• ই-পেপার

কাশিয়ানীতে খোলাবাজারে দাম বেশি, তাই সরকারি গুদামে চাল দেননি মিলাররা

সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য

অনলাইন ডেস্ক
সাতকানিয়ায় বন্যার্তদের পাশে ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বন্যা কবলিতদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠক ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য।

সম্প্রতি তিনি উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষকে ত্রাণ ও রান্না করা খাবার তুলে দেন। তার উদ্যােগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বন্যার্তরা।

পরে তিনি সাঙ্গু নদীর ভেঙে যাওয়া বাঁধ এলাকা পরিদর্শন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বাড়িঘর পরিদর্শন করেন। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে- বিশুদ্ধ পানি, ৩ কেজি চাল, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি আলু ও বিরিয়ানি।

ব্যারিস্টার পল্লব আচার্য বলেন, এই সংকটকালীন সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো সকলের মানবিক দায়িত্ব। আমি ক্ষুদ্র পরিসরে চেষ্টা করছি। আগামী দিনেও সাতকানিয়াবাসীর সঙ্গে আছি।

খুলনায় আরএফএল কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক

খুলনা অফিস
খুলনায় আরএফএল কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, সহকর্মী পলাতক
বিশ্বজিৎ দেউড়ি। সংগৃহীত ছবি

খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার একটি ভাড়া বাসা থেকে বিশ্বজিৎ দেউড়ি (২৫) নামের আরএফএলের এক কর্মকর্তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে তার রুমমেট ও সহকর্মী অন্তর সরকার (২৩) পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে পাইকগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল রোড এলাকায় রাম প্রসাদ মণ্ডলের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত বিশ্বজিৎ দেউড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার বেতরা গ্রামের হিরালাল দেউড়ির ছেলে। তিনি আরএফএল কোম্পানিতে পাইকগাছা এলাকায় সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (এসআর) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে নিহতের রুমমেট ও আরএফএলের সহকারী টেকনিশিয়ান অন্তর সরকার পলাতক রয়েছেন। তিনি মাদারীপুর জেলার কালকিনী উপজেলার লক্ষ্মীপুর ফাঁসিয়াতলা গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি সঙ্গে নিয়ে গেছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) জুলফিকার আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পলাতক অন্তর সরকারকে সন্দেহভাজন হিসেবে খোঁজা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

তিনি আরো জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ছেলে নিয়ে উধাও যুবক, খোঁজ নেন না গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই মেয়ের

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ছেলে নিয়ে উধাও যুবক, খোঁজ নেন না গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই মেয়ের
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন মাহমুদা আক্তার। ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ভালুকায় নয় মাসের গর্ভবতী স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে রেখে ছেলে নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন বিল্লাল হোসেন নামের এক বাসচালক। কোরবানির ঈদের আগে থেকে নিখোঁজ ওই ব্যক্তি এরপর আর স্ত্রী-সন্তানদের কোনো খোঁজ নেননি। আশ্রয়হীন হয়ে কয়েকদিন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানবেতর জীবন কাটানোর পর বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার।

মাহমুদা আক্তার জানান, প্রায় আট বছর আগে ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে তার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে আছিয়া আক্তার মীম (৭), মাহমুদুজ্জামান ইয়াসিন (৭) ও হাফসা জীম (দেড় বছর) রয়েছে। মীম ও ইয়াসিন জমজ।

তার অভিযোগ, কোরবানির ঈদের আগে স্বামী নতুন বাসায় ওঠার পর ছেলে ইয়াসিনকে সঙ্গে নিয়ে চলে যান। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করেননি। ফোনও বন্ধ রয়েছে। ভাড়া বকেয়া থাকায় বাসার মালিক তাকে দুই মেয়েকে নিয়ে বাসা থেকে বের করে দেন।

মাহমুদা বলেন, স্বামীর ব্যবসার জন্য বাবার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তিনি নিঃস্ব। বাবাও বেঁচে নেই, ভাইদের সঙ্গেও কোনো যোগাযোগ নেই। যাওয়ার মতো কোনো জায়গা না থাকায় দুই মেয়েকে নিয়ে গত ১৫ জুলাই রাতে ভালুকা ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকার বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের পাশে একটি টিনশেডে আশ্রয় নেন। স্থানীয় ট্রাকচালক ও দোকানদারদের দেওয়া কলা, বিস্কুটসহ সামান্য খাবার খেয়ে কয়েকদিন কাটান।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্বামী প্রায়ই তার ওপর নির্যাতন করতেন।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মোস্তানছির বিল্লা জোহাদ জানান, ওই নারী ও তার দুই শিশুকে আশ্রয়হীন অবস্থায় দেখে কয়েকদিন ধরে স্থানীয়রা খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে গত ১৯ জুলাই রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহেদা ফেরদৌসী হাসপাতালে গিয়ে মাহমুদা ও তার দুই শিশুর খোঁজখবর নেন।

এদিকে, ভালুকায় হ্যামকো ব্যাটারির এজেন্ট মো. আনোয়ার হোসেন খান জানান, বিল্লাল হোসেন তার প্রতিষ্ঠানের বাসচালক ছিলেন। কোরবানির ঈদের পর তিনি গাড়ির প্রায় ২০০ লিটার জ্বালানি বিক্রি করে এবং তিন দিনের প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই নারী বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। তার স্বামী নিখোঁজ। শ্বশুরবাড়ি কিংবা বাবার বাড়ির কোনো আত্মীয়স্বজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। আপাতত পৌরসভার পক্ষ থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

প্রবল বৃষ্টিতে ঘরের ওপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে যুবক নিহত, আহত ৪

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রবল বৃষ্টিতে ঘরের ওপর বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে যুবক নিহত, আহত ৪
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রবল বৃষ্টির সময় পল্লী বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বসতঘরের টিনের চালে পড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিলন মাতুব্বর (৩০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরো চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৌলডুবি গ্রামের রব মাতুব্বরের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে প্রবল বৃষ্টির সময় পল্লী বিদ্যুতের একটি সচল মেইন লাইন ছিঁড়ে বসতঘরের টিনের চালে পড়ে। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘর বিদ্যুতায়িত হয়ে যায় এবং ঘরের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মিলন মাতুব্বরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত শেখ ওবাইদুর (৪০), মিঠু মাতুব্বর (৩৫) ও হেনা আক্তারকে (২৫) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত অপর একজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

সদরপুর পল্লী বিদ্যুতের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট সংযোগ থেকে জিআই তার দিয়ে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

কাশিয়ানীতে খোলাবাজারে দাম বেশি, তাই সরকারি গুদামে চাল দেননি মিলাররা | কালের কণ্ঠ