• ই-পেপার

১০ পুলিশ সদস্যের গায়ে ১০ গোপন ক্যামেরা

চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে প্রাণ গেল বৃদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ট্রেনে কাটা পড়ে আয়েশা বেগম (৬০) নামের এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। রবিবার(১২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মুন্সিগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত আয়েশা বেগম একই উপজেলার গড়গড়ি গ্রামের মৃত আজগার আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার বেলা ১২টার দিকে আয়েশা বেগম মুন্সিগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় আসেন এবং ট্রেন আসার সময় জানতে চান। এরপর দুপুর পৌনে ১টার দিকে খুলনাগামী ডাউন মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেন এলে তিনি চলন্ত ট্রেনের সামনে গিয়ে রেললাইনে মাথা দিয়ে দেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জানান, আয়েশা বেগম শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে অসুস্থ, তাই তাদের পেছনে অনেক খরচ লাগে যা নিয়মিত জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। সংসারেও ছিল অভাব, এসব কারণে আয়েশা বেগম আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জগদীশ বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে মাথা দিয়ে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে নিহত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।’

নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার

মাদারীপুর প্রতিনিধি
নাশকতা মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান আ. রহিম বেপারী। সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ. রহিম বেপারীকে (৬৮) নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার আ. রহিম বেপারী ভদ্রাসন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের নডু বেপারীর কান্দি গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত নডু বেপারীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার সকাল ৯টার দিকে আ. রহিম বেপারী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে নিজ কক্ষে বসে পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। দুপুর ১২টার দিকে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

শিবচর থানার ওসি কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আ. রহিম বেপারীর বিরুদ্ধে নাশকতা আইনের একটি মামলা রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

নীলফামারীরে ট্রাকচাপায় নিহত ৪

নীলফামারী সংবাদদাতা
নীলফামারীরে ট্রাকচাপায় নিহত ৪
ছবি: কালের কণ্ঠ

নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় ট্রাকের ধাক্কায় একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান দুমড়েমুচড়ে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো একজন। তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার পাঙ্গামটুকপুর-বোড়াগাড়ী নদীয়া পাড়া সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহত ব্যক্তিরা হলেন— ডোমারের নাদিয়াপাড়া এলাকার অলি বর্মনের ছেলে ও ভ্যানচালক পরিমল বর্মন (৪০), একই এলাকার প্রদীপ বর্মনের স্ত্রী প্রতিমা রানি (২৮) এবং তার দুই ছেলে পিতোসা (৮) ও যাদব (৪)। নিহত প্রতিমা, পিতোসা ও যাদব একই পরিবারের সদস্য।

ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লা হাবিব এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ঘটনা শোনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কাজ চলছে।’

মণিরামপুর

‘দুই কোটি টাকা’ নিয়ে সমিতির পরিচালক উধাও

আমানত রেখেছিলেন ৪০০ গ্রাহক দ্রুত প্রশাসনের পদক্ষেপ দাবি

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
‘দুই কোটি টাকা’ নিয়ে সমিতির পরিচালক উধাও
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণা গ্রামে প্রত্যয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতির কার্যালয়ের সামনে শুক্রবার অবস্থান নেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। ছবি : সংগৃহীত

‘স্বামী-স্ত্রী মিলে শ্রমিকের কাজ করে অনেক কষ্টে ১২ লাখ টাকা জমিয়েছিলাম। ছেলেমেয়ের ভবিষ্যৎ আর একটি ঘর নির্মাণের স্বপ্ন ছিল। ১০ শতাংশ লাভের আশায় সেই টাকা আমানত রাখছিলাম সমিতিতে। এখন জানতে পারলাম সমিতির পরিচালক উধাও। মনে হচ্ছে জীবনের সব পরিশ্রম মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল।’

কথাগুলো বলছিলেন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের হরিণা গ্রামের বাসিন্দা রিনা বিশ্বাস। তার মতো ইউনিয়নের প্রায় ৪০০ গ্রাহক আমানত রেখেছিলেন হরিণা গ্রামে অবস্থিত প্রত্যয় সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন সমবায় সমিতিতে। সম্প্রতি সমিতির পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু চার শতাধিক গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছেন বলে অভিযোগ তাদের। 

এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা সমিতির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গ্রাহকদের চাপের মুখে সমিতির পরিচালকের পরিবারের সদস্য ও কর্মচারীরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ১০ থেকে ১২ শতাংশ লাভের আশ্বাসে এলাকার সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আমানত ও সঞ্চয় সংগ্রহ করে আসছিল সমিতিটি। গত ৪ জুলাই তারা জানতে পারেন, পরিচালক প্রভাসিন্ধু বিশ্বাস সেন্টু সমিতির বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এর পর থেকেই কার্যালয়ে তালা ঝুলছে এবং পরিচালক কিংবা দায়িত্বশীল কারো সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সরেজমিন সমিতির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দেখা যায় কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। এ সময় কথা হয় সেখানে  গ্রাহক দাবি করা কয়েকজনের সঙ্গে। এ সময় প্রভাতী বিশ্বাস নামের একজনের দাবি, তিনি ১০ শতাংশ লাভের আশায় এককালীন আট লাখ ২০ হাজার টাকা জমা রেখেছিলেন। কয়েক মাস ধরে টাকা ফেরত চাইলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়। পরে জানতে পারেন, পরিচালক উধাও হয়ে গেছেন। 

সাবিত্রী বিশ্বাস নামের একজন বলেন, ‘মেয়ের বিয়ের জন্য দুই লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন সেই টাকাই নেই। মেয়ের বিয়ে কীভাবে দেব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’

সমিতির হিসাবরক্ষক মধুসূদন মণ্ডল বলেন, ‘পরিচালক সেন্টু শার্শায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কথা বলে বের হন। এর পর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আমার কাছেই জবাব চাইছেন, কিন্তু আমিও তার (সেন্টু) অবস্থান জানি না।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য দীপক কুমার রায় বলেন, ‘আমি অনেককেই ওই সমিতিতে টাকা জমা রাখতে নিষেধ করেছিলাম। কিন্তু বেশি  লাভের আশায় অনেকেই আমার কথা শোনেনি। এখন তারা সর্বস্ব হারিয়ে দিশাহারা। এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার শিক্ষা নিতে হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ও দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের প্রশাসক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হবে।’ 

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা রনজিৎ কুমার বলেন, ‘গ্রাহকরা আমাদের কাছে এসেছেন। তবে সমিতির সবশেষ অডিট প্রতিবেদনে অভিযোগকারী অনেক গ্রাহকের নাম পাওয়া যায়নি। যেহেতু সমিতিটির লাইসেন্স জেলা সমবায় কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্বে) ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অনিয়ম বা অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

১০ পুলিশ সদস্যের গায়ে ১০ গোপন ক্যামেরা | কালের কণ্ঠ