• ই-পেপার

শিকলে বেঁধে শিশু নির্যাতন, অভিযুক্ত সতমা

ভুয়া বিলে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিএমপির তিন পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ভুয়া বিলে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিএমপির তিন পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
ফাইল ছবি

ভুয়া বিল তৈরি করে ১৮ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিএমপির সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবলরা হলেন হিসাব শাখায় কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মো. মারুফ হাসান, নন গেজেটেড ভ্রমণ ব্যয় বিল শাখায় কর্মরত জয়দেব কুমার মজুমদার এবং মেট্রো কোর্ট-এ কর্মরত মো. সজীব মিয়া। 

বিএমপির হিসাব শাখার ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মোসা. রেবেকা সুলতানার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএমপির উপ–পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযুক্ত তিনজন পুলিশ সদস্য একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএমপির উপ–পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিএমপির হিসাব শাখার তদন্তে প্রাথমিকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে, অভিযুক্ত তিন কনস্টেবল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিএমপির আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার আইডি ব্যবহার এবং অনুমোদনহীনভাবে অর্থ বিভাগের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম সিস্টেম ব্যবহার করে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা কমিউনিটি একটি ভুয়া বিল তৈরি করেন। ওই বিলটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মেট্রো কোর্ট-এ কর্মরত কনস্টেবল মো. সজীব মিয়ার কমিউনিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করে। এরপরে অভিযুক্ত তিনজন মিলে তা আত্মসাৎ করে।

হিসাব শাখার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি পুলিশ কমিশনারের নজরে আনা হলে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) ১৯৪৩-এর বিধি ৮৩৯ অনুযায়ী অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিধিমালা অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন এবং বিএমপি লাইন্সে সংযুক্ত থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলবেন।

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ ঘিরে বাগবিতণ্ডা, ব্রাজিল সমর্থকের নাক ফাটানোর অভিযোগ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ ঘিরে বাগবিতণ্ডা, ব্রাজিল সমর্থকের নাক ফাটানোর অভিযোগ
ফাইল ছবি

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে আর্জেন্টিনা–মিসর ফুটবল ম্যাচ দেখা নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের দুই সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠুর (৩৫) নাকে গুরুতর আঘাত লাগে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার কাঁটাছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তেতৈয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত অপরজন হলেন আর্জেন্টিনা সমর্থক মোহাম্মদ সাকিব (২০)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ চলাকালে মিসর গোল করলে ব্রাজিল সমর্থক মাঈনুদ্দিন মিঠু উল্লাস প্রকাশ করেন। এ নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থক সাকিবের সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি এবং পরে মারামারিতে রূপ নেয়। এতে মিঠুর নাক ফেটে যায় এবং সাকিব মাথায় আঘাত পান।

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহত মাঈনুদ্দিন মিঠুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজু সিংহ বলেন, মধ্যরাতে খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডার জেরে আহত এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তার নাকে গুরুতর আঘাত ছিল এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক রেফার করা হয়েছে।

আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাসে মুখর খুলনা নগরী

খুলনা অফিস
আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাসে মুখর খুলনা নগরী
ছবি: কালের কণ্ঠ

মিসরের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার জয়ের পর খুলনা শহরজুড়ে মেসি ভক্তদের উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। 

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাতে নগরীর শহীদ হাদিস পার্ক থেকে শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা থেকে দৌলতপুর এমনকি খালিশপুর থেকে খানজাহান আলী প্রতিটি এলাকায় চলে আনন্দ উৎসব আর বিজয় র‌্যালি। 

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, আতশবাজি, ঢাক-ঢোলের তালে নাচ এবং বিজয় মিছিল। নীল-সাদা পতাকা হাতে হাজারো ফুটবলপ্রেমীর উচ্ছ্বাসে মধ্যরাতের খুলনা পরিচিতি পায় এক অন্যরকম নগরীতে। তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি এই উৎসবে অংশ নেয় নারী-শিশুরাও।

শহীদ হাদিস পার্ক, শিববাড়ি, সোনাডাঙ্গা, হাফিজনগর, নিরালা, ময়লাপোতা, টুটপাড়াসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখেন হাজারো দর্শক। খেলার প্রথমার্ধে মেসি ভক্তদের মধ্যে কিছুটা নীরবতা লক্ষ্য করা গেলেও শেষ পর্যায়ে যখন ৩-২ গোলে বিজয়ের বাঁশি ফুঁকেন রেফারি তখনই উল্লাসে ফেটে পড়েন আর্জেন্টিনার সমর্থকরা।

অনেকের গায়ে ছিল আর্জেন্টিনার জার্সি, হাতে ছিল পতাকা। বিভিন্ন স্থানে গাড়ির বহরে বাজানো হয় সমর্থকদের প্রিয় গান, চলে স্লোগান।

উল্লাসের একপর্যায়ে নগরী শিববাড়ি এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। এসময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে।

চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঝালকাঠি

ঝালকাঠি প্রতিনিধি
চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ, লোডশেডিংয়ে নাকাল ঝালকাঠি
লোডশেডিংয়ে মোমের আলোয় পড়ছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা। ছবি : কালের কণ্ঠ

এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা তীব্র লোডশেডিংয়ে পড়ছেন মোমের আলো জ্বালিয়ে। পাশেই তার বাবা মেয়েকে পাখা দিয়ে বাতাস করে দিচ্ছেন। ঝালকাঠিতে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে সায়মার পড়ালেখা। এতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে দুশ্চিন্তা তার চোখে মুখে। গত দুই মাস ধরে দিন ও রাতে কয়েক দফায় বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে সায়মার মতো শত শত শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েছেন। এতে অভিভাবকরাও শঙ্কিত।

শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ঝালকাঠিতে তীব্র গরমে অসহনীয় লোডশেডিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। দিন ও রাতে সমান তালে হচ্ছে লোডশেডিং। তীব্র গরমে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ওপর ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন গ্রাহকরা। লোডশেডিং বন্ধ, গ্রাহকদের হয়রানি এবং বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে। এতেও মিলছে না কোনো প্রতিকার।

লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য। রাতের বেলা কেউ মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেউ আবার চার্জারের আলোয় বেচাকেনা করছেন। ক্ষতি হচ্ছে অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও। কলকারখানার উৎপাদনও কমে যাচ্ছে। ফ্রিজে রাখা খাবার নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। সন্ধ্যার পরে বিদ্যুৎ না থাকলে ছোট এই জেলা শহরটি ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়।

গ্রাহকদের অভিযোগ, ঝালকাঠি জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিং চলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায়ও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি এবং ভূতুড়ে বিলের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিনের। এসব সমস্যার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, ঝালকাঠি জেলায় ওজোপাডিকোর গ্রাহকদের বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রাহকরা পাচ্ছেন মাত্র ৬ মেগাওয়াট। তাই ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছে জেলাবাসী। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত ও অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।

ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, দিন ও রাতে সব মিলিয়ে ৬-৭ বার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার এক ঘণ্টা করে লোডশেডিং। তীব্র গরমে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।

নলছিটি শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রাতে লোডশেডিং হলে ছেলে মেয়েরা পড়ালেখা করতে পারছে না। ঘুমের মধ্যে বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুম ভেঙে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আমরা যাবো কোথায়?

নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা জানায়, পরীক্ষার সময় ঘনঘন লোডশেডিং আমাকে বিপদে ফেলেছে। মোম জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। গরমে পড়া যায় না। এতে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হতে পারে।

ঝালকাঠি ওজোপাডিকো’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, চাহিদার তুলনায় কম মেগাওয়াট পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। আমাদের জেলায় চাহিদা রয়েছে ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু পাচ্ছি ৬ মেগাওয়াট। আমরা বেশি পেলে গ্রাহকরাও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে।