ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ডিআইইউ) ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশন সেন্টার (আইআইসি)-এর উদ্যোগে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লেকচার সিরিজ– সিজন ১৭ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিল্পখাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত করা এবং কৃষি প্রযুক্তি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ড্যাফোডিল স্মার্ট সিটির আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
`Post-Harvest Technology in the Field of Good Food for All' শীর্ষক এ আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী প্রযুক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই কৃষি এবং শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা। অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ গ্রুপ বাংলাদেশের সঙ্গে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তিনটি বিভাগের পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
অনুষ্ঠানে কি-নোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ গ্রুপ বাংলাদেশের (কেজিবি) গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর সভাপতি ড. মো. আলী আফজাল।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুম ইকবাল, রেজিস্ট্রার ড. মোহাম্মদ নাদির বিন আলী, মাননীয় ডিন, অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুব উল হক মজুমদার, রিয়েল এস্টেট বিভাগের প্রধান ড. আমির আহমেদ, নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. নিজাম উদ্দিন, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রধান ড. খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন, ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ বিভাগের প্রধান মো. কামরুজ্জামান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (সিডিসি) হেড অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিংকেজ মনোয়ারুল ইসলাম রিবেল, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।
মূল বক্তব্যে ড. মো. আলী আফজাল ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, কৃষিতে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ফসল সংগ্রহ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমানোর বিভিন্ন কৌশল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কৃষি খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, ‘সততা, পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তাই একজন উদ্যোক্তার সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে তরুণদের সামনে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে। ইচ্ছাশক্তি, সাহস এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে তারাই আগামী দিনের সফল উদ্যোক্তা হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
অনুষ্ঠানে কৃষিবিদ গ্রুপ বাংলাদেশের সঙ্গে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ইনোভেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ, রিয়েল এস্টেট এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ-এর পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এসব সমঝোতার আওতায় যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, শিল্প-সংযুক্ত প্রকল্প, অতিথি বক্তৃতা, কর্মশালা এবং পাঠ্যক্রম উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আয়োজকরা জানান, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লেকচার সিরিজের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিল্পখাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও গবেষকদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে এ মৌসুমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও শেখার ফলাফল মূল্যায়নের জন্য একটি কাঠামোবদ্ধ মূল্যায়ন পদ্ধতি সংযুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনলাইন মূল্যায়নের আয়োজন করা হয়। বিষয়বস্তুর অনুধাবন, বিশ্লেষণী দক্ষতা, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং মৌলিকতার ভিত্তিতে মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ স্বীকৃতি সনদ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম গোএডু-এর বিভিন্ন কোর্সে বিশেষ মূল্যছাড়ও প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া লেকচার সিরিজ-এর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে রয়েছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি) এবং ই-লার্নিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে গোএডু।




