• ই-পেপার

লেবানন-ইসরায়েল কাঠামো নিয়ে রুবিও-আউনের বৈঠক, কী কথা হলো

ইরাকে ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ইরাকে ইরানি হামলায় মার্কিন সেনা নিহত
ছবি : রয়টার্স

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উত্তর ইরাকে শনিবার এক ঘটনায় একজন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। এর এক দিন আগে জর্দানে একটি সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং আরেকজন নিখোঁজ হন।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ভূপাতিত একটি ইরানি হামলাকারী ড্রোনে থাকা অবিস্ফোরিত যুদ্ধাস্ত্র নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে ওই সেনা সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় আরো একজন সেনা আহত হয়েছেন।

সেন্টকম জানায়, জর্দানে শুক্রবারের হামলার স্থানে তল্লাশি চালিয়ে তারা কিছু ‘মানবদেহের অবশেষ’ পেয়েছে। এগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এ ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানা অষ্টম দিনের মতো পাল্টাপাল্টি হামলা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ এনেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবারও অবরোধ আরোপ করেছে। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দিয়ে অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে। এক মাসেরও কম সময় আগে হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের সাম্প্রতিক হামলাগুলোর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্দানে হামলার জন্য দায়ী বলে অভিযুক্ত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) দ্রুত জবাব দেওয়া।

এদিকে চলতি মাসের শুরুতে নিখোঁজ হওয়া এক মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে চলমান এই সংঘাতে নিহত মার্কিন নাগরিকের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে পৌঁছেছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত তিন সপ্তাহে দেশটিতে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। রবিবারও মধ্যপ্রাচ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত ছিল। ইরানের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দারখোভেইনে নির্মাণাধীন একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং কেশম দ্বীপে রাতের বেলায় হামলা চালানো হয়েছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। 

সংস্থাটি জানায়, লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাটি এখনো নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ পরিদর্শনের সময় সেখানে কোনো পারমাণবিক উপাদান ছিল না। এদিকে জর্দানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি প্রত্যন্ত এলাকায় পড়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছিল, জর্দানের আকাবা বন্দর লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

ঘটনার পর জর্দান ইরানের ভারপ্রাপ্ত কূটনৈতিক প্রতিনিধিকে তলব করে হামলা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানায়। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে ‘অযৌক্তিক ও প্রকাশ্য ইরানি হামলা’ বলে উল্লেখ করে জানায়, জর্দানের নিরাপত্তা কোনোভাবেই আপসযোগ্য নয়।

অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জর্দানের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ যেন ইসরায়েলের ভূখণ্ডে না পড়ে, সে জন্য তারা একাধিক প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল আরো জানায়, পরে জর্দান সীমান্তের কাছে দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এইলাতের আশপাশে প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
 

ককরোচ পার্টির ‘সংসদে চলো’ কর্মসূচি : পুলিশের লাঠিচার্জ, বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট সেবা

অনলাইন ডেস্ক
ককরোচ পার্টির ‘সংসদে চলো’ কর্মসূচি : পুলিশের লাঠিচার্জ, বন্ধ মোবাইল ইন্টারনেট সেবা
ছবি : রয়টার্স

ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে সোমবার থেকে। পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্ত্বেও অধিবেশনের প্রথম দিনে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র (সিজেপি) হাজারো সমর্থক দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন।

মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা জন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে পদযাত্রার প্রস্তুতি নেন। তবে বিক্ষোভকারীদের মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে। 

বিক্ষোভকারীদের বেশির ভাগই ছিলেন তরুণ-তরুণী। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এসব ঘটনার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছেন।

তবে দিল্লি পুলিশ এই মিছিলের অনুমতি দেয়নি এবং রাস্তা ব্যারিকেড করা ও দাঙ্গা-নিয়ন্ত্রণকারী যানবাহন মোতায়েন করাসহ মধ্য দিল্লিজুড়ে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দিল্লির জন্তর মন্তরে সোমবার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও তাদের সমর্থকেরা ‘চলো সংসদে’ কর্মসূচি শুরু করতে জড়ো হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা বাড়তে থাকলে তাদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের সংঘর্ষ হয়। 

এর আগে, রবিবার দিল্লি পুলিশ এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি এবং এলাকায় বড় ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দিল্লির পাঁচটি মেট্রো স্টেশন, রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ বন্ধ রাখা হয়। এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় শত শত যাত্রী আটকা পড়েন। অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হয়। দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন রাজীব চকে বন্ধ প্রবেশ ও বের হওয়ার গেটের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি ও ভিড় দেখা যায়।

 

এর আগে শনিবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যখন সিজেপি-সমর্থিত আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালেও তিনি অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে চলতি বছরের মে মাসে একটি অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে যাত্রা শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আন্দোলনকারীরা নিজেদের ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকা নামে পরিচয় দেন।

গত এক মাস ধরে তারা দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের সঙ্গে কয়েকটি ছাত্র সংগঠনের সদস্যরাও যোগ দিয়েছেন। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুক অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে তার ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে এবং তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সোনম ওয়াংচুক সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি রসিকতা করে বলেন, প্রয়োজনে মৃত্যুর পরও তার আত্মা এই আন্দোলনের সঙ্গে থাকবে।

আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক দিল্লির সফদরজং হাসপাতাল থেকে একটি হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাকে অবৈধভাবে আটক করা হয়েছিল। জন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তিনি এখনও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি সমর্থকদের সংসদ অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিলকে সফল করার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

টানা তিন সপ্তাহের অনশনের কারণে ওয়াংচুক বর্তমানে শারীরিকভাবে দুর্বল অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ পরিস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

কথিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ওয়াংচুক এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছেন। তার বার্তায় তিনি আন্দোলনটিকে ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অবিচার এবং তার ভাষায় অবৈধ আটকের মতো ভয়ের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
 

বিশ্ববাজারে আরো বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববাজারে আরো বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
ছবি : রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার অতিক্রম করেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরো বেড়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচারের দাম ২ দশমিক ৬৯ ডলার বা ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯০ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছায়, যা ১১ জুনের পর সর্বোচ্চ। এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছিল, যা এপ্রিলের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক বৃদ্ধি।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২ দশমিক ১৯ ডলার বা ২ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়ায়। এটি ১২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়। গত সপ্তাহে ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা মার্চের পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক উল্লম্ফন।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। নৌ চলাচল নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়।

এলএসইজির তথ্য অনুযায়ী, রবিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের আটটির তুলনায় অর্ধেক। 

খাবার পৌঁছে দেওয়ার ফাঁকে লিখতেন কবিতা, ডেলিভারি রাইডার জিতলেন সাহিত্য পুরস্কার

অনলাইন ডেস্ক
খাবার পৌঁছে দেওয়ার ফাঁকে লিখতেন কবিতা, ডেলিভারি রাইডার জিতলেন সাহিত্য পুরস্কার
ছবি : সিনহুয়া।

খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজের ফাঁকে কাগজের টুকরোয় কবিতা লিখতেন ওয়াং জিবিং। সেই লেখালেখিই তাকে এনে দিয়েছে চীনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য সম্মাননা। ডেলিভারি রাইডারদের কঠিন ও সংগ্রামময় জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা তার কবিতা ‘লো ফ্লাইট’ সম্প্রতি লু শুন সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছে।

আধুনিক চীনা সাহিত্যের জনক হিসেবে পরিচিত লু শুনের নামেই এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী ওয়াং ২০১৯ সালের দিকে খাবার সরবরাহকারী রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে তার কবিতা ও প্রবন্ধ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এবং তিনি একজন পরিচিত লেখক হয়ে ওঠেন। 

ওয়াং জিবিং সেই ক্রমবর্ধমান শ্রমজীবী লেখকদের একজন, যারা নিজেদের সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে স্বীকৃতি অর্জন করছেন। তাদের লেখায় চীনের বিশাল ‘গিগ ইকোনমি’তে কাজ করা মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম, চাপ ও বাস্তবতার চিত্র উঠে আসে। ওয়াংয়ের জন্য এই মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কারটি এসেছে দীর্ঘ কয়েক দশক নানা খণ্ডকালীন ও কঠোর পরিশ্রমের কাজ করার পর।

১৫ জুলাই পুরস্কারজয়ের খবর প্রকাশিত হলে তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি খুবই উদ্বিগ্ন ও নার্ভাস ছিলাম। খবরটি প্রকাশের পর যেন স্বস্তি ফিরে আসে।’ তিনি আরো জানান, পুরস্কার পাওয়ার পর গণমাধ্যমের অতিরিক্ত আগ্রহ তাকে মানসিকভাবে বেশ চাপে ফেলেছিল।

লু শুন সাহিত্য পুরস্কারের সঙ্গে কত অর্থ দেওয়া হয়, তা বর্তমানে প্রকাশ করা হয় না। তবে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ছিল ১ লাখ চীনা ইউয়ান (প্রায় ১৪ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার)। চীনের জিয়াংসু প্রদেশে জন্ম নেওয়া ওয়াং জিবিং পারিবারিক আর্থিক সমস্যার কারণে কিশোর বয়সেই পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

ফুড ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ শুরু করার আগে তিনি নির্মাণশ্রমিক, আবর্জনা সংগ্রহকারী এবং রাস্তার দোকানে পণ্য বিক্রেতাসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তার লেখালেখির গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।

কঠিন জীবনসংগ্রামের মধ্যেও বই পড়ার প্রতি ওয়াং জিবিংয়ের আগ্রহ কখনো কমেনি। গত এক দশক ধরে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের কবিতা ও প্রবন্ধ প্রকাশ করে আসছেন।

২০২২ সালে তার ‘ম্যান ইন এ হারি’ শিরোনামের একটি কবিতা অনলাইনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কবিতাটি ২০১৯ সালের একটি বাস্তব ঘটনার ওপর ভিত্তি করে লেখা, যখন এক গ্রাহক ভুল ঠিকানা দেওয়ায় একটি ডেলিভারি সম্পন্ন করতে তাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি ‘ম্যান ইন এ হারি : পোয়েমস অব এ ফুড ডেলিভারি রাইডার’ নামে তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন।

মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার জিতলেও ওয়াং জানিয়েছেন, চাকরি ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তিনি অন্তত ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ডেলিভারি রাইডার হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে চান।

গ্লোবাল টাইমসকে ওয়াং জিবিং বলেন, ‘এখন জীবিকা নির্বাহের জন্য এই চাকরির ওপর আমার নির্ভর করতে হয় না। তবুও আমি এই কাজটি চালিয়ে যেতে চাই, কারণ এর পরিবেশ আমার ভালো লাগে এবং এটি আমাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখে। আমি সাধারণ জীবনযাপন করতে চাই। এই পুরস্কার আমার পরিচয় বা জীবনদর্শন বদলে দিতে পারবে না।’

২০২৪ সালে প্রকাশিত ‘লো ফ্লাইট’ হলো ডেলিভারি রাইডারদের জীবন ও অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা কবিতার একটি সংকলন। বইটি রচনার জন্য ওয়াং জিবিং প্রায় ২০০ জন ডেলিভারি রাইডারের সাক্ষাৎকার ও মতামত সংগ্রহ করেছিলেন। সংকলনের একটি উল্লেখযোগ্য পঙ্ক্তি হলো, ‘কে বলে ডানা মেললেই আকাশে উঁচুতে ওড়া? নিচুতে ওড়াও তো এক ধরনের ওড়া।’ এই লাইনটি সাধারণ মানুষের সংগ্রাম ও মর্যাদাকে তুলে ধরে।

ওয়াংয়ের এই সাফল্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন চীনে ক্রমশ বেশিসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষ সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও জীবনসংগ্রাম তুলে ধরছেন এবং সাহিত্য অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জন করছেন।

প্রাক্তন কুরিয়ার হু আনিয়ানের ২০২৩ সালে প্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘আই ডেলিভার পার্সেলস ইন বেইজিং’ চীনে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেরও নজর কেড়ে নেয়। বইটির ইংরেজি অনুবাদ গত বছর প্রকাশিত হয়েছে।

এ ছাড়া ‘আই অ্যাম ফ্যান ইউসু’ নামে একজন অভিবাসী শ্রমিকের আত্মজীবনীমূলক প্রবন্ধ ২০১৭ সালে চীনের ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা ওই লেখাটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে, গণমাধ্যমের অতিরিক্ত আগ্রহ ও চাপের কারণে লেখক ফ্যান ইউসুকে কিছু সময়ের জন্য নিজের বাড়ি ছেড়ে থাকতে হয়েছিল।

ওয়াং জিবিং যে লু শুন সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন, সেটির নামকরণ করা হয়েছে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রভাবশালী চীনা লেখক লু শুনের নামে। তিনি ব্যঙ্গাত্মক রচনা ও উপন্যাসের মাধ্যমে চীনের তৎকালীন সমাজব্যবস্থার সমালোচনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।

চীনা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে লু শুন আজও ব্যাপকভাবে স্মরণীয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তার লেখাগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যেও নতুনভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কয়েক বছর আগে তার একটি উপন্যাসের চরিত্র ‘কং ইজি’ চাকরি খুঁজতে হিমশিম খাওয়া চীনা তরুণদের হতাশা ও মোহভঙ্গের প্রতীক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি জনপ্রিয় ‘মিম’-এ পরিণত হয়েছিল।