ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর প্রধান সড়ক, অলি-গলি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ অনেক বাসা-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। স্কুল-কলেজ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে পানি ঢুকে নাকাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগ বেড়েছে নগর জীবনে। শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ এবং সাধারণ পথচারীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে দেখা গেছে। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৬ থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিপাতে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কার্যালয়ের রাস্তা, পুলিশ লাইন, বাগিচাগাও, তালপুকুরপাড়, ফয়েজুন্নেসা স্কুল রোড, ডিসি রোড, ছোটরা, কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড, মহিলা কলেজ, ভিক্টোরিয়া কলেজ, জিলাস্কুল রোড, ঝাউতলা, মনোহরপুর, হোটেল সালাউদ্দিন মোড়, সদর হাসপাতাল রোড, স্টেডিয়াম মার্কেট, মনোহরপুর, দক্ষিণ চর্থা ইপিজেড রোড, ঠাকুরপাড়া, রেইসকোর্স, ২য় মুরাদপুর, বিসিক এলাকা, রানীরবাজার, গোয়ালপট্টি, ছাতিপট্টি, হাউজিং এস্টেট, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নগরীর অধিকাংশ সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়েছে।
নিচু এলাকার বাসা-বাড়িতে পানি উঠে এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। জলমগ্ন সড়কে চরম ঝুকি নিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকদের। নৌকা ও কোমর সমান পানি মাড়িয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেখা গেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের।
নাফিজা আক্তার নামে এক পরীক্ষার্থী বলেন, ‘মহিলা কলেজের মতো উঁচু এলাকায়ও কোমর সমান পানি। অনেক শিক্ষার্থী আজ ড্রেনে পরে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারছে না। অনেকেই নৌকায় ছড়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেছে। কুমিল্লা নগরীর দীর্ঘ দিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় পরিকল্পনা প্রয়োজন। কারণ সামান্য বৃষ্টি হলেই আমরা দেখি রাস্তা ঘাট তলিয়ে যায়। সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’
কুমিল্লা সিটি প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘অতি ভারী বৃষ্টির কারণে ড্রেন ও খালের পানি প্রবাহ ধীর গতির কারণে রাস্তায় পানি জমে গেছে। ভোর থেকে সিটি করপোরেশনের কর্মীরা পানি অপসারণে কাজ করছে। আমি নিজেও পরিদর্শনে বের হয়েছি। যেখানে যেখানে পানি বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে সেখানেই তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা দীর্ঘদিনের পানিবদ্ধতার সমস্যা স্থায়ীভাবে নিরসনের জন্য সমস্যা চিহ্নিত করে ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।’
কুমিল্লা আবহাওয়া কর্মকর্তা ছৈয়দ আরিফুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কুমিল্লায় ১০৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে এবং আরো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।’