• ই-পেপার

উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ইঞ্জিনে আগুন (ভিডিওসহ)

  • রেলযোগাযোগ বন্ধ

ফরিদপুরে বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ঢাবি শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় মলয় কান্তি বিশ্বাস নিশান (২৬) নামে এক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি)  শিক্ষার্থীকে পথরোধ করে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থী বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরকান্দায় থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। 

স্থানীয়দের দাবি, সামান্য বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আহত শিক্ষার্থী নিশান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রাচ্যকলা বিভাগের মাস্টার্স প্রথম পর্বের শিক্ষার্থী। তিনি নগরকান্দা পৌরসভার মধ্যজগদিয়া এলাকার বাসিন্দা ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা নলিনী কান্তি বিশ্বাসের ছেলে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে এলাকার এক প্রতিবেশীর তালগাছ থেকে তাল পাড়াকে কেন্দ্র করে নলিনী কান্তি বিশ্বাসের সঙ্গে নগরকান্দা পৌরসভার জুঙ্গুরদী এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেনের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় নলিনী কান্তিকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। বিষয়টি দেখে ছেলে মলয় প্রতিবাদ করলে আরমান তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার সন্ধ্যায় মলয় কান্তি দুই বন্ধুকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বের হলে বাড়ির সামনের সড়কে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস দিয়ে তার পথরোধ করা হয়। পরে আরমান ও তার সহযোগীরা তাকে বাঁশ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে তার মাথা ফেটে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। তার সঙ্গে থাকা বন্ধু বিকাশ পালও হামলার শিকার হন।

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহত মলয়ের মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পরামর্শ দিলেও তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহত মলয় কান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করেছিলাম। সেই ঘটনার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার পথরোধ করে হামলা করা হয়েছে।’

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাসমিমা আক্তার বলেন, ‘রোগীর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথায় আঘাতজনিত ক্ষতস্থানে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আরমান হোসেন বলেন, আপনি আমার সামনে এসে বক্তব্য নিয়ে যান।’

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল সামদানি আজাদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। পরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিওচিত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় জামায়াতের বিক্ষোভ

খুলনা অফিস
বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে খুলনায় জামায়াতের বিক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

খুলনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে। জনগণের প্রতি সরকারের কোনো দায়বদ্ধতা থাকলে এমন অমানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হতো না।

দেশের বিদ্যুৎ খাতের সকল দুর্নীতি, অপচয় ও লুটপাট বন্ধ করে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা দেশের আপামর জনসাধারণের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে গণবিরোধী ও অযৌক্তিক বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান।

আরো পড়ুন
ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক, আসছে স্পেসএক্স আইপিও

ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক, আসছে স্পেসএক্স আইপিও

 

দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নগরীর ডাকবাংলো সোনালী ব্যাংক চত্বরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

নগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও খুলনা জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, খুলনা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও আজিজুল ইসলাম ফারাজী, অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আব্দুল গফুর প্রমুখ।

ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ঝড়ে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ ফের দাঁড়িয়ে গেল!

ঝড়ে শিকড়সহ মাটিতে পড়ে যায় গাছটি। এভাবে ছিল প্রায় এক মাস। গাছটি বিক্রি করা হয়। ডালপালাসহ গাছের অনেক অংশ কেটে ফেলা হয়। এরই মধ্যে এক সপ্তাহ হলো গাছটি কাটা অংশ নিয়ে ঠিক আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনেই হবে না এটি মাটিতে পড়া অবস্থায় ছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় এমন একটি গাছ নিয়ে রীতিমতো হৈচৈ পড়ে গেছে। মোগড়া ইউনিয়নের বচিয়ারা গ্রামের ওই গাছ দেখতে শত শত উৎসুক মানুষ এসে ভিড়ে জমাচ্ছেন। গাছের শিকড়, ছাল নেওয়ার জন্য দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। অনেকে মানত করছেন। কেউ কেউ ভিডিও করছেন, ছবি তুলছেন। বিকেল হলে ভিড় বেড়ে যায়।

এলাকার মানুষ বলছেন, ঘটনাটি অলৌকিক। এভাবে মাটিতে পড়ে যাওয়া গাছ উঠে যেতে কখনো শুনেননি। এ ছাড়া এভাবে কাটার পর গাছ দাঁড়িয়ে থাকার অভিজ্ঞতাও কারো নেই। যা হয়েছে সব সৃষ্টিকর্তার ইশারাতেই এমন হয়েছে। তারা গাছটিকে দেখেশুনে রাখছেন। কাঠুরিয়াও জানালেন তার অভিজ্ঞতার কথা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সরজমিন  দেখা যায়, স্থানীয় মুন্সীবাড়ির একটি পুকুর পাড়ে ডালপালাহীন গাছের একটি অংশ দাঁড়িয়ে আছে। উচ্চতায় প্রায় ১৫ ফুটের মতো ওই অংশটি কিছুটা সামনের দিকে হেলে পড়া। গাছের নিচের কয়েক ইঞ্চি বাদে বাকিটা কাটা। আগের মতোই শিকড়সহ গোড়ার অংশ মাটির ওপর ও নিচে দেখা যাচ্ছে। গাছের কাটা অংশ সামনেই ফেলে রাখা।

এদিকে গাছের নিচের অংশ লাল কাপড় দিয়ে পেঁচানো। অনেকেই এসে মোমবাতি, আগরবাতি জ্বালিয়ে দিচ্ছেন। গাছের অদূরে চারিদিকে নিশানা টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র হয়ে গাছের সামনে যাওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হচ্ছে। গাছের শিকড় সংগ্রহ করতে আসা এক নারীকে বেশ কিছু সময় গাছের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দোয়া পড়ছিলেন বলে জানলেন ওই নারী। রোগ-বালাইয়ের জন্য নিজের ও অন্যের জন্য শেঁকড় সংগ্রহের কথা বলেন তিনি।

মুন্সী বাড়ির পরিবারের সদস্য শারমীন সুলতানা দাবি করেন, তিনি গাছটি পড়তেও দেখেছেন এবং উঠার সময়ও দেখেছেন। মাসদেড়েক আগে প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি পড়ে যায়। গাছটি কেটে টুকরো টুকরো করার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ায়। দেখামাত্রই তিনি চিল্লাফাল্লা করেন। এরপর বাড়িসহ আশপাশের লোকজন বিষয়টি দেখেন।

পরিবারের সদস্য আবুল বাশার মুন্সী বলেন, ‘এটি আমার এক ভাতিজার গাছ। প্রচণ্ড ঝড় তুফানে বড় আকারের এক গাছটি পড়ে যায়। পরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। গাছ কাটার পর এটি আবার দাঁড়িয়ে যায়। এটা সরাসরি আল্লাহর কুদরত।’

গাছের মালিক মাহবুব মুন্সী বলেন, 'আল্লাহতায়ালাই ভালো জানেন কিভাবে কি হয়েছে। এখন গাছ দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক আসেন। মানত করেন। আগরবাতি, মোমবাতি জ্বালান। অনেকে শেকড় নেন। তাদের ধারণা এতে রোগবালাই ভালো হবে।’

আঁখি বেগম নামে প্রতিবেশী বলেন, ‘গাছটি পড়ে থাকার সময় এর ওপর দিয়ে চলাচল করেছি। এরপর গাছটির ডালপালা ছেটে টুকরো টুকরোও করা হয়। এখন গাছটি দাঁড়িয়ে গেছে। আমরা যতটুকু পারি গাছটিকে সম্মান করে যাচ্ছি।’

আরেক প্রতিবেশী ফরিদ মুন্সী বলেন, ‘গাছটি উঠে যাওয়ার খবর পেয়ে ছুটে আসি। এখনো গাছটি কাটা অংশসহ দাঁড়িয়ে আছে। এটা আল্লাহর অশেষ রহমত। তিনিই ভালো বলতে পারবেন কেন এমন করেছেন। গাছটি দেখতে শত শত মানুষ ছুটে আসছে।’

কাঠুরিয়া মো. আমিন মিয়া বলেন, ‘গাছটি ঝড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শিকড়সহ উল্টে যায়। মাটিতে থাকা অবস্থাতেই আমি গাছটি কাটতে শুরু করি। ডালপালা কাটার পর আবার গাছটি দাঁড়িয়ে যায়।’ তার দাবি, গাছে জিন-ভূত বলে কিছু নেই। তবে মানুষ ভিড় করছে গাছটি দেখতে।

পঞ্চগড়ে স্বস্তির বৃষ্টি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে স্বস্তির বৃষ্টি
ছবি: কালের কণ্ঠ

এক সপ্তাহের তীব্র তাপদাহ ও ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নামল পঞ্চগড়ে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে আকাশে কালো মেঘ জমে ওঠার পর শুরু হয় বৃষ্টি। মেঘের গর্জনের সঙ্গে মুশলধারায় ঝরে পড়া বৃষ্টিতে জনজীবনে ফিরে আসে স্বস্তি।

আরো পড়ুন
গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের

গরু আনতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মাঠেই গ্রাণ গেল যুবকের

 

গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাপমাত্রা ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে খেটেখাওয়া শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। প্রচণ্ড গরমে অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হতে পারছিলেন না। বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন দেখা যায়। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার পর শুরু হয় দমকা হাওয়া। কিছুক্ষণ পর বজ্রধ্বনির সঙ্গে নামে ভারি বৃষ্টি। দীর্ঘদিনের গরম থেকে স্বস্তি পাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষ।

আরো পড়ুন
নারায়ণগঞ্জে ইটভাটায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধের নির্দেশ

নারায়ণগঞ্জে ইটভাটায় আড়াই লাখ টাকা জরিমানা, বন্ধের নির্দেশ

 

শহরের ভ্যানচালক সুকৃমার রায় বলেন, কয়েকদিন ধরে অসহনীয় গরমে জীবনে হাঁসফাঁস হয়েছিল। গরমে ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি ছিল না। এই বৃষ্টি সবার মনে স্বস্তি এনে দিয়েছে।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চগড়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। প্রচণ্ড দাবদাহের পর আজ বৃষ্টি হয়েছে। ৮ তারিখ পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ইঞ্জিনে আগুন (ভিডিওসহ) | কালের কণ্ঠ