• ই-পেপার

দাগনভূঞায় ডাকাতিকালে নৈশ প্রহরীকে হত্যা, গোলাগুলিতে ৩ ডাকাত নিহত

সন্ত্রাসী স্টাইলে আর রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না : এমপি হাজী জসিম উদ্দিন

অনলাইন ডেস্ক
সন্ত্রাসী স্টাইলে আর রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না : এমপি হাজী জসিম উদ্দিন
সংগৃহীত ছবি

সন্ত্রাসী স্টাইলে আর রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন জসিম। তিনি বলেছেন, দলের কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং কিংবা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাজী জসিম উদ্দিন জসিম বলেন, আপনারা আমাকে আপনাদের সেবক হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। আমি সেই দায়িত্ব সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করে যাচ্ছি। দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে থেকে সেবামূলক রাজনীতি করার আহ্বান জানাই সবাইকে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়াকে চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং ও মাদকমুক্ত জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ চোরাচালান, চুরি-ডাকাতিসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ শান্তিপ্রিয়। একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য জনপদ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী শাহ আলম খোকন, সহসভাপতি মহসিন কবির সরকার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ভিপি সরকার জহিরুল হক মিঠুন, বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম, এনামুল হক মাসুদ সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির বাবুল ও আনিছুর রহমান রিপন ভূইয়া।

এ ছাড়া শাহজাহান সাজু, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল আলম বাবুল, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোস্তফা জামান, সদস্যসচিব এনামুল হক সুমন, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আবু কাউসার, সাধারণ সম্পাদক মো. কবির ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আকরামুল ইসলাম, সদস্য সচিব মো. তাজুল ইসলাম মিঠু, ওলামা দলের সদস্য সচিব মো. মোবারক হোসাইন, মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক সার্জেন শফিকুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দিদারুল আলম ভূইয়া ও সদস্য সচিব ফয়সাল কবির আখন্দসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
 

চমেক থেকে চুরি করা শিশু উদ্ধার, দম্পতি গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চমেক থেকে চুরি করা শিশু উদ্ধার, দম্পতি গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বারান্দা থেকে চুরি করা ১৫ মাস বয়সী এক শিশুকে ১৩ ঘণ্টার ঝটিকা অভিযানে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন নাছিমা বেগম (২৫) ও তাঁর স্বামী বোরহান উদ্দীন (৩০)। নাছিমার বাড়ি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সুখচর এলাকায় এবং তাঁর স্বামী বোরহানের বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের মালিনিমুরা এলাকায়।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নগরের চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকা থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চমেক হাসপাতালের ৫ নম্বর ভবনের নিউরোসার্জারি বিভাগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের বারান্দা থেকে কৌশলে শিশুটিকে চুরি করা হয়। শিশুটির বাবা মোহাম্মদ সোহেল রানা তাঁর অন্য এক নবজাতক সন্তানকে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। হাসপাতালে জায়গার সংকট থাকায় শিশুটির মা তাসলিমা জান্নাত নীলা ও দাদি ১৫ মাস বয়সী নাজেহাদকে নিয়ে ওয়ার্ডের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। 

এ সময় অভিযুক্ত নাছিমা বেগম নিজেকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা এবং শিশুটির মায়ের পূর্বপরিচিত দাবি করে তাঁদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে শিশুটি কান্না শুরু করলে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে তাকে কোলে নিয়ে কৌশলে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে যান নাছিমা। এরপর আর ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালজুড়ে খোঁজাখুঁজি করেন। কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নগরের পাঁচলাইশ থানায় একটি অপহরণ মামলা করা হয়। 

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুল আলম আশেক কালের কণ্ঠকে জানান, তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে নগরের চান্দগাঁও থানার এক কিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

পরিচয় মিলল নরসিংদীর স্টেশনে নিহত বাকপ্রতিবন্ধী ববির

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
পরিচয় মিলল নরসিংদীর স্টেশনে নিহত বাকপ্রতিবন্ধী ববির
সংগৃহীত ছবি

অবশেষে জানা গেল নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা স্টেশনে ছিনতাইকারীদের হামলায় নিহত   পরিচ্ছন্নতাকর্মী ববি বেগমের প্রকৃত পরিচয়। ২৫ বছর ধরে যাঁকে স্থানীয় মানুষ ঘরবাড়ি ও স্বজনহীন বলে জানত, তাঁর আসল নাম ওয়াহিদা বেগম (৭০)। 

ওয়াহিদা বেগম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের শাখাটিয়া এলাকার মৃত রহিম উদ্দিনের মেয়ে। আট ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। তিনিসহ আট ভাই-বোনের সবাই ছিলেন বাকপ্রতিবন্ধী। তাঁর দুই ভাই এরই মধ্যে মারা গেছেন। বর্তমানে দুই ভাই ও তিন বোন জীবিত আছেন।

ওয়াহিদার জীবনের গল্প আরো হূদয়বিদারক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ বছর আগে তাঁর স্বামী ও একমাত্র কন্যাসন্তানের মৃত্যুর পর ট্রেনে করে তিনি রায়পুরার মেথিকান্দা স্টেশনে এসে পৌঁছান। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় নিজের পরিচয় দিতে পারেননি। স্থানীয়রা তাঁর নাম দেন ‘ববি বেগম’। এর পর থেকেই তিনি ওই নামেই পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্টেশনের শৌচাগার ও প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করতেন তিনি। অতিকষ্টে প্রায় ২০ হাজার টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। কিন্তু সেই সঞ্চিত টাকার লোভেই গত ৪ জুলাই স্টেশনের একটি কক্ষে ঢুকে ছিনতাইকারীরা তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং তাঁর সব টাকা লুট করে নেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে আবার স্টেশনেই ফিরিয়ে আনা হয়। ৭ জুলাই হঠাত্ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ওয়াহিদা বেগমের ছোট বোনের জামাতা সৈকত জানান, ফেসবুকে এক বৃদ্ধা বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে পিটিয়ে হত্যা ও তাঁর সঞ্চিত টাকা লুটের একটি পোস্ট দেখেন তিনি। পরে সেটি তাঁর স্ত্রী রাবেয়া খাতুনকে দেখালে তিনি ছবিটি দেখে নিজের খালাকে শনাক্ত করেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরাও নিশ্চিত হন যে নিহত নারীই তাঁদের দীর্ঘদিনের নিখোঁজ স্বজন ওয়াহিদা বেগম।
 

এশার আজানের মাঝেই লুটিয়ে পড়লেন ইমাম, বাঁচানো গেল না

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
এশার আজানের মাঝেই লুটিয়ে পড়লেন ইমাম, বাঁচানো গেল না
মো. আমিনুল ইসলাম। সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে এশার আজান দেওয়ার সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মো. আমিনুল ইসলাম (৪৮) নামের এক ইমামের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১১ জুলাই) রাত আনুমানিক ৮টা ১৫ মিনিটে উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোপিনাথপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ইমাম মো. আমিনুল ইসলাম ওই গ্রামের কাজীবাড়ি এলাকার মৃত. শামসুল আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মাস্টারবাড়ি পাঞ্জেগানা মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পাশাপাশি তিনি প্রায় এক দশক ধরে কণ্ঠনগর দক্ষিণপাড়া দারুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জহিরুল ইসলাম ও বর্তমান ইউপি সদস্য আবু জাহের জানান, প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতেও তিনি এশার নামাজের আজান দিচ্ছিলেন। আজানের এক পর্যায়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মসজিদের ভেতরে লুটিয়ে পড়েন। পরে উপস্থিত মুসল্লিরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. গোলাম রব্বানী সোহেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আমিনুল ইসলাম ছিলেন অত্যন্ত সাদাসিধে, বিনয়ী, ধর্মপ্রাণ ও সবার প্রিয় একজন আলেম। তার ইমামতি, দ্বিনি শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শ এলাকার মানুষের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত ছিল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে মুসল্লি, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে, এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন, শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

রবিবার (১২ জুলাই) বাদ জোহর কণ্ঠনগর গ্রামে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহতের স্ত্রীর ভাই ও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাজির মাহমুদ নছির।

আজানরত অবস্থায় একজন ইমামের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।

স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা ও সর্বস্তরের মানুষ তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

দাগনভূঞায় ডাকাতিকালে নৈশ প্রহরীকে হত্যা, গোলাগুলিতে ৩ ডাকাত নিহত | কালের কণ্ঠ