• ই-পেপার

পাটগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

বাবা-মাকে কাঁচির আঘাতে হত্যার অভিযোগ, ছেলে গ্রেপ্তার

আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বাবা-মাকে কাঁচির আঘাতে হত্যার অভিযোগ, ছেলে গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় কাঁচি দিয়ে মা-বাবাকে হত্যা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাদের একমাত্র ছেলে মিরাজ দাশকে (৩১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-মায়ের সঙ্গে রমিরাজের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি ঘরে থাকা একটি কাঁচি দিয়ে প্রথমে তার মা কল্পনা দাশ গুপ্তকে আঘাত করেন। পরে মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশ গুপ্তকেও একই কাঁচি দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত স্বপনকে স্থানীয়রা আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজ কক্ষেই অবস্থান করছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কাঁচিটি উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করছে, পারিবারিক কলহ ও দীর্ঘদিনের মানসিক ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, নিহত স্বপন দাশ গুপ্তের ভাই তপন দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এরপর অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

১৭ বছরে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি : এস এম জিলানী

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি
১৭ বছরে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি : এস এম জিলানী
ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী বলেছেন, বিগত ১৭ বছর দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

রবিবার (২৬ জুলাই) কোটালীপাড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমি হলরুমে  উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এস এম জিলানী বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের কখনো বলিনাই যে আপনারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাল ভোট দেবেন। আমরা নেতাকর্মীদের বলেছিলাম, আপনারা ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসবেন। ভোটাররা কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান জাতির সামনে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ভোটারদের আঙুল থেকে কালি মোছার আগেই তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন ১০ হাজার টাকা করে কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেবেন। নির্বাচিত হয়ে তিনি তা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের কথা বলেছিলেন। ইতিমধ্যে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড শুরু হয়েছে। অর্থাৎ বিএনপি মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেয় সেটি বাস্তবায়ন করে।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়সভায় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার হাওলাদার, পৌর বিএনপি'র সভাপতি ইউসুফ আলী দাড়িয়া,সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান হাওলাদারসহ উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও  পৌরসভার সিরিয়ার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

কুকুর হত্যা মামলায় ২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
কুকুর হত্যা মামলায় ২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীতে দুইটি পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই ব্যক্তির নামে মামলা করা হয়েছে। রবিবার (২৬ জুলাই) পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। 

পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিকের আদালত মামলাটি সরাসরি গ্রহণ করে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন, দক্ষিণ বাদুরা এলাকার মো. মঞ্জু হাওলাদার (৫০) ও মো. জহির হাওলাদার (৪৫)। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাদুরা খেজুরতলা স্ট্যান্ড এলাকায় দুটি কুকুরকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঠের চেড়া ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পটুয়াখালী সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার নজরে আসে। পরে তিনি বাদী হয়ে মামলা করেন। 

মামলার বাদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আতিউর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। পরে যাচাই করে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইমরান বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আইন অনুযায়ী এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে নিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।

তিস্তার ভাঙন রোধের দাবিতে পাউবো ঘেরাও

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি
তিস্তার ভাঙন রোধের দাবিতে পাউবো ঘেরাও
তিস্তার ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিস্তার ভাঙন রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা। ‘তিস্তা নদী পাড়ের এলাকাবাসী’ ব্যানারে রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে আসা দুই শতাধিক ভাঙনকবলিত মানুষ এতে অংশ নেন। তারা প্রায় এক ঘণ্টা রংপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং দ্রুত স্থায়ী নদী শাসনের দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি ও শত শত বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। মাঝে মধ্যে কিছু জিওব্যাগ দেওয়া হলেও তা দিয়ে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হচ্ছে না। জিও ব্যাগে বালু ভরাটের খরচও ভুক্তভোগীদের বহন করতে হচ্ছে। 

ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল কাদের বলেন, তিস্তার ভাঙনে আমার কয়েক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন বসতভিটাও ভাঙনের মুখে। পরিবার নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমরা আর সাময়িক ব্যবস্থা চাই না, দ্রুত স্থায়ী নদী শাসনের মাধ্যমে ভাঙন রোধের ব্যবস্থা চাই। তা না হলে আমাদের শেষ সম্বলটুকুও তিস্তা কেড়ে নেবে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, কোথাও ভাঙন দেখা দিলে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে কিছু সাপ্লাই বস্তা বা জিওব্যাগ দেওয়া হয়। এটি মূলত ফার্স্ট এইড বা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাশ্রমের সহযোগিতায় এসব কাজ পরিচালিত হয়।

তিনি আরো বলেন, স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের ক্ষেত্রে কাজের গুরুত্ব নির্ধারণ, পরিকল্পনা প্রণয়ন, বরাদ্দ অনুমোদন এবং ঠিকাদার নিয়োগসহ কয়েকটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগে। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ভাঙনরোধের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ করে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাটগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ | কালের কণ্ঠ