kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

গায়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আড়াই বছর তালাবদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিন!

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি   

১৯ জুন, ২০২১ ২০:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড়াই বছর তালাবদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিন!

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটি প্রায় আড়াই বছর যাবৎ বিকল হয়ে পড়ে আছে। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হওয়া ওই মেশিনটি মেরামত করা হয়নি। এদিকে গত বছরের ডিসেম্বরে সেখানে অপর একটি নতুন এক্স-রে মেশিন আনা হয়েছে। তখন থেকে নতুন ওই মেশিনটিও কক্ষের ভিতরে তালাবদ্ধ হয়ে আছে। এতে সরকারি ওই হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা পেতে আসা অনেক রোগী বিপাকে পড়ছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এক্স-রে পরীক্ষা করাতে না পেরে তারা বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

জানা যায়, পঞ্চাশ শয্যাবিশিষ্ট গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি ব্যাস্ততম দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। স্বাস্থ্য সেবা পেতে উপজেলা এলাকার দেড় লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। সেখানে প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক বিভিন্ন রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিন অকার্যকর থাকায় সরকারি ওই হাসপাতালে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনিশিয়ান (রেডিওলজি) মো. কামরুল হাসান জানান, জাপানের তৈরি 'একোমা-১০০' মডেলের এনালগ এই এক্স-রে মেশিনটি গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে প্রথম স্থাপন করা হয় ১৯৮৫ সালে। তখন থেকে এই হাসপাতালে আসা বিভিন্ন রোগী প্রয়োজনীয় এক্স-রে পরীক্ষা সেবা পেয়ে আসছিল। কিন্তু বৈদ্যুতিক কারণে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ২০১৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই এক্স-রে মেশিনটি বিকল হয়ে পড়ে আছে। অনেক চেষ্টা করেও বিকল মেশিনটি সচল করা সম্ভব হয়নি। পরে গত বছরের ডিসেম্বরে সেখানে নতুন একটি এক্স-রে মেশিন আনা হয়। কিন্তু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারের অভাবে নতুন মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. নিতাই কুমার ঘোষ বলেন, এক্স-রে মেশিন বিকল থাকায় হাসপাতালে আসা অনেক রোগীর প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি না।

গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা মুন্সী জানিয়েছেন, হাসপাতালে আসা অনেক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় এক্স-রে পরীক্ষা করাতে না পেরে তারা বাইরের বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই নতুন আনা এক্স-রে মেশিনটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা খুব জরুরি।

গোয়ালন্দ পৌরসভার স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, 'সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে পুরনো এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ প্রায় আড়াই বছর যাবৎ বিকল হয়ে পড়ে আছে। নতুন আনা মেশিমনটিও এক্স-রে কক্ষের ভেতরে তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে আছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আসিফ মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়রের অভাবে নতুন এক্স-রে মেশিনটি চালু করা যাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।



সাতদিনের সেরা