• ই-পেপার

কাজ না হলে ময়লা পানিতে নেমে ধর্মঘট করব : শামীম ওসমান

চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঝালকাঠি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঝালকাঠি
লোডশেডিংয়ে মোমের আলোয় পড়ছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা তীব্র লোডশেডিংয়ে পড়ছেন মোমের আলো জ্বালিয়ে। পাশেই তার বাবা মেয়েকে পাখা দিয়ে বাতাস করে দিচ্ছেন। ঝালকাঠিতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে সায়মার পড়ালেখা। এতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা তার চোখে মুখে। গত দুই মাস ধরে দিন ও রাতে কয়েক দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে সায়মার মতো শত শত শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন। এতে অভিভাবকরাও শঙ্কিত।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ঝালকাঠিতে তীব্র গরমে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। দিন ও রাতে সমান তালে হচ্ছে লোডশেডিং। তীব্র গরমে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন গ্রাহকরা। লোডশেডিং বন্ধ, গ্রাহকদের হয়রানি এবং বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। এতেও মিলছে না কোনো প্রতিকার।

লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। রাতের বেলা কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেউ আবার চার্জারের আলোয় বেচাকেনা করছেন। ক্ষতি হচ্ছে অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও। কলকারখানার উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। সন্ধ্যার পরে বিদ্যুৎ না থাকলে ছোট এই জেলা শহরটি ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ঝালকাঠি জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায়ও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি এবং ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। এসব সমস্যার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝালকাঠি জেলায় ওজোপাডিকোর গ্রাহকদের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রাহকরা পাচ্ছেন মাত্র ৬ মেগাওয়াট। তাই ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে জেলাবাসী। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, দিন ও রাতে সব মিলিয়ে ৬-৭ বার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং। তীব্র গরমে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।

নলছিটি শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাতে লোডশেডিং হলে ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা করতে পারছে না। ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুম ভেঙে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আমরা যাবো কোথায়?

নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা জানায়, পরীক্ষার সময় ঘনঘন লোডশেডিং আমাকে বিপদে ফেলেছে। মোম জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। গরমে পড়া যায় না। এতে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হতে পারে।

ঝালকাঠি ওজোপাডিকো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় কম মেগাওয়াট পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমাদের জেলায় চাহিদা রয়েছে ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু পাচ্ছি ৬ মেগাওয়াট। আমরা বেশি পেলে গ্রাহকরাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে।

স্টপেজসহ পাঁচ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন অবরোধ

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
স্টপেজসহ পাঁচ দফা দাবিতে চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন অবরোধ
ছবি : কালের কণ্ঠ

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন কার্যকর এবং স্টেশনের অবকাঠামো উন্নয়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। এ সময় আন্দোলনকারীরা প্রায় দুই ঘণ্টা কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রাখেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে জয়রামপুর ট্রেন সুবিধা সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একসময় গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার শিকার। আন্তঃনগর সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি না থাকায় প্রতিদিন শত শত যাত্রীকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল, টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে যাত্রীসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

তারা অবিলম্বে জয়রামপুর স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ চালু, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, টিকিটিং ব্যবস্থা চালু, লুপ লাইন কার্যকর এবং স্টেশনের সার্বিক উন্নয়নের দাবি জানান। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশনের নামে পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি বেতন-ভাতা নিলেও তারা স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যাও দাবি করেন তারা।

হাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, ‘জয়রামপুর স্টেশনের দাবিগুলো কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের ন্যায্য দাবি। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু বলেন, ‘জয়রামপুর রেলওয়ে স্টেশন এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা। কিন্তু প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে স্টেশনটি তার গুরুত্ব হারাতে বসেছে।’

খবর পেয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দাবিগুলো যৌক্তিক। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’

ইউএনওর আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অপমানে শ্বশুরের আত্মহত্যা

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, অপমানে শ্বশুরের আত্মহত্যা
প্রতীকী ছবি

পুত্রবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠে শ্বশুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ ছাড়াও স্থানীয় সালিসে অপমানের জের ধরে সোহরাব উদ্দিন (৬০) নামে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে নিজ বাড়ির পেছনের একটি আমগাছের ডাল থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এমন ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মেরাকোনা গ্রামে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের পুত্রবধূ গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান। সে সময় শ্বশুর সোহরাব উদ্দিন তাকে ঝাপটে ধরে ধর্ষণচেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার পরদিনই ক্ষোভে ও অপমানে পুত্রবধূ তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি চলে যান। সেখান থেকেই তিনি শ্বশুর সোহরাবের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। থানায় অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য পর্যায়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সোহরাবের বাড়ির সামনেই গত শুক্রবার একটি সালিস বৈঠক বসে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই সালিসে সোহরাব উদ্দিনকে চরমভাবে অপমান ও হেনস্থা ছাড়াও জরিমানা করা হয়। সেই সঙ্গে বলা হয় সকল জমিজমা চার ছেলের নামে লিখে দিয়ে বাড়ি ছাড়তে। এর মধ্যে বলে দেওয়া হয় আগামী বুধবার ফের সালিস হবে। ওই দিনই সব ফয়সালা করা হবে। এর মধ্যে গত সোমবার হঠাৎ নিখোঁজ হন সোহরাব। পরিবারের লোকজন অনেক স্থানে সন্ধান করেও তার হদিস মিলেনি। পরে জানা যায়, নিজ বাড়ির পেছনে একটি আমগাছের ডালে ঝুলে আত্মহত্যা করেন সোহরাব।

স্থানীয়রা জানায়, লোকলজ্জা ও সালিসে অপমানের গ্লানি সহ্য করতে না পেরে সোহরাব আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিহতের ছেলে উজ্জল মিয়া জানান, তাকে জানিয়েই স্ত্রী তার বাবার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছিল। এর মধ্যে দরবারে বাবাকে ডেকে নিয়ে শাসন করে দরবারিরা। এর মধ্যে আরেকটি দরবারের কথা শুনে আগেই বাড়ি ছাড়েন। পরে আমগাছের ডালে লাশ পাওয়া যায়।

সালিসে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া মিল্টন ও স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার ছাড়াও অনেকেই। চেয়ারম্যানের মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে মেম্বার বাবুল সালিসে থাকার কথা স্বীকার জানান, নারীর অভিযোগ ছিল রাতে দাড়িওয়ালা এক লোক থাকে মুখ চেপে ধরে মারধর করে। এ ঘটনাটি নিয়ে যেহেতু গ্রামে নানা গুঞ্জন ছিল তাই দরবারে সোহরাবকে শাসন করে বলা হয়েছিল হয় তিনি বাড়িতে থাকবেন না হয় ছেলেরা। এই জন্য আরেকটি সালিসের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পুত্রবধূর দেওয়া লিখিত অভিযোগ তদন্ত করেছিলেন নান্দাইল থানার উপপরিদর্শক পলাশ। তিনি জানান, তদন্ত করতে গিয়ে বাদীকে খোঁজে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রেললাইনে মুঠোফোনে ব্যস্ত স্কুলছাত্র, ট্রেনের ধাক্কায় গেল প্রাণ

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
রেললাইনে মুঠোফোনে ব্যস্ত স্কুলছাত্র, ট্রেনের ধাক্কায় গেল প্রাণ
স্কুলছাত্র শাহরিয়ার নাঈম জয়। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার লাকসামে রেললাইনের ওপর দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় শাহরিয়ার নাঈম জয় (১৬) নামের এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নিহত জয় লাকসাম পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরকূল গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। তিনি লাকসাম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম পৌরশহরের সাতবাড়িয়া লেভেল ক্রসিংয়ের প্রায় ১৫০ গজ দক্ষিণে দুটি রেললাইনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে কথা বলছিল জয়। এ সময় চট্টগ্রামগামী নাসিরাবাদ এক্সপ্রেস ট্রেন ডাউন লাইন দিয়ে অতিক্রম করার সময় সে পাশের আপ লাইনের দিকে সরে যায়। ঠিক তখনই ঢাকাগামী আন্তঃনগর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন এসে তাকে ধাক্কা দিলে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় এক দোকানদার জানান, ট্রেন আসতে দেখে তিনি জোরে চিৎকার করে জয়কে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কানে মুঠোফোন থাকায় তিনি সেই ডাক শুনতে পাননি।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহটি রেললাইনের পাশে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান।

স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও একই স্থানে রায়হান নামের এক তরুণ ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হন। তারা রেললাইনের ওপর বা আশপাশে মুঠোফোন ব্যবহার এবং অসতর্কভাবে চলাচল থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি মো. জসিম উদ্দিন খোন্দকার বলেন, ‘ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে নিহতের বাড়িতে যায় পুলিশ। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই নিহতের মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে ফেলে পরিবারের সদস্যরা।’

কাজ না হলে ময়লা পানিতে নেমে ধর্মঘট করব : শামীম ওসমান | কালের কণ্ঠ