডেলিভারির (মোটরসাইকেলে করে ঘুরে খাবার সরবরাহ) কাজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন আশরাফুল। 

কিন্তু দেশটিতে যাওয়ার দুই মাস পার হলেও আশরাফুল তাদের কোনো কাজ দেননি। পরে তারা নিজেরাই যোগাযোগ করে কার্পেট ধোয়ার কাজ যোগাড় করেন। তবে ৯ মাসেও আকামা না দেওয়ায় তারা সেদেশে গোপনে বসবাস ও কাজ করে যাচ্ছেন। মোটা অংকের টাকা খরচ করে  আশরাফুলের মাধ্যমে সৌদিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন এ দুই যুবক। 

সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আকামা না থাকায় আমরা ভালো কাজ পাই না। কাজের সঠিক মূল্য পাই না। আমরা ঘর থেকে বের হয়ে কোথাও যেতে পারি না পুলিশের ভয়ে। বাজার করতে যেতে পারি না; এমনকি অসুস্থ হলে ডাক্তারের কাছেও যেতে পারি না।’ তিনি বলেন, ‘সৌদি আরবের নিয়ম অনুযায়ী আকামা না থাকলে গ্রেপ্তার করে এক মাসের জেল দেয় পুলিশ। এক মাস জেলে থাকার পর দেশে পাঠিয়ে দেয়।’ 

রহমতউল্লাহ মনির বলেন, ‘আমাকে নিয়ে যাওয়ার দুই মাস পর একটা কাজ দেন আশরাফুল। তবে আকামা না থাকায় আশরাফুল তার খালাতো ভাইয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন। সেখানে আমি প্রথম মাসে বাংলাদেশের অর্থমূল্যে অন্তত এক লাখ টাকার কাজ করি। কিন্তু আশরাফুলের খালাতো ভাইয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকলে আমাকে সেখান থেকে নামমাত্র টাকা দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী দাবিদাররা বলেন, সোহাগ ও মনিরসহ আশরাফুলের মাধ্যমে সৌদিতে যাওয়া কয়েকজন প্রতারণার বিষয়টি নিজেদের অভিভাবকদের জানান। পরে গত মঙ্গলবার (৭ জুন) ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ বাজারে এ বিষয়ে একটি সালিসের আয়োজন করে স্থানীয়রা। তবে ওই সালিসে আসেননি আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে সৌদি আরবে থাকা আশরাফুলের মোবাইলে ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে আশরাফুলের বাবা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আশরাফুল যাদের সৌদি আরবে নিয়েছে, তাদের এখনো কিছু টাকা বাকি আছে। এ  কারণে আকামা দিচ্ছে না আশরাফুল। টাকা পেলেই আকামা দিয়ে দেবে।’

সোহাগ ও মনিরের দাবি, তারা সৌদি আরবে যাওয়ার আগেই আশরাফুলের বাবা বিল্লালের কাছে চুক্তি অনুযায়ী সব টাকা  দিয়েছেন। টাকা বাকি থাকার কথা সত্য নয়।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গণভোটের দাবিকে উপেক্ষা করা হলে জাতীয় নির্বাচন সংকটগ্রস্ত হতে পারে | কালের কণ্ঠ