• ই-পেপার

ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপের আখেরি মোনাজাত আজ

সিরাজগঞ্জে সম্ভাব্য বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩১ ইউনিয়ন, মেডিক্যাল টিম গঠন

অনলাইন ডেস্ক
সিরাজগঞ্জে সম্ভাব্য বন্যায় ঝুঁকিপূর্ণ ৩১ ইউনিয়ন, মেডিক্যাল টিম গঠন
ফাইল ছবি

সিরাজগঞ্জে ৮৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নকে সম্ভাব্য বন্যার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। পাশাপাশি সম্ভাব্য বন্যায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এবং স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে মোট ৯৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করেছে বিভাগটি। 

রবিবার (১২ জুলাই) বিকেলে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. নুরুল আমীন। 

তিনি বলেন, সম্ভাব্য বন্যার কথা চিন্তা করে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে ও সেবা নিশ্চিতে ৮৩টি ইউনিয়নে ৮৩টি, ৯টি উপজেলায় ৯টি এবং জেলায় ১টিসহ মোট ৯৩টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া সব উপজেলায় জরুরি ওষুধ, স্যালাইন, সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনম, গর্ভবতী নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতসহ যাবতীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এ সময় ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রিয়াজুল ইসলাম, পরিসংখ্যানবীদ হুমায়ুন কবির, সিরাজগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ খান হাসান, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ইন্নাসহ অন্যান্য গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাতকানিয়ায় বানভাসি মানুষের পাশে ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল

অনলাইন ডেস্ক
সাতকানিয়ায় বানভাসি মানুষের পাশে ছাত্রদল নেতা তৌহিদুল
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যায় পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় পানিবন্দী ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের পাঠাগার সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।

সম্প্রতি উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এই ছাত্রদল নেতা। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সার্বিক সহযোগিতা করেন।

ত্রাণ বিতরণকালে তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্যোগের এই সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই এগিয়ে এলে বন্যাদুর্গত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।’

এ সময় তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে বন্যাকবলিত এসব মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে দুর্যোগের মুহূর্তে এমন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি বন্যার সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম আরো জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানিবন্দি মানুষের পাশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
পানিবন্দি মানুষের পাশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

টানা ভারি বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়া চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও সিঅ্যান্ডবি, মোহরা ও দক্ষিণ কাট্টলি এলাকার দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

রবিবার (১২ জুলাই) তিনি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং সাঈদ আল নোমানকে সঙ্গে নিয়ে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী দুর্গত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজখবর নেন এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যাজনিত দুর্ভোগ সম্পর্কে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তা, বিশুদ্ধ পানির সংকট, খাদ্যসহ জরুরি সেবার বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মানবিক নীতির আলোকে সরকারের সব প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অসহায় অবস্থায় ফেলে রাখা হবে না। প্রয়োজনীয় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও অন্যান্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরো বলেন, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনর্বাসন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে। জনগণের যেকোনো দুর্যোগে জনপ্রতিনিধিরা সব সময় মানুষের পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাঠপর্যায়ে নিরলসভাবে কাজ করছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, জরুরি সেবা নিশ্চিত করা, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দুর্গত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, চাল, ডাল, তেল, বিশুদ্ধ পানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে নিম্নাঞ্চলের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম আরো জোরদার করা হয়েছে।

বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের কামড় খেয়েছে ৭৫ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
বন্যায় চট্টগ্রামে সাপের কামড় খেয়েছে ৭৫ জন

চট্টগ্রামে অতি ভারি বৃষ্টি, বন্যা ও পাহাড়-দেয়ালধসে এখন পর্যন্ত ৬ শিশুসহ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বন্যা ও পানিতে ডুবে মারা গেছে ৭ জন। গত ৭ জুলাই থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ৫ দিনে চট্টগ্রাম নগর ও জেলার ৭টি উপজেলায় তারা মারা যান। এছাড়াও শনিবার পর্যন্ত মোট আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ৯০ জন। এর মধ্যে ৭৫ জন সাপে কাটা রোগী। চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। 

এদিকে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলায় ২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক, বাঁশখালীতে ১৬ টি কমিউনিটি  ক্লিনিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পানি উঠলেও এখন নেমে গেছে। 

তিনি জানান, চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও বন্যার সময় সর্বশেষ গত শনিবার পর্যন্ত মোট আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে মোট ৯০ জন। এর মধ্যে ৭৫ জন সাপে কাটা রোগী আছে। এর মধ্যে কোনো রোগী মারা যায়নি। বন্যাদুর্গত এলাকায় আমাদের মেডিক্যাল টিম পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ওআরএস, প্যারাসিটামল এবং অন্যান্য ওষুধপত্র নিয়ে এলাকায় কাজ করছে।

চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কার্যালয় থেকে জানা যায়, সদ্য চট্টগ্রাম জেলায় অতি ভারি বৃষ্টিতে বন্যা, পাহাড় ও দেয়ালধসে নগর, রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুণ্ড, রাউজান, আনোয়ারা, হাটহাজারী, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় মোট ১৩ জন মারা যায়। এর মধ্যে ৬ জন শিশু, চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী রয়েছে। 

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন জানান, আহত ৯০ জনের মধ্যে পাহাড়ধসে ২ জন, দেয়াল ধসে ২ জন, সাপে কাটা ৭৫ জন এবং অন্যান্য আহত ১১ জন। এর মধ্যে সাপে কাটা ৭৫ জন আহতের মধ্যে বোয়ালখালী ২০, রাঙ্গুনিয়া ৩, হাটহাজারী ৮, সাতকানিয়া ৩, চন্দনাইশ ৩, লোহাগাড়া ২, পটিয়া ২২, রাউজান ১৪ জন।

ইজতেমার দ্বিতীয় ধাপের আখেরি মোনাজাত আজ | কালের কণ্ঠ