• ই-পেপার

হাটে উঠেছে একটি গরু!

পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের দুঃখ প্রকাশ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের দুঃখ প্রকাশ
ছবি: কালের কণ্ঠ

চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে ৯টায় শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ। তিনি পরীক্ষার্থীদের জলাবদ্ধতা ও গর্তে পড়ার দুর্ভোগ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সোমবারের পরীক্ষা গ্রহণে শিক্ষা বোর্ডের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। ভোরে আকস্মিক ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষা স্থগিত করার সুযোগ ছিল না। তবে পরীক্ষার্থীরা যেন নির্বিঘ্নে পরীক্ষা শেষ করে নিরাপদে বাসায় ফিরতে পারে, সে লক্ষ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, শিক্ষা বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।

প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, বুধবারের এইচএসসি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র পরিবর্তন করে ভাষা সৈনিক অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোমবার (১৩ জুলাই) টানা ভারি বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি স্থানে কোমরসমান পানি পেরিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পরবর্তী পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনও করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. শিপন মিয়া, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সহযোগী অধ্যাপক সালাহউদ্দিন, উপসচিব (একাডেমিক) আব্দুল কাদির, কলেজ পরিদর্শক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম মজুমদার, বিদ্যালয় উপপরিদর্শক আখতার হোসেন প্রমুখ।

গাজীপুরে মাদকবিরোধী মিছিলে দুর্বৃত্তদের ফাঁকা গুলি, আটক ১

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
গাজীপুরে মাদকবিরোধী মিছিলে দুর্বৃত্তদের ফাঁকা গুলি, আটক ১
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক মিছিলে দুর্বৃত্তদের ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এরই মাঝে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের নোয়াপাড়া এলাকার চৌরাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নোয়াপাড়া এলাকায় মাদকের বিস্তার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি মিছিলের আয়োজন করেন। মিছিল চলাকালে কয়েকটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেট কারে করে একদল ব্যক্তি সেখানে এসে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে মিছিলে অংশ নেওয়া লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালিয়ে স্থানীয় পোটান এলাকার শামীম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’

পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ভেসে গেছে ১৪০০ পুকুরের মাছ

কাউছার আলম, পটিয়া (চট্টগ্রাম)
পটিয়ায় বন্যার তাণ্ডবে ভেসে গেছে ১৪০০ পুকুরের মাছ
ছবি: কালের কণ্ঠ

দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম মৎস্য ও পোনা উৎপাদনের কেন্দ্র পটিয়া উপজেলা। উপজেলার শত শত বাণিজ্যিক মাছের খামার ও রেণু উৎপাদন কেন্দ্র থেকে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার মাছ ও পোনা সরবরাহ হয় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। এই খাতকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো পরিবার। কিন্তু এবারের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় সেই সম্ভাবনাময় মৎস্য খাত নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

উপজেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যায় প্রায় ১ হাজার ৪০০টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব। ইউনিয়নভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুকুরের পানি উপচে পড়ে মাছ ও পোনা পাশের খাল, বিল ও নদীতে চলে গেছে। কোথাও বাঁধ ভেঙে গেছে, কোথাও আবার পানির প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে কয়েক মাসের লালন-পালন করা বাজারজাত মাছ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন রেণু উৎপাদনকারী খামারিরা।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাইদগাঁও, কেলিশহর, দক্ষিণ ভূর্ষি ও ধলঘাট ইউনিয়নে রেণু উৎপাদনকারী খামারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে খরনা, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, ছনহরা, আশিয়া, কাশিয়াইশ, কুসুমপুরা ও পটিয়া পৌরসভা এলাকায় বাণিজ্যিক মাছচাষিদের অধিকাংশ পুকুর পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে রুই, কাতলা, মৃগেল, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ভেসে গেছে। শুধু মাছ হারানোই নয়, পুকুরের বাঁধ, স্লুইস, জাল, পাম্প, খাদ্য ও অন্যান্য অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করতেও বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন খামারিরা। বহু চাষি এক মৌসুমের পুরো বিনিয়োগ হারিয়েছেন। পটিয়ায় মোট পুকুরের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার ৫০০, পুরো চট্টগ্রামের দুই-তৃতীয়াংশ নার্সারি পটিয়াতে। পটিয়া থেকেই দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় মাছ চাষিরা পোনা নিয়ে যায়।

00

পটিয়া পৌরসভার হক ফিশারিজের মালিক এনামুল হক বলেন, ‘এক রাতের বন্যায় আমার কয়েকটি পুকুরের প্রায় সব মাছ বেরিয়ে গেছে। শুধু মাছ নয়, পুকুরের অবকাঠামোও নষ্ট হয়েছে। লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহযোগিতা ছাড়া নতুন করে উৎপাদনে ফেরা কঠিন।’

মৎস্যচাষি রকিব হাসান বলেন, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছিলাম। বিক্রির সময় ঘনিয়ে এসেছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে সব মাছ ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি দেব কিভাবে, সংসার চালাব কিভাবে—সেটাই সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা।

খামারিদের অভিযোগ, বন্যার আগাম সতর্কতা থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় মাছ রক্ষায় কোনো কার্যকর কারিগরি সহায়তা বা জরুরি প্রস্তুতি ছিল না। ফলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অধিকাংশ পুকুরের মাছ বেরিয়ে যায়। তবে উপজেলা মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারের পরিস্থিতি ছিল ব্যতিক্রম।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে বলেন, ‘গত কয়েক বছরে এমন অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের ঘটনা ঘটেনি। ফলে অনেক চাষির পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। যেসব পুকুর এখনো পুরোপুরি তলিয়ে যায়নি, সেখানে জাল বা বাঁশের বানা দিয়ে মাছ আটকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বন্যার পর পানির গুণগত মান নষ্ট হওয়ায় মাছের রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রতি শতাংশে ১ থেকে ১.৫ কেজি চুন প্রয়োগ এবং আপাতত সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের প্রকৃত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে, যাতে সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন সহায়তা নিশ্চিত করা যায়।’

মৎস্যখাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘পটিয়ার রেণু উৎপাদন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব শুধু উপজেলাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী মৌসুমে পোনার সংকট দেখা দিলে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলাসহ আশপাশের জেলার মাছচাষও ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে মাছের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

স্থানীয় চাষিদের দাবি, ক্ষতির তালিকা তৈরির পাশাপাশি দ্রুত আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা ও মাছের খাদ্য বিতরণ, সহজ শর্তে পুনর্বাসন ঋণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর সংস্কারের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে। অন্যথায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্যতম ‘মৎস্য ও পোনার ভাণ্ডার’ হিসেবে পরিচিত পটিয়ার এই সম্ভাবনাময় খাত দীর্ঘমেয়াদি সংকটে পড়ে যেতে পারে।11এদিকে পটিয়ার মৎস্য খাত শুধু মাছ উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে রেণু উৎপাদন, মাছের খাদ্য ব্যবসা, পরিবহন, বরফকল, আড়ত, খুচরা বিক্রেতা এবং হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। ফলে এই বন্যার প্রভাব পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দ্রুত পুনর্বাসন করা না গেলে আগামী মৌসুমে মাছ উৎপাদন কমে যেতে পারে। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দামও বাড়তে পারে।

ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিদের দাবি, শুধু ক্ষতির তালিকা করলেই হবে না জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক অনুদান, বিনা মূল্যে পোনা বিতরণ, মাছের খাদ্য সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে এবারের বন্যার ক্ষত কাটিয়ে ওঠা অনেক খামারির পক্ষেই সম্ভব হবে না।

অন্যদিকে কৃষি ও প্রাণিসম্পদের পর এবার মৎস্য খাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে পটিয়ায়। প্রাথমিক ক্ষতির অঙ্ক ৩ কোটি টাকা হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে, ইউনিয়নভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের পর ক্ষতির পরিমাণ আরো অনেক বাড়তে পারে। তাই দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং কার্যকর পুনর্বাসনই এখন পটিয়ার মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফুলেল অভ্যর্থনায় ১২ নবনিযুক্ত শিক্ষক

মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফুলেল অভ্যর্থনায় ১২ নবনিযুক্ত শিক্ষক
ছবি: কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ১২ জন শিক্ষক ও একজন হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে শিক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কলেজের অডিটরিয়াম কক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভা শেষে নবনিযুক্ত শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে তাদের বরণ করে নেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন এবং ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ফজলুর রহমান মেমোরিয়াল কলেজ অব টেকনোলজির অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং মডেল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আব্দুল আউয়াল, অভিভাবক সদস্য অধ্যাপক মো.গিয়াস উদ্দিনসহ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রতিষ্ঠানের অফিস সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে ‘বুড়িচং মডেল একাডেমি’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে স্কুল শাখাটি কুমিল্লা জেলায় সুনাম অর্জন করে। চলতি বছর ২০২৬ সালে (১২ ফেব্রুয়ারি) কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনে কলেজ শাখা চালুর অনুমতি পায় প্রতিষ্ঠানটি।

স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ৫০ জনেরও বেশি প্রার্থী আবেদন করেন। গত ২৪ জুন অনুষ্ঠিত নিয়োগ ও নির্বাচনীয় পরীক্ষায় বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ ও নির্বাচনী বোর্ড কর্তৃক ১২ জন শিক্ষক এবং একজন হিসাব সহকারী নির্বাচিত হন।

নবনিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন— হিসাববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল হক, ইংরেজি বিভাগের খাদিজা খাতুন, বাংলা বিভাগের আবুল বাশার মুহাম্মদ গোলাম আযম, গণিত বিভাগের শিক্ষিকা তাসনিম জাহান তন্নি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন বিভাগের রমজান হোসেন, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পলাশ কুমার সরকার, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ফাতেমা আক্তার, জীববিজ্ঞান বিভাগের আব্দুল্লাহ আল সজল, রসায়ন বিভাগের সুলতানা আক্তার, সমাজকর্ম বিভাগের সাইয়্যেদুল মোরসালিন, বুড়িচং মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবনিযুক্ত ১২ শিক্ষক ও হিসাব সহকারীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। 

অনুষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ আবু তাহের বলেন, ‘একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু ভালো ফলাফলই নয়, একজন শিক্ষার্থীকে আদর্শ মানুষ হিসেবেও গড়ে তোলে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সুশৃঙ্খল শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের কমিটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ প্রতিষ্ঠান অত্র অঞ্চলের অন্যতম মডেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’  তিনি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে যারা পরামর্শ, শ্রম ও সহযোগিতা দিয়ে অবদান রেখেছেন তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. কবির হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা এবং কলেজ শাখার শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি আরো এগিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী। তিনি আরো বলেন, ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে সব বিভাগের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি চলবে, এতে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও অভিভাবকদের সহযোগিতা কামনা করেন। বিশেষ করে মেধাবী গরিব ও (এ-প্লাস) প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পড়ার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

হাটে উঠেছে একটি গরু! | কালের কণ্ঠ