• ই-পেপার

ঝিনাইদহে ৩ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরো আটক ১

সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

সুনামগঞ্জ জেলা কারাগারে আক্কাস আলী (৪৮) নামের এক হাজতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত পৌনে ১২টায় জেলা সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। 

আক্কাস আলী সদর উপজেলার ইবরাহিমপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে।

সুনামগঞ্জের জেল সুপার মো. মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ‘রাতে পৌনে ১১টায় আক্কাস আলী হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে ১২টায় তার মৃত্যু হয়।’

তিনি আরো জানান, ২৩ মে আক্কাস আলী প্রতারণার একটি মামলায় জেলে আসেন। শুক্রবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

নীলফামারীতে বর-কনে নিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
নীলফামারীতে বর-কনে নিয়ে খাদে মাইক্রোবাস, নিহত ২

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে কনে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বর-কনেসহ অন্তত ১২জন।

গতকাল শুক্রবার রাত ৩টার দিকে নীলফামারী-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক কিশোরগঞ্জ থেকে টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন–নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের ৭ মাস বয়সি ছেলে জীবন ইসলাম ও একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে রিয়াদ ইসলাম (২০)। তিনি এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিনের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে হয়। সেই বিয়েতে বরযাত্রী হিসেবে বরসহ প্রায় ১৫ জন এসেছিলেন। পরে বিয়ে শেষে বরযাত্রী কনেকে নিয়ে মাইক্রোবাসে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৩টার দিকে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এ সময়ে মাইক্রোবাসে থাকা বর-কনেসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ১২ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব বলেন, রাতে ১৪ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে আসার পরে দুইজন মারা যান। এছাড়া ১২ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।

কাপ্তাই হ্রদে বাড়ছে পানি, ৬ ইঞ্চি করে খোলা হলো সব জলকপাট

রাঙামাটি সংবাদদাতা
কাপ্তাই হ্রদে বাড়ছে পানি, ৬ ইঞ্চি করে খোলা হলো সব জলকপাট
ছবি: কালের কণ্ঠ

কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ছয় ইঞ্চি করে খুলে দিয়েছে রাঙামাটির কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টা ২০ মিনিটে জলকপাটগুলো খুলে দেওয়া হয়।

জানা গেছে, জলকপাটগুলো খুলে দেওয়ায় প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান ও ভাটির পানি ব্যবস্থাপনা এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। 

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সকাল নয়টায় কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর ছিল ১০৪ দশমিক ০৮ এমএসএল(মিনস সি লেভেল)। হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টিপাতে ক্যাচমেন্ট এলাকায় পানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় বিপদসীমায় পৌঁছানোর পূর্বেই কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে।

কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান বলেন, ‘হ্রদের পানির উচ্চতা, উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ (ইনফ্লো) এবং বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ে ৬ ইঞ্চি পরিমাণ খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইনফ্লো আরো বৃদ্ধি পেলে পর্যায়ক্রমে গেট আরও বেশি খুলে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ানো হবে।’

তিনি আরো জানান, বর্তমানে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

এদিকে, স্পিলওয়ে খোলার সম্ভাব্য ঘোষণায় কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিউবো।

কু‌ড়িগ্রা‌ম

মায়ের ঘরে অগ্নিসংযোগ, সেই মাদকাসক্ত ছেলে গ্রেপ্তার

আঞ্চ‌লিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম
মায়ের ঘরে অগ্নিসংযোগ, সেই মাদকাসক্ত ছেলে গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদকের টাকা না পেয়ে বৃদ্ধা মায়ের বসতঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছে‌লে মো. মিজানুর রহমান শামিম‌কে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে পাশের ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকালে নাগেশ্বরী পৌরসভার বলদিটারী গ্রামে মাদকের টাকা না পেয়ে মিজানুর রহমান তার মায়ের শয়নকক্ষের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে সাতটি টিনশেড ঘর, আসবাবপত্র এবং ব্যবসায়িক মালামাল পুড়ে যায়।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ ঘটনায় ‌মিজানুর রহমা‌নের মা মোছা. আফরোজা বেগম (৬৫) নাগেশ্বরী থানায় মামলা দায়ের করেন।  এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, শামিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই ঘরের মালামাল ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করতেন। এর আগে, গত ২ জুলাই ছোট ভাই মোস্তাফিজার রহমান শাকিলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে র‌য়ে‌ছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয়রা জানান, আগুন দেওয়ার পর শামিম দেশীয় অস্ত্র হাতে ঘরের সামনে অবস্থান নেন এবং আগুন নেভাতে এগিয়ে এলে আশপাশের লোকজনকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে কেউ আগুন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে যেতে সাহস পাননি। পরে নাগেশ্বরী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি অভিযুক্ত মিজানুর রহমান শামিম ভুয়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে শুক্রবার বিকেলে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’

ঝিনাইদহে ৩ জনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আরো আটক ১ | কালের কণ্ঠ