• ই-পেপার

নান্দাইলে সড়ক সংস্কারের নামে তামাশা

\'ভাঙ্গাচোরা আছিন ভালা আছিন, অহন তো লেপ দিয়া নিছেগা কোটি টেহা\'

হামের উপসর্গে কুমেকে শিশুর মৃত্যু, জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ১৩

কুমিল্লা প্রতিনিধি
হামের উপসর্গে কুমেকে শিশুর মৃত্যু, জেলায় প্রাণহানি বেড়ে ১৩
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লায় হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় মাস বয়সী খাদিজা নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হাম আক্রান্ত ও হাম সন্দেহে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত খাদিজা কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাসিন্দা রাব্বি মিয়ার মেয়ে। গত ১৪ জুলাই মধ্যরাতে হামের উপসর্গ নিয়ে তাকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।

কুমেক সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ২০ জনকে হাম সন্দেহে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ১২ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। চিকিৎসা শেষে ১৭ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ জুলাই পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৯৫৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৪০ জনের শরীরে পরীক্ষাগারে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে হাম সন্দেহে ১২ জন এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে।

এ ছাড়া চলতি বছরে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৫০৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৪৩৪ জন।

কুমেকের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ জুলাই সকালে খাদিজার মৃত্যু হয়েছে। তার মৃত্যুকে আপাতত হাম সন্দেহজনক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর এটি নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু কি না, তা জানা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। জ্বর, শরীরে র‌্যাশ, কাশি বা চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ বিষয়ে অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নিখোঁজের এক দিন পর ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
নিখোঁজের এক দিন পর ডোবা থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার
ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিখোঁজের এক দিন পর পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মোহাম্মদ সাঈদ (৬) নামের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশটি উদ্ধার করেন।

নিহত সাঈদ ওই এলাকার মো. আবদুর রহিমের ছেলে।

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বাবা-মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে থাকা অবস্থায় সাঈদ নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাকে না পেয়ে মাইকে নিখোঁজের ঘোষণা দেন।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে খবর পেয়ে হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে উদ্ধারকারী দল স্থানীয় আবদুল গফুরের বাড়ির পেছনের একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

পরে লাশটি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আবদুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

যশোরে আয়কর কর্মকর্তা সেজে অর্থ আদায়, ৬ মাসের কারাদণ্ড যুবকের

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরে আয়কর কর্মকর্তা সেজে অর্থ আদায়, ৬ মাসের কারাদণ্ড যুবকের
সংগৃহীত ছবি

যশোরের কেশবপুরে আয়কর কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ আদায়ের সময় উৎপল কুমার রায় (৩৩) নামের এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেকসোনা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উৎপল কুমার রায় যশোরের বাঘারপাড়া সদরের মৃত রবীন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে। বৃহস্পতিবার তিনি কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি ও হাসানপুর বাজারে নিজেকে আয়কর কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে অর্থ আদায় করছিলেন।

এক পর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সন্দেহ হলে তারা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তার পরিচয় ভুয়া প্রমাণিত হলে বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, আদালতের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই : আতিকুর রহমান

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রমনীতির বিকল্প নেই : আতিকুর রহমান
বৃহস্পতিবার গাইবান্ধায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে কথা বলছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।

বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে শ্রমিকদের অবদান অনস্বীকার্য, কৃষি শিল্প পরিবহন বন্দর কিংবা রপ্তানি খাত সর্বত্র শ্রমিকদের ঘাম ও শ্রম জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তি অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির তুলনায় অনেক শ্রমিক এখন অনেক কর্মপরিবেশ থেকে বঞ্চিত। তাই শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে ইসলামী শ্রম নীতির কোনো বিকল্প নেই।

বৃহস্পতিবার ( ১৬ জুলাই) গাইবান্ধায় স্থানীয় দারুল আমান ট্রাস্টে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন জেলা সভাপতি নূরুন্নবী প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের লক্ষ্য কেবল একটি শ্রমিক সংগঠন হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করা নয় বরং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা শোষণ নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং ন্যায় ভিত্তিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রমিকরা বৈষম্য, কম মজুরি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের শিকার হলেও তাদের প্রকৃত কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা কেউ রাখেনি।’

বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে আতিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার ৫৫ বছর পার হওয়ার পরও এ দেশে যখন যারা ক্ষমতার এসেছিলেন তারা শ্রমিকদের নিয়ে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেছিলেন, কিন্তু বাস্তবে এই ৫৫ বছরে বাংলাদেশের শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে কোন ভূমিকা রাখা রাখেননি তারা।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর বাজেট আসে শ্রমিকদের নিয়ে কোন বাজেট হয় না এমনকি শ্রমিকদের ভাগ্যের চাকা পরিবর্তন হয় না। কৃষি শ্রমিকদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি আরো বলেন সংসদে যখন বলা হয় বাংলাদেশ কৃষিতে স্বয়ংসম্পন্ন, মন্ত্রীরা তখন ভুলে যান। যে দেশে কৃষক শ্রমিকরা বৃষ্টিতে ভিজে এমনকি বজ্রপাতেও জীবন দিয়ে এই ফসল করিয়েছেন। সরকার বাহাবা নিলেও কৃষকদের প্রকৃত সম্মান কেউ দেখায়নি। এ সময় তিনি শোষণমক্ত সমাজ কায়েমের লক্ষ্যে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনকে মাঠে ময়দানে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের জেলা আমির ও জাতীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে। তিনি শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সকল শহীদদের জন্য মহান আল্লাহর কাছে উচ্চ মর্যাদা কামনা করে বলেন বর্তমান সময়ে শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ইসলামের ন্যায় ইনসাফ ও মানব কল্যাণের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা ও মানব সেবার মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য তিনি কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক গোলাম রব্বানী বলেন, ‘শ্রমিকদের যাবতীয় সমস্যার সময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের যাবতীয় সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।’ এসময় তিনি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান ।

সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আলমগীর হোসেন, সাবেক জেলা আমির ডা. আব্দুর রহিম সরকার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ড. জিয়াউল হক, রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক আবুল হাসেম বাদল, শহর জামায়াতের আমির অধ্যাপক ফেরদৌস আলম, সদর জামায়াতের আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম মন্ডল, গাইবান্ধা সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক কল্যাণের সভাপতি অধ্যাপক বদরুল আমিন, পলাশবাড়ী উপজেলা সভাপতি খাইরুল ইসলাম চান অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ অন্যান্য জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ।

\'ভাঙ্গাচোরা আছিন ভালা আছিন, অহন তো লেপ দিয়া নিছেগা কোটি টেহা\' | কালের কণ্ঠ