• ই-পেপার

'ইসলাম না মানলে দেশ ছাড়ুন' ৩ হিন্দু পরিবারকে গায়েবি চিঠি!

লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, আহত মেয়ে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু, আহত মেয়ে
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কল্যাণী সাহা (৫৫) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আহত হয়েছেন তাঁর ছোট মেয়ে বৃষ্টি সাহা। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর পৌরসভার সমসেরাবাদ এলাকার কার্তিক সাহা বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কল্যাণী সাহা ওই এলাকার মৃত পরেশ সাহার স্ত্রী।

প্রতিবেশীরা জানান, কয়েক বছর আগে কল্যাণী সাহার স্বামী মারা যান। তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে দুইজনের বিয়ে হয়েছে। ছোট মেয়েকে নিয়ে তিনি বসবাস করতেন। তাদের ঘরের স্টিলের দরজার ওপর দিয়ে একটি বৈদ্যুতিক তার নেওয়া হয়েছিল। কোনোভাবে দরজাটি বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। ঘটনার সময় দরজায় হাত দিলে কল্যাণী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ সময় মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ছোট মেয়ে বৃষ্টি সাহাও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।

নিহতের ভাতিজা রাজন সাহা বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর চাচিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।

পার্বতীপুরে অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
পার্বতীপুরে অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীদের মাঝে বকনা বাছুর বিতরণ
ছবি : কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুরে অতি দরিদ্র আদিবাসী পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন এবং আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বকনা বাছুর বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় উপজেলার মন্মথপুরে কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ) চত্বরে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন। সভাপতিত্ব করেন কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ)-এর নির্বাহী পরিচালক মো. মতিউর রহমান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা পবিত্র কুমার। কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ম্যাপ ইন সিবিআর প্রকল্পের সিবিআর অফিসার সাজ্জাদুর রহমান।

বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহযোগিতায় এবং কাম টু ওয়ার্ক (সিটিডাব্লিউ), মন্মথপুর, চাকলাবাজার, পার্বতীপুরের বাস্তবায়নে আয় বৃদ্ধিমূলক গাভি পালন কর্মসূচির আওতায় বারোকোনা চন্ডিপুর গ্রামের ছয়জন অতি দরিদ্র আদিবাসী নারীর মধ্যে বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়।

উপকারভোগীরা হলেন মারসানী হেম্ব্রম, নীলা মার্ডি, দুলালী টুডু, আরতি পাউরিয়া, নকশী হাসদা এবং সোনামনি হেম্ব্রম।

আয়োজকরা জানান, এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো গাভি পালন করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি তাদের পারিবারিক আয় বৃদ্ধি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আবাসিক হোটেলে গৃহবধূকে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
আবাসিক হোটেলে গৃহবধূকে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার ইভ্যালি আবাসিক হোটেল হত্যাকাণ্ডের শিকার গৃহবধূ শান্তা বেগমের (৩৩) স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর পিবিআই। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাইফুল ইসলাম নাটোর সদরের চরলক্ষ্মীকোল গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরের আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া থেকে স্ত্রী শান্তাকে নিয়ে গার্মেন্টে কাজ করতেন। নিহত শান্তা বেগম চরলক্ষ্মীকোল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই দুপুরে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে শান্তা বেগম ও সাইফুল ইসলাম ইভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নিয়ে ওঠেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া খবর পেয়ে বাসন থানা পুলিশ ওই কক্ষটি থেকে শান্তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে। তার গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন। পরদিন মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় গাজীপুর পিবিআই। প্রযুক্তি ব্যবহার করে বুধবার রাতে ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, গ্রেপ্তার সাইফুল জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন বিয়ের পর তিনি জানতে পারেন শান্তার আরো দুটি বিয়ে হয়েছিল। ওই সংসারে তার দুটি ছেলে-মেয়ে রয়েছে। এসব নিয়ে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ ও নানা সন্দেহ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। এক পর্যায়ে সাইফুল শান্তার ব্যাগে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলায় ও বুকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে নিহতের মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

ধসে পড়া জীর্ণ ঘরটিই একমাত্র অবলম্বন পরিবারটির

শওকত ইসলাম, রামু (কক্সবাজার)
ধসে পড়া জীর্ণ ঘরটিই একমাত্র অবলম্বন পরিবারটির
ছবি: কালের কণ্ঠ

মাটির ঘরটি ছিল একমাত্র আশ্রয়। টানা বৃষ্টিতে ঘরটির দেয়ালের বড় অংশই ধসে পড়েছে। চালের ওপর টাঙানো পলিথিন বেয়ে ঘরের ভেতর পড়ছে টপটপ বৃষ্টির পানি। সেই পানি আটকাতে ব্যবহার করতে হচ্ছে হাড়ি-পাতিল।

এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস আট সদস্যের পরিবারটির। গৃহকর্তা দিল মোহাম্মদ, তার স্ত্রী রোকেয়া বেগম। দিল মোহাম্মদ শারীরিকভাবে অচলপ্রায়, আর রোকেয়ার এক চোখ নষ্ট। সঙ্গে তাদের ছয় মেয়ে। চার মেয়ে পড়াশোনা করে। তাদের পড়ার টেবিল দূরে থাক, বর্ষা মৌসুমে ঘরের ভেতর দাঁড়ানোর মতো শুকনো জায়গা থাকে না। বইপত্র রাখা হয় পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বস্তার ওপর।

পরিবারটির বসবাস কক্সবাজারের রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম জাউচপাড়া এলাকায়। সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

স্থানীয়রা জানায়, সম্প্রতি ভারি বৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে ঘরটির মাটির দেয়ালের বড় অংশ ধসে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। যেকোনো সময় পুরো ঘরটি ভেঙে পড়তে পারে। সেই আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিল মোহাম্মদ আগে দিনমজুরের কাজ করতেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাও করতে পারেন না। অন্যদিকে স্ত্রী রোকেয়া বেগম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দুই মেয়ে পরিবারের অসম্মতিতে গোপনে বিয়ে করলেও এখন থাকছেন একসঙ্গে। ফলে ছয় মেয়ের খাবার, পোশাক ও লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। 

পরিবারটির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা গর্জনিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসায় পড়াশোনা করে। সে বলে, ‘আমার মা-বাবা দুজনই অচলপ্রায়। আমাদের খাওয়া, পড়াশোনা ও থাকার ঘর ভেঙে গেছে। আমরা এখন অসহায়। আমাদের দেখার কেউ নেই। সবার সহযোগিতা চাই।’

দিল মোহাম্মদ বলেন, ‘আগে দিনমজুরের কাজ করতাম। পরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর আগের মতো কাজ করতে পারি না। হাঁটাচলাও করতে কষ্ট হয়। ছয় মেয়ে নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’

রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আগে মানুষের ক্ষেত-খামারে কাজ করে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ টাকা মজুরি পেতাম। পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করেও প্রতি মাসে কিছু আয় হতো। এসব আয়ের টাকা দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও সংসারের প্রয়োজন মেটানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে একমাত্র ঘরটির মাটির দেয়াল ধসে পড়েছে। ছয় মেয়েকে নিয়ে এখন কোথায় থাকব, কিভাবে সংসার চালাব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

গর্জনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মো. শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে পরিবারটির মাটির দেয়ালের ঘর ভেঙে গেছে। বাবা-মা দুজনই প্রায় অচল। তাদের মেয়েরা পড়াশোনা করতে চায়। সরকারের সহযোগিতা ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

স্থানীয় সমাজকর্মী মুহিবুল্লাহ চৌধুরী জিল্লু বলেন, ‘পরিবারটির জন্য দ্রুত একটি বাসযোগ্য ঘর প্রয়োজন। পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নেওয়া দরকার। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘কালের কণ্ঠের রামু প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিবারটির বিষয়ে জানতে পেরেছি। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ভাতা, বাসস্থানের ব্যবস্থা এবং মেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
 

'ইসলাম না মানলে দেশ ছাড়ুন' ৩ হিন্দু পরিবারকে গায়েবি চিঠি! | কালের কণ্ঠ