kalerkantho

পীরগঞ্জে স্বচ্ছল পরিবারগুলোর হাতে দুস্থদের ভিজিডি কার্ড

পীরগঞ্জ(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১১:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পীরগঞ্জে স্বচ্ছল পরিবারগুলোর হাতে দুস্থদের ভিজিডি কার্ড

কার্ডধারীদের বাড়ি-ঘর

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুস্থ অসহায় মহিলাদের ভিজিডি কর্মসূচিতে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে গত ৮ সেপ্টেম্বর ৬ নম্বর পীরগঞ্জ ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডে অনিয়ম ও ব্যাপক দূর্নীতি করার অভিযোগে জনস্বার্থে পীরগঞ্জ উপজেলার আওলাদ হোসেন লিটন নামে এক গণমাধ্যমকর্মী মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়সহ ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। এই অনিয়মের কারণে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রগতি ক্ষুধা দারিদ্রমুক্তসহ বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম অব্যাহত হতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। 

বাংলাদেশের সব ইউনিয়নের অধীনে গ্রামাঞ্চলের অসহায়-দুস্থ ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ফ্রি ভিজিডি কর্মসূচি উপকারভোগী কার্যক্রমের ব্যবস্থা করেছে সরকার। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর পীরগঞ্জ ইউনিয়নে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত ছকে ২০১৯-২০ প্রণয়নের মাধ্যমে ২ বছর মেয়াদি কার্ড প্রদার করা হয়। প্রতিটি কার্ডে প্রতি মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়ার নিমিত্তে পীরগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার শাকিনা বিনতে শরীফ ও ৬ নম্বর পীরগঞ্জ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মাহাবুব আলমসহ অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে ভুয়া সদস্য, ভুয়া ঠিকানা ও স্বচ্ছল বিত্তবানদের মাঝে এসব কার্ড প্রদান অনিয়মের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে অনুসন্ধানে উঠে আসে। তার মধ্যে ২২৬ জন সুফলভোগী কার্ডধারীদের মধ্যে ৮০ জনের কর্মমুখী পরিবার ও ৩৪ জনের স্বচ্ছল-স্বাবলম্বী পরিবার রয়েছে। স্বচ্ছল কৃষক, জমির মালিক, আম ব্যবসায়ী, বিল্ডিং বাড়ির মালিককে এসব কার্ড দেওয়া হয়েছে। একই পরিবারের মাঝে ভিজিডি কার্ডের ৩০ কেজি চাল, ১০ টাকা কার্ডের চাল, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, বিবাহ হয়নি এমন কন্যার নামে ভিজিডি কার্ড, কন্যার বিবাহ হয়েছে এবং শ্বশুর বাড়িতে সংসার করছে তার নামেও ভিজিডি কার্ড, কেউ বিদেশে এমনকি ইউপি সদস্যার পরিবারের নামে, গ্রাম পুলিশের নামে ভিজিডি কার্ড প্রণয়ন করা হয়েছে। 
প্রকাশ ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিরহলী গ্রামের ভিজিডি ১৫৭ নম্বর কার্ড পারুল আক্তারের। তার স্বামী হুমায়ুন কবির। তার উন্নত ভবনের বাড়িতে লেখা হুমায়ুন ভিলা। তার স্বামীর আবাদি জমি ১৪ বিঘা, বর্গা জমি ৫ বিঘা, ৫টি লিজকৃত বড় আম বাগান ও পীরগঞ্জের বড় আম ব্যবসায়ী তিনি। ওই ওয়ার্ডে ভিজিডি ১৬৩ নম্বর কার্ড ফাহিমা আক্তারের। তার স্বামী সাহিনুর রহমানের ১ বিঘা জমি আছে। পাকা ভবনে বসবাস তাদের। 

এভাবে জমির মালিক, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী পরিবারে ভিজিডি কার্ড দেওয়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভিজিডি কার্ডে অনিয়মের অভিযোগে পৃথকভাবে ৩ জন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা