দীর্ঘ আন্দোলনের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তির চেক বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে মনোনীত সব শিক্ষার্থীর কাছে বৃত্তির চেক পৌঁছে দেওয়া হবে। ১৫তম থেকে ২০তম ব্যাচের মোট ১ হাজার ১৬৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় রয়েছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র সৌজন্যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম কিস্তির প্রতীকী চেক বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আন্তরিক। দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট বিবেচনায় নিয়ে বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শারমীন বলেন, বৃত্তির অর্থ সময়মতো বিতরণ করা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো শিক্ষার্থী যাতে জটিলতার মুখোমুখি না হন, সেজন্য অর্থ ও হিসাব দপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি অনুষদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন জানান, চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
জকসু ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, আবাসন সংকট জবি শিক্ষার্থীদের অন্যতম প্রধান সমস্যা। এই বিশেষ বৃত্তি শিক্ষার্থীদের আর্থিক ও মানসিক চাপ অনেকাংশে কমাবে।
জকসু জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন ও যৌক্তিক দাবির ফলেই এ বৃত্তি বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বাকি অর্থও দ্রুত বিতরণের দাবি জানাচ্ছি।
উল্লেখ্য, আবাসন সংকট নিরসনের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছিলেন। গত বছর ‘যমুনা ঘেরাও’ কর্মসূচির পর শিক্ষার্থীদের জন্য ৫৬ কোটি টাকার আবাসন বৃত্তি বরাদ্দের ঘোষণা দেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এ বিশেষ বৃত্তি কার্যক্রমের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, বৃত্তি বিতরণের পাশাপাশি টিএসসি সংস্কার, নতুন আবাসিক হল নির্মাণ এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজও দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।





