• ই-পেপার

কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে সংসদে শোক প্রস্তাব, বুধবার রাষ্ট্রীয় শোক

চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার

অনলাইন ডেস্ক
চলতি অর্থবছরেই ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড দেবে সরকার
সংগৃহীত ছবি

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই সারা দেশে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশব্যাপী সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করে আধুনিক ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের পক্ষে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল এ তথ্য জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় দেশের ৪৪ জেলার ৫৫ উপজেলায় তিন ধাপে ৫৬টি ইউনিটে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৬৯ হাজার ৩৮৭টি নারী-প্রধান পরিবারের নামে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভাতা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।

তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সারা দেশে সমন্বিত পরিবার শুমারি পরিচালনা করা হবে। এর আওতায় ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। শুমারির তথ্যের ভিত্তিতে প্রক্সি মিনস টেস্ট স্কোর ব্যবহার করে প্রকৃত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে ১ কোটি ৬১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ নতুন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নির্দেশিকা, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা-১৮ আসনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, পাইলট পর্যায়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কড়াইল, সাততলা, ভাষানটেক, অলিমিয়ার টেক ও বাগানবাড়ী বস্তি এলাকার (১৯, ৮ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের) কিছু অংশে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উত্তরা ও সংলগ্ন এলাকায় পরিবার শুমারি শেষে চলতি অর্থবছরেই ব্যাপকভাবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। শুমারি শেষ হলে ওয়ার্ডভিত্তিক উপকারভোগীদের তালিকাও সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের দপ্তরে সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতেই ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি

বাসস
উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবসমাজকে যুগোপযোগী জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী করে গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।

আগামীকাল ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের আহ্বানে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ পালনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। এই উপলক্ষে আমি দেশের সব তরুণ-তরুণী, শিক্ষক, প্রশিক্ষক, উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক এবং দক্ষতা উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজ একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক এবং উন্নয়ন ও অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের আধুনিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এ যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের ফলে বৈশ্বিক শ্রমবাজার প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে ই-কমার্স, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবটিকস, ব্লকচেইন, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), সাইবার সিকিউরিটি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ন্যানোপ্রযুক্তিসহ ডিজিটাল প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দেশি-বিদেশি শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ কর্মী, উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বর্তমান উন্নয়নমুখী সরকার তরুণ ও যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত, মানসম্মত এবং ভবিষ্যতমুখী কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, কারিকুলাম প্রণয়ন, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, জাতীয় দক্ষতা সনদ প্রদান এবং মানোন্নয়ন ও মান তদারকি ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি আশা করি, যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সনদায়নসহ সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো দেশ-বিদেশের শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী এবং শিল্প-বাণিজ্যসহ সব খাতের অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে দক্ষতা অর্জনে আরো উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

তিনি ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘যুবসমাজের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে চাহিদাভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার। উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর, বৈষম্যহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার দক্ষতা উন্নয়নকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। পরিবর্তিত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তিনির্ভর কর্মপরিবেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।’

আগামীকাল ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের আহ্বানে ২০১৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের তরুণদের উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের যে সুদূরপ্রসারী দর্শন ও কর্মসূচির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতাকে আরো শক্তিশালী ও যুগোপযোগী রূপ দিচ্ছে। সরকার দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বহুমাত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যুবসমাজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের দক্ষতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা ও পেশাগত যোগ্যতা বিকশিত করা গেলে দেশের শিল্পায়ন, উৎপাদনশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরো ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন এবং উদীয়মান প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ কর্মক্ষেত্রে যেমন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে, তেমনি নতুন সম্ভাবনারও দ্বার উন্মোচন করছে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সরকার দক্ষতা উন্নয়নব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, শিল্পমুখী ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ দক্ষতার মানোন্নয়ন, অভিন্ন সনদায়ন ব্যবস্থা প্রবর্তন, দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন, জাতীয় দক্ষতা প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং বিশ্ব দক্ষতা প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণসহ বহুমাত্রিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি সরকারি, বেসরকারি ও শিল্পখাতের সমন্বয়ে একটি সময়োপযোগী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, “আমি বিশ্বাস করি, দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুনঃদক্ষায়ন (Reskilling) ও দক্ষতার নবায়ন (Upskilling)-এর সুযোগ সম্প্রসারণ এবং পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী অধিক সংখ্যক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের জাতীয় অভিযাত্রা আরো বেগবান হবে।”

খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
খেলাধুলার প্রসারে প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত ৮ বিঘা জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত

দেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ সমাজকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিটি ইউনিয়নে ন্যূনতম ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করে খেলার মাঠ সংস্কার, উন্নয়ন বা প্রতিষ্ঠার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাপন, উন্মুক্ত খেলার স্থান সংকোচন এবং অতি-নগরায়ণের ফলে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম ক্রমশ সীমিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে মাদকাসক্তি, অপরাধপ্রবণতা ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সরকার এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, খেলাধুলার সার্বিক বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত মাঠের প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন প্রতিমন্ত্রী নিজেই। এই কমিটিতে স্থানীয় সরকার ও গৃহায়ণ প্রতিমন্ত্রীসহ ১২ জন সচিব রয়েছেন। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঢাকাসহ সারা দেশে মাঠ সংরক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন খেলার মাঠ নির্মাণের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে।

তিনি আরো জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে নিজ নিজ এলাকায় অন্তত ৮ বিঘা জমি নির্ধারণের জন্য আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেওয়া হয়েছে, যেখানে তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে আধুনিক খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে।

আন্ত মন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সর্বসাধারণের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নের প্রস্তাব পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও তাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে ভূমি একটি সীমিত জাতীয় সম্পদ হওয়ায় সরকারি নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যেসব ইউনিয়নে বর্তমানে কোনো বিদ্যমান খেলার মাঠ নেই, সেখানে ভবিষ্যতে মাঠ প্রতিষ্ঠার জন্য কোনোভাবেই কৃষি জমি বিপন্ন করা যাবে না। কৃষি জমি রক্ষা করে ইউনিয়নের অধিভুক্ত এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে বা গ্রোথ সেন্টারের নিকটবর্তী স্থানে সরকারি খাসজমি থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই ন্যূনতম ৮ বিঘা জমি চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের এই উদ্যোগের পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে দেশের আটটি বিভাগ এবং ফরিদপুর ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি অঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। প্রস্তাবিত এসব স্পোর্টস ভিলেজে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, আর্চারি, শুটিং ও ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে।

শিশু-কিশোরদের মানসম্মত শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সরকার ইতোমধ্যে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' কর্মসূচি চালু করেছে এবং চতুর্থ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের এই ক্রীড়াবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খেলার মাঠ এবং আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজগুলো দারুণ ভূমিকা রাখবে। এই সমন্বিত উদ্যোগ সফল হলে স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি তৃণমূল থেকে প্রতিভা অন্বেষণ সহজ হবে, যা ভবিষ্যতে একটি স্বাস্থ্যবান, সুশৃঙ্খল ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে যুগান্তকারী অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।