কঠোর পরিশ্রম, ল্যাবরেটরির প্রতি একাগ্রতা আর প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকলে একাডেমিক ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের প্রতিবন্ধকতা যে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, তার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) শিক্ষার্থী সাইদুল আকবার মুরাদ। স্নাতক পর্যায়ে তুলনামূলক কম সিজিপিএ (CGPA) থাকা সত্ত্বেও সব সংশয় উড়িয়ে দিয়ে তিনি যোগ দিতে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতায়। সম্প্রতি দেশটির এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি (Emporia State University)-তে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।
সাইদুল আকবার মুরাদ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ১১তম ব্যাচ এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ICE) বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
নোবিপ্রবিতে শিক্ষা জীবন শেষে মুরাদ পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানকার বিখ্যাত ‘ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া পাহাং’ (University Malaysia Pahang) থেকে ২০২৩ সালে সফলতার সঙ্গে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। একই বছর উচ্চশিক্ষার চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন মিসিসিপি’ (University of Southern Mississippi)-তে পিএইচডি গবেষণা শুরু করেন তিনি।
পিএইচডি চলাকালীন নিজের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হিসেবে ল্যাবের কঠোর পরিশ্রমকে দেখছেন মুরাদ। তিনি জানান, বাইরের কোনো জরুরি কাজ না থাকলে দিনের সিংহভাগ সময়ই তিনি কাটাতেন গবেষণাগারে। তাঁর এই একাগ্রতার ফলও মেলে দ্রুত। অল্প সময়ের মধ্যেই বেশ কয়েকটি উচ্চমানের আন্তর্জাতিক আর্টিকেল প্রকাশিত হয় তাঁর। মুরাদের এমন কৃতিত্বে অভিভূত হয়ে তাঁর প্রফেসর তাঁকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা অর্জনের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে তাঁর ক্যারিয়ার গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ পিএইচডি চলাকালীন দুটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হন সাইদুল আকবার মুরাদ। একটি, হল অব ফেম (Hall of Fame) : যুক্তরাষ্ট্রে এই স্বীকৃতিকে অত্যন্ত সম্মানজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যটি, গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাওয়ার্ড (Graduate Research Award): যা প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শেষে মাত্র ২ জনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়, যার মধ্যে একজন ছিলেন মুরাদ।
পিএইচডি সম্পন্ন করার পর মুরাদের সামনে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকতার প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে একটি ছিল ফ্লোরিডার ‘ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা’ (University of South Florida) এবং অন্যটি কানসাসের ‘এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’।
সার্বিক দিক বিবেচনা করে তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে ‘এমপোরিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি’র অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদের অফারটি গ্রহণ করেন।
সাফল্যের অনুভূতি ব্যক্ত করে সাইদুল আকবার মুরাদ বলেন, ‘একটা সময় অনার্সের কম সিজিপিএ নিয়ে খুব চিন্তায় থাকতাম, আদৌ কোনোদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারব কি না। কিন্তু আমি কখনো আশা ছাড়িনি। নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছি এবং বাকিটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আল্লাহ তাঁর অশেষ মেহেরবানিতে আমার জন্য একটি উত্তম রিজিকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি আলহামদুলিল্লাহ অত্যন্ত খুশি।’
তার এ সাফল্যে তার বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ নোবিপ্রবির সবাই গর্বিত ও আনন্দিত।






