চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) আওতায় ৬০০ খামারির মাঝে আধুনিক পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের এ উদ্যোগে খামারিরা আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রাণিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আরো উৎসাহিত হবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপকারভোগী খামারিদের হাতে উপকরণ তুলে দেন চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ। সঞ্চালনা করেন উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কনক বড়ুয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনামুল হক বলেন, সরকার কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। খামারিরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম চালিকাশক্তি। উৎপাদন বৃদ্ধি, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ নিশ্চিতকরণ এবং খামারিদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধার সঠিক ব্যবহার এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পটিয়ার প্রাণিসম্পদ খাতকে আরো সমৃদ্ধ করা সম্ভব। এতে খামারিদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য খামারিদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া। তিনি জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর নিয়মিত প্রশিক্ষণ, চিকিৎসা, টিকাদান ও কারিগরি পরামর্শের মাধ্যমে খামারিদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
উপকারভোগী খামারিদের মধ্যে বিতরণ করা সাত ধরনের উপকরণের মধ্যে ছিল দুটি মিল্ক ক্যান, একটি স্টিলের বালতি, একটি টিট ডিপিং কাপ (জীবাণুনাশক ব্যবহারের জন্য), হ্যান্ড গ্লাভস, গামবুট, একটি টেম্পারেচার অ্যান্ড হিউমিডিটি মিটার এবং দুধ মাপার চারটি স্টিলের পাত্র।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. সাদ্দাম হোছাইন, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শত শত খামারি উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় খামারিরা সরকারি সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা আরো বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকলে পটিয়ার প্রাণিসম্পদ খাত আরো সমৃদ্ধ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।




