টানা ভারি বর্ষণে মাটি নরম হওয়ায় পা পিছলে পাহাড় থেকে পড়ে এক বন্য মা হাতির মৃত্যু হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ রেঞ্জের সদর বিটের শিয়াল্যাঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রবিবার (১২ জুলাই) সকাল পৌনে ১০টার দিকে চিকাৎসাধীন অবস্থায় হাতিটির মৃত্যু হয়।
বন বিভাগ জানায়, গতকাল শনিবার টেকনাফ রেঞ্জের সদর বিটের শিয়াল্যাঘোনা এলাকার একটি পাহাড় থেকে হাতিটি নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয়। টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে যাওয়ায় পা পিছলে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে হাতিটির পেছনের দুই পা, বুক ও পেটে গুরুতর আঘাত লাগে।
দুর্ঘটনার পর বন বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরে টেকনাফ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত হন। ক্ষতস্থানে সেলাইসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত হাতিটি মারা যায়।
টেকনাফ রেঞ্জের বন কর্মকর্তা আবদুর রশিদ বলেন, ‘আহত হাতিটির জীবন রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকাল পৌনে ১০টার দিকে এটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস. এম. অনীক চৌধুরী জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হাতিটি পড়ে থাকায় উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। বর্তমানে চিকিৎসক দল ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে শনিবার রাতে ঘটনাটি জানার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আহত হাতিটির চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশনার পর সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, চলমান ভারি বর্ষণের কারণে পাহাড়ি বনাঞ্চলের মাটি নরম হয়ে পড়েছে। এতে হাতিসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর দুর্ঘটনায় পড়ার ঝুঁকি বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কাশেম বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দ ও হাতির চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, একটি মা হাতি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে বন বিভাগের সদস্যরা এসে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রাণিটিকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।




