• ই-পেপার

আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচ ঘিরে বাগবিতণ্ডা, ব্রাজিল সমর্থকের নাক ফাটানোর অভিযোগ

দুর্বৃত্তের হামলায় নিভে গেল সেই বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতা কর্মী ববির জীবন

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
দুর্বৃত্তের হামলায় নিভে গেল সেই বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতা কর্মী ববির জীবন

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত বাকপ্রতিবন্ধী পরিচ্ছন্নতা কর্মী ববি বেগম (৭০) মারা গেছেন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ১৫ মিনিটে উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ রানা।

জানা যায়, গত ৪ জুলাই গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত উপজেলার মেথিকান্দা রেলস্টেশনের একটি কক্ষে ঢুকে ববি বেগমের ওপর নির্মম হামলা চালায়। এসময় তাকে মারধর করে তার দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ও সঞ্চিত ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। পরে স্টেশনের কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে আবার স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর কিছুটা সুস্থ থাকলেও বুধবার রাতে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। তাকে প্রথমে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে রেফার করেন। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রাত ১টা ১৫ মিনিটে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে ববি বেগমের মৃত্যুর খবরে গভীর রাতে রায়পুরাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। ঘরবাড়ি ও স্বজনহীন এই নারীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ বিভিন্ন মহলে শোক প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২৫ বছর ধরে ববি বেগম মেথিকান্দা রেলস্টেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার কোনো স্বজন ছিল না। স্টেশনের একটি ছোট কক্ষেই ছিল তার বসবাস। বয়সের ভার ও বাকপ্রতিবন্ধকতা নিয়েও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে স্টেশন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতেন। সামান্য বেতন ও যাত্রীদের সহযোগিতায় চলত তার জীবন। সেই অসহায় নারীর ওপর নৃশংস হামলা এবং পরবর্তীতে মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে : নাহিদ

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিয়েছে : নাহিদ
ছবি: কালের কণ্ঠ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “নির্বাচনে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছে। আর সরকার যারা গঠন করেছে তারা মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তার মানে যারা সরকার গঠন করেছে তাদের থেকেও বেশি জনমত হলো সংস্কারের পক্ষে, জুলাই সনদের পক্ষে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম বিএনপি ক্ষমতায় বসতে পেরে জনগণের এই স্বীকৃতিকে, এই গণভোটকে অস্বীকার শুরু করেছে। তারা এখন পর্যন্ত গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি। সংস্কার বাস্তবায়ন করেনি। যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, দেশে কোনো পরিবর্তন হবে না।”

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে টাঙ্গাইল শহরের নিরালা মোড়ে এনসিপি আয়োজিত পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে যারা জীবন দিল, যারা আহত হলো তাদের এই আত্মত্যাগের মূল্য থাকবে না, মূল্যহীন হয়ে যাবে যদি দেশের কোনো পরিবর্তন না হয়। কারণ আমরা স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, আমাদের আন্দোলন হচ্ছে দেশ পরিবর্তনের আন্দোলন, রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলন। তাই সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আমরা এসেছি।’

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘আমরা যখন সংসদে আমাদের সরকারি দলের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের কথা শুনি, আমরা যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে সরকারি দলের বিভিন্ন বড় নেতার কথা শুনি, তখন আমাদের কাছে মনে হয়—বাংলাদেশে আর কোনো সমস্যা নেই। অথচ সাধারণ জনগণ মানেই তো বাংলাদেশ। আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে রায় দিন।’ সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন এনসিপি ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুজ্জামান শাওন, সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান প্রমুখ। এর আগে তাঁরা সখিপুরে পদযাত্রায় অংশ নেন।

রাতের আঁধারে ফ্লাইওভারে ঝরল এনসিপি নেতার প্রাণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
রাতের আঁধারে ফ্লাইওভারে ঝরল এনসিপি নেতার প্রাণ

চট্টগ্রামে লালখানবাজার-বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ফ্লাইওভারের জিইসি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ওই এনসিপি নেতার নাম তাজরিন ফায়াজ। তিনি নগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। তার বাবা হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। তাজরিন ফায়াজ নগরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জানা গেছে, একটি ট্রাক নষ্ট হয়ে গেলে সেটিকে ফ্লাইওভারের ওপর রাখা হয়। আলোর স্বল্পতায় মোটরসাইকেল আরোহী ফায়াজ সেটি খেয়াল করার আগেই দ্রুত গতির মোটরসাইকেলটি ট্রাকে ধাক্কা লেগে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ফায়াজের মৃত্যুর খবর শুনে এনসিপির পাশাপাশি বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝেও শোকের ছায়া নেমে আছে। রাতেই হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি ফায়াজের শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দেন।

ভুয়া বিলে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিএমপির তিন পুলিশ সদস্য বরখাস্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ভুয়া বিলে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ, বিএমপির তিন পুলিশ সদস্য বরখাস্ত
ফাইল ছবি

ভুয়া বিল তৈরি করে ১৮ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) তিন কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিএমপির সদর দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবলরা হলেন হিসাব শাখায় কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর মো. মারুফ হাসান, নন গেজেটেড ভ্রমণ ব্যয় বিল শাখায় কর্মরত জয়দেব কুমার মজুমদার এবং মেট্রো কোর্ট-এ কর্মরত মো. সজীব মিয়া। 

বিএমপির হিসাব শাখার ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক মোসা. রেবেকা সুলতানার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএমপির উপ–পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অভিযুক্ত তিনজন পুলিশ সদস্য একটি ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএমপির উপ–পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মো. আব্দুল হান্নান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিএমপির হিসাব শাখার তদন্তে প্রাথমিকভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে, অভিযুক্ত তিন কনস্টেবল ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বিএমপির আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার আইডি ব্যবহার এবং অনুমোদনহীনভাবে অর্থ বিভাগের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম সিস্টেম ব্যবহার করে ১৮ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৪ টাকা কমিউনিটি একটি ভুয়া বিল তৈরি করেন। ওই বিলটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে মেট্রো কোর্ট-এ কর্মরত কনস্টেবল মো. সজীব মিয়ার কমিউনিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে পরিশোধ করে। এরপরে অভিযুক্ত তিনজন মিলে তা আত্মসাৎ করে।

হিসাব শাখার তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি পুলিশ কমিশনারের নজরে আনা হলে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রবিধান (পিআরবি) ১৯৪৩-এর বিধি ৮৩৯ অনুযায়ী অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তারা বিধিমালা অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন এবং বিএমপি লাইন্সে সংযুক্ত থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলবেন।