আন্তর্জাতিক বাজারে দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নামার পর আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে সোনার দাম। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) স্পট গোল্ড বা স্পট সোনার দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২১.৩৮ ডলারে দাঁড়ায়। অথচ আজ দিনের শুরুতেই ধাতুটির দাম কমে গত ১ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। খবর রয়টার্স
এদিকে মার্কিন বাজারে আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিভিত্তিক সোনার (গোল্ড ফিউচার্স) দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯.২০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডসের বিশ্লেষক রিকার্দো ইভাঞ্জেলিস্টা বলেন, ‘টানা বাড়ার পর আজ মার্কিন ডলারের সূচক কিছুটা কমেছে। মূলত ডলারের এই সাময়িক পতনের কারণেই সোনার দাম আজ কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী।’
আজ আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের সূচক শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। ডলারের দাম কমলে অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য ডলারে নির্ধারিত সোনা কেনা সাশ্রয়ী হয়, ফলে সোনার চাহিদাও বাড়ে।
বিনিয়োগকারীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জুনের মার্কিন মূল্যস্ফীতির (সিপিআই) তথ্যের জন্য। একই সঙ্গে আজই মার্কিন কংগ্রেসে ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ তার প্রথম অর্ধবার্ষিক বক্তব্য দেবেন।
বিশ্লেষক ইভাঞ্জেলিস্টা সতর্ক করে বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির হার যদি ৩ দশমিক ৮ শতাংশের ওপরে চলে যায়, তবে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিতে পারে। আর এমনটা হলে সোনার দামের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হবে।’
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চড়া দাম মূল্যস্ফীতির উদ্বেগকে আরও উসকে দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেড যদি সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে চড়া রাখে, তবে সোনার দাম ধরে রাখার আকর্ষণ কমে যাবে। কারণ সোনা থেকে সরাসরি কোনো সুদ বা লভ্যাংশ পাওয়া যায় না।
এর আগে গত কার্যদিবসে স্পট সোনার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছিল, যা ছিল এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে এক দিনে সবচেয়ে বড় পতন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হওয়ায় তেলের দাম বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে সোনার বাজারে।
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ এবং হরমুজ প্রণালিতে হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে তেলের দাম গত চার সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিকে সোমবার (১৩ জুলাই) ফেডের গভর্নর ক্রিস্টোফার ওয়ালার ইঙ্গিত দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি যদি তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশের চেয়ে অনেক ওপরে থাকে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ‘নিকট ভবিষ্যতেই’ সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা এখন আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৭৬ শতাংশ ধরে নিচ্ছেন।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। আজ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভার বা রুপার দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৭.৯০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৫৪.৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৯৯.৪৩ ডলারে নেমেছে।
দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়ছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
এদিকে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।









