• ই-পেপার

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে বাংলাদেশ

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপের আশঙ্কা

মন্দা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাড়ছে আমদানি

অনলাইন ডেস্ক
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপের আশঙ্কা

সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতির আওতায় সরকারের আমদানিনির্ভর কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। এর ফলে সরকারি  আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ ঋণপত্র (এলসি) খোলা হচ্ছে, যা বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে বর্তমানে ডলার কেনা থেকে বিরত রয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতির কারণে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় বাড়লে আমদানিও বেড়ে যায়। এতে যন্ত্রপাতি, জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য কিনতে বেশি ডলার প্রয়োজন হয়। ফলে বেশি এলসি খুলতে হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ বাড়ে। রপ্তানি ও রেমিট্যান্স থেকে পর্যাপ্ত ডলার না এলে এই চাপ রিজার্ভ ও বিনিময় হার উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলে। এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি এলসি নিষ্পত্তির জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ডলারের চাহিদা বর্তমানে অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি বাজার থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রাখে, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আরও চাপ সৃষ্টি হবে এবং বিনিময় হার অস্থিতিশীল হয়ে পড়তে পারে।

মুক্ত ভাসমান বিনিময় হার ব্যবস্থার আওতায় আন্তঃব্যাংক স্পট মার্কেটে টাকার মানের ধারাবাহিক পতনের পর গত বছরের ১৩ জুলাই থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ শুরু করে। বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা রোধ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে তখন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনা হয়। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। সরকারের আমদানি এলসি খোলার চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহেও কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দেওয়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ তুলনামূলক সংকুচিত হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনার বিষয়টি বিবেচনা করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কারণ বর্তমান বাজার থেকে ডলার কিনলে আরও চাপ তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মুক্ত ভাসমান বিনিময় হার চালুর পর সর্বশেষ চলতি বছরের ৪ জুন নিলামের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার কেনা হয়। এর ফলে গত বছরের জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট ডলার কেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৪২ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্র জানায়, গত জুন মাসে সরকার ২০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের আমদানি এলসি খুলেছে। চলতি জুলাই মাসেও একই পরিমাণ এলসি খোলার প্রস্তুতি রয়েছে, যা আগামী সপ্তাহগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারি এলসি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এসব এলসির অর্থ পরিশোধের জন্য ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত ডলার মজুত রাখতে হচ্ছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এখন বাজার থেকে ডলার কিনতে থাকে, তাহলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য সরকারি এলসির চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতি যথাযথ। কারণ অল্পসংখ্যক ব্যাংকের পক্ষেই এত বড় এলসির চাপ বহন করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা। কিন্তু সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতির কারণে সরকারের আমদানিনির্ভর কার্যক্রম আরও বাড়বে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি এ অবস্থায় বাজার থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রাখে, তাহলে বিনিময় হার আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাজার হস্তক্ষেপের মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সরকারি আমদানির চাহিদা বাড়তে থাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে ডলারের চাহিদাও ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রতি সপ্তাহে ৬০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সরকারি এলসির অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

রপ্তানি কমেছে ৮ শতাংশ, চীনের কমেছে ৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের বাজারে সম্প্রতি ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টা শুল্কের লড়াইয়ের বড় প্রভাব পড়েছে মার্কিন বাজারে। বাড়তি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি এখন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চীনের এ বিশাল পতনের সুযোগে পোশাক সরবরাহে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানটি নিজের দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য অন্যতম বড় অর্জন। ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সার)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

যদিও চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ক্ষেত্রে এই পতনের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ। এতে বাংলাদেশ খুব সহজেই চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং শুল্কের প্রভাবে মার্কিন ক্রেতারা এখন ব্যাপকভাবে চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে নতুন উৎস খোঁজার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা। চীনের এ বাজার হারানোর সরাসরি সুফল পাচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ওটেক্সার অফিসিয়াল তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। রপ্তানি হওয়া পোশাকের পরিমাণের দিক থেকেও বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে। তবে মে মাসের একক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য বেশ আশাব্যাঞ্জক ছিল। একক মাস হিসেবে ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ৫৮২ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এটি ২০২৫ সালের মে মাসের ৫৪৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি।

ওটেক্সার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মেয়াদে মার্কিন বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি বিপুল পরিমাণে কমেছে। এই পাঁচ মাসে চীনের রপ্তানি আয় ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে মাত্র ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে চীনের এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। পোশাকের পরিমাণের দিক থেকেও চীন ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ বড় পতনের মুখোমুখি হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাজারে চীনা পোশাকের প্রতি ইউনিটের দাম কমেছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চীনের এ ঐতিহাসিক ধসের কারণেই মূলত বাংলাদেশ ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানটি নিজের দখলে রাখতে পেরেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বৈশ্বিক পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ মন্দা বাজারের মধ্যেও ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া তাদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী করেছে। ভিয়েতনাম ৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক  ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে কম্বোডিয়া ১৪ দশমিক  ৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিপিএএমইএ পরিচালক এবং কাজী প্রিন্টিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফাহাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে, চীনের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। এ বাস্তবতা আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন সময় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের আরও বেশি আস্থা অর্জনের।’

তিনি বলেন, ‘এ সাফল্যের পেছনে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপিএএমইএ-এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বমানের অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে। সরকার, উদ্যোক্তা ও শিল্প খাত একসঙ্গে কাজ করলে আমরা শুধু দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখব না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারি আরও বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হব।’

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত : জরুরি সহায়তা চাইল ৪ ব্যবসায়ী সংগঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত : জরুরি সহায়তা চাইল ৪ ব্যবসায়ী সংগঠন
ফাইল ছবি

বন্যা ও ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশের চারটি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সরকারের কাছে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছে তারা। সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, প্যাকেজিংসামগ্রীসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আর্দ্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং ব্যয়বহুল বিমানপথে পণ্য পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ড এবং বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পানি ঢুকে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাজনিত পণ্যক্ষতির দায় অস্বীকার করে যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনগুলোর মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন কনটেইনার আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ ও অন্যান্য চার্জ গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, নগদ অর্থপ্রবাহ, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

এ পরিস্থিতিতে সংগঠনগুলো ৯ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ দ্রুত সচল করা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ কমিটি গঠন, ডেমারেজ, স্টোরেজসহ বিভিন্ন চার্জ আংশিক বা পুরোপুরি মওকুফ, জরুরি পণ্যের জন্য দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্রের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন ও কার্যকরী মূলধন ঋণ, ঋণ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি, এলসি ও আমদানি-রপ্তানির সময়সীমা বাড়ানো, কর ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ছাড় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন।

এ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় নৌপরিবহন, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্ত মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে একটি জাতীয় ট্রেড কনটিনিউটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নেরও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনগুলো।

যৌথ চিঠিতে সই করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

অনলাইন ডেস্ক
আজকের বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে। এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে ওঠানামা করছে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার।

দেশীয় বাজারে মার্কিন ডলারসহ আন্তর্জাতিক প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা ওঠানামা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১২ জুলাই ২০২৬) মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—

মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা

ইউএস ডলার : ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা
ইউরো : ১৪০ টাকা ২০ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৬ টাকা ৭৫ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৫ টাকা ৩৮ পয়সা
চাইনিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ১১ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৫ টাকা ০৭ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ২৯ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৮৬ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৪ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৮ টাকা ১৬ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা

*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে। বিগত এক মাসে ডলারের গড় বিনিময় হার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে ১২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করেছে, যা আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তিদায়ক।