• ই-পেপার

বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপের আশঙ্কা

  • মন্দা কাটিয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাড়ছে আমদানি

রিজার্ভ দাঁড়াল ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
রিজার্ভ দাঁড়াল ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী এই রিজার্ভের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ডলার।

রবিবার (১২ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এদিকে আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছর ২৫ জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার বর্তমান রিজার্ভ প্রায় ৩৬ দশমিক ০৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক মূলত সরকারের বৈদেশিক দায়-দেনা নিষ্পত্তি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বর্তমানে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য থাকায় ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকায় সামগ্রিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। আমদানি ঋণপত্র খোলা ও বৈদেশিক লেনদেন পরিচালনায় সামগ্রিকভাবে ডলার সংকট বিদ্যমান নেই।

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

রপ্তানি কমেছে ৮ শতাংশ, চীনের কমেছে ৪৩ শতাংশ

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের বাজারে সম্প্রতি ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পাল্টা শুল্কের লড়াইয়ের বড় প্রভাব পড়েছে মার্কিন বাজারে। বাড়তি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি এখন ব্যাপকভাবে কমে গেছে। চীনের এ বিশাল পতনের সুযোগে পোশাক সরবরাহে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানটি নিজের দখলে নিয়েছে বাংলাদেশ।

বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দার মধ্যেও এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য অন্যতম বড় অর্জন। ইউএস অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সার)-এর সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

যদিও চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের চেয়ে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ক্ষেত্রে এই পতনের হার প্রায় ৪৩ শতাংশ। এতে বাংলাদেশ খুব সহজেই চীনকে টপকে দ্বিতীয় স্থানটি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং শুল্কের প্রভাবে মার্কিন ক্রেতারা এখন ব্যাপকভাবে চীন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। এর ফলে নতুন উৎস খোঁজার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা। চীনের এ বাজার হারানোর সরাসরি সুফল পাচ্ছে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ওটেক্সার অফিসিয়াল তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। রপ্তানি হওয়া পোশাকের পরিমাণের দিক থেকেও বাংলাদেশের রপ্তানি গত বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ কমেছে। তবে মে মাসের একক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য বেশ আশাব্যাঞ্জক ছিল। একক মাস হিসেবে ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলাদেশ ৫৮২ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এটি ২০২৫ সালের মে মাসের ৫৪৮ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার তুলনায় ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি।

ওটেক্সার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মেয়াদে মার্কিন বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি বিপুল পরিমাণে কমেছে। এই পাঁচ মাসে চীনের রপ্তানি আয় ৪২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বা প্রায় ৪৩ শতাংশ কমে মাত্র ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। গত বছরের একই সময়ে চীনের এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ দশমিক ৮৯ বিলিয়ন ডলার। পোশাকের পরিমাণের দিক থেকেও চীন ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ বড় পতনের মুখোমুখি হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন বাজারে চীনা পোশাকের প্রতি ইউনিটের দাম কমেছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। চীনের এ ঐতিহাসিক ধসের কারণেই মূলত বাংলাদেশ ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলারের বিপরীতে ৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানটি নিজের দখলে রাখতে পেরেছে। এ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বৈশ্বিক পোশাক আমদানি ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ মন্দা বাজারের মধ্যেও ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া তাদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী করেছে। ভিয়েতনাম ৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক  ৪৬ শতাংশ। অন্যদিকে কম্বোডিয়া ১৪ দশমিক  ৯০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ১ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিপিএএমইএ পরিচালক এবং কাজী প্রিন্টিং অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফাহাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে, চীনের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। এ বাস্তবতা আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এখন সময় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করে বৈশ্বিক ক্রেতাদের আরও বেশি আস্থা অর্জনের।’

তিনি বলেন, ‘এ সাফল্যের পেছনে গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং শিল্পের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিপিএএমইএ-এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বমানের অ্যাকসেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশের রপ্তানি সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করছে। সরকার, উদ্যোক্তা ও শিল্প খাত একসঙ্গে কাজ করলে আমরা শুধু দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখব না, বরং বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অংশীদারি আরও বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হব।’

আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে ঢুকছে বাংলাদেশ

চীন, ভারত, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা ইউরোপ-আমেরিকার কোনো ভোক্তার কাছে তার চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদিত কৃষি ও শিল্পপণ্য রপ্তানি করতে পারবে বাংলাদেশের কৃষক কিংবা উদ্যোক্তা। এজন্য  কোনো ব্যাংকে এলসি খুলতে হবে না। লাগবে না কোনো ডকুমেন্ট। কোনো এজেন্ট ছাড়াই সরাসরি ভোক্তার কাছ থেকে গ্রাহকের অনলাইনে পণ্য আমদানি-রপ্তানির সুযোগ অবারিত করতে দেশে প্রথমবারের মতো ক্রস বর্ডার (আন্তসীমান্ত) ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালার অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার।

নীতিমালাটির খসড়া তৈরি করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রতিদিন। সূত্র জানায়, নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত করতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সভা করার বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। এটি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনার পর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ নিয়মিত অনলাইনে কেনাকাটা করেন। বিশ্বের মোট খুচরা বাণিজ্যের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এখন অনলাইনে সম্পন্ন হয়। এ ছাড়া বিশ্বব্যাপী ব্যবসা থেকে ব্যবসার (বিটুবি) এবং ব্যবসার সঙ্গে ভোক্তার (বিটুসি) লেনদেনসহ ডিজিটাল বাণিজ্যের বাজারটি বর্তমানে বিশাল আকার ধারণ করেছে। অনলাইনে ট্রিলিয়ন ডলারের এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যুক্ত হওয়ার জন্য কিছু বিধিবিধান ও প্রক্রিয়া মেনে বাণিজ্য করা দরকার। ক্রস বর্ডার বাণিজ্য নীতিমালা, ২০২৬ এর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হবে।

কেন এই নীতিমালা : ছোট ছোট উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের কোনো পণ্য বা সবজি বা ফলমূল যদি বিদেশে রপ্তানি করতে চায়, তবে তা লাগেজ পার্টির মাধ্যমে পাঠায়। এ ধরনের বাণিজ্যের বিপরীতে যে পেমেন্ট হয়, তা ব্যাংকিং সিস্টেমে আসে না। হুন্ডি বা অন্য কোনো মাধ্যমে আসে। একইভাবে ক্রস বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নীতিমালা না থাকায় বাংলাদেশের ভোক্তারা অ্যামাজন, আলিবাবার মতো ইকমার্স প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি পণ্য আনতে পেমেন্ট সমস্যায় পড়েন। এ সমস্যা সমাধানে নীতিমালাটি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

খসড়া নীতিমালায় যা আছে : বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের খসড়ায় বলা হয়েছে, অনলাইনে পেমেন্ট সহজ করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্রসবর্ডার এস্ক্রো সার্ভিসের প্রচলন করা হবে। দেশীয় পণ্যের রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রণোদনা সহায়তা ছাড়াও বিদেশে বেসরকারি উদ্যোগে প্রসেসিং সেন্টার ও ওয়্যারহাউস স্থাপনে নীতি সুবিধা দেওয়া হবে। ডিজিটাল বাণিজ্যের মাধ্যমে নকল বা ভেজাল পণ্য কেনাবেচা করা যাবে না। অনলাইন লটারি, জুয়া, বেটিং, গেমিং ইত্যাদি আয়োজন করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো গিফট কার্ড, গিফট ভাউচার বা অর্থের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন কোনো কার্ড বা ডিজিটাল নম্বর বা মাধ্যম কেনাবেচা করতে পারবে না। অ্যামাজন, আলিবাবার মতো বিদেশি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে পণ্য বিক্রি করতে চাইলে বিক্রয়োত্তর সেবার জন্য অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে কোনো কোম্পানি স্থাপন ছাড়া বিদেশি বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ নীতিমালা হলে ঋণপত্র (এলসি) খোলা ছাড়াই দেশে বসে যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ডিজিটাল বাণিজ্যের মাধ্যমে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে পণ্য ও সেবা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে। অ্যামাজন, আলিবাবা, বেস্টবাইসহ বিশ্বজুড়ে থাকা সব ধরনের বিদেশি ডিজিটাল বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে অনলাইনে খুচরা ও বাল্ক আকারে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে। আবার বাংলাদেশি দারাজ, অথবা ডট কম, বিক্রয় ডট কম, ফুডপান্ডার মতো দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও বিদেশে পণ্য রপ্তানির সুযোগ পাবে। পাশাপাশি দেশীয় ব্র্যান্ডেড পণ্যসহ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য এসব বৈশ্বিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিক্রি ও রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, চীন বাংলাদশ থেকে আম, কাঁঠাল, পেয়ারা জাতীয় ফল নেওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে। এলসি করে এ ধরনের ছোট অ্যালটমেন্টের পণ্য রপ্তানি করা কঠিন। যদি এই নীতিমালাটি অনুমোদন হয়, তখন বাংলাদেশের কৃষক ও উদ্যোক্তাশ্রেণি নিজের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশি ভোক্তার কাছে রপ্তানি করতে পারবে। জামদানিসহ কুটির শিল্পের বা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের পণ্য বিদেশে বিক্রির সুযোগ বাড়বে। এজন্য কোনো এলসি করতে হবে না। ধরা যাক, চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোনো বাগান মালিক তার আমের ছবি অনলাইনে প্রদর্শন করল। ওই ছবি দেখে চীনের কোনো ভোক্তা সরাসরি অর্ডার দিতে পারবে। এর ফলে উদ্যোক্তার সঙ্গে ক্রেতার সরাসরি যোগাযোগ সম্পর্ক তৈরি হবে।

প্রাণ আরএফএল গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মোস্তাহিদাল হক বলেন, বর্তমানে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান চায়নিজ পণ্য এনে অনলাইনে ব্যবসা করছেন। এতে দেশীয় পণ্যের প্রসার হচ্ছে না। এই নীতিমালার মধ্য দিয়ে দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ঢোকার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজের সাবেক এই সিইও জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের একটি জামদানি শাড়ি কিংবা হাতের কাজ করা পাঞ্জাবি বিদেশি ক্রেতার কাছে বিক্রি করতে হলে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাতে হয়। এতে পেমেন্টসহ নানা জটিলতা তৈরি হয়। ক্রসবর্ডার বাণিজ্য নীতিমালাটি হলে সেই সমস্যা থাকবে না। অনলাইনে প্রদর্শিত বাংলাদেশের একটি বা দশটি যেকোনো সংখ্যক পণ্য বিদেশের যেকোনো ভোক্তা কেনার সুযোগ পাবেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত : জরুরি সহায়তা চাইল ৪ ব্যবসায়ী সংগঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত : জরুরি সহায়তা চাইল ৪ ব্যবসায়ী সংগঠন
ফাইল ছবি

বন্যা ও ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি ও সরবরাহব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশের চারটি শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তারা সরকারের কাছে জরুরি নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা চেয়েছে।

রবিবার (১২ জুলাই) নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে পাঠানো এক যৌথ চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছে তারা। সংগঠনগুলো হলো বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই)।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে পণ্য খালাস, সংরক্ষণ ও পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে আমদানি করা তুলা, সুতা, কাপড়, রাসায়নিক, প্যাকেজিংসামগ্রীসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আর্দ্রতায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

এ ছাড়া তৈরি পোশাক, হোম টেক্সটাইল, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানি পণ্যের চালান বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানি আদেশ বাতিল, মূল্যছাড়, বিলম্বজনিত জরিমানা এবং ব্যয়বহুল বিমানপথে পণ্য পাঠানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারি বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন কনটেইনার ইয়ার্ড এবং বেসরকারি ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে (আইসিডি) পানি ঢুকে আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ অবস্থায় গত ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্যাজনিত পণ্যক্ষতির দায় অস্বীকার করে যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সংগঠনগুলোর মতে, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা উচিত।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন কনটেইনার আটকে থাকায় ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ ও অন্যান্য চার্জ গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহ ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় শিল্প উৎপাদন, নগদ অর্থপ্রবাহ, শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ এবং ব্যাংকঋণের কিস্তি পরিশোধে চাপ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান।

এ পরিস্থিতিতে সংগঠনগুলো ৯ দফা সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ দ্রুত সচল করা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ কমিটি গঠন, ডেমারেজ, স্টোরেজসহ বিভিন্ন চার্জ আংশিক বা পুরোপুরি মওকুফ, জরুরি পণ্যের জন্য দ্রুত কাস্টমস ছাড়পত্রের ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন ও কার্যকরী মূলধন ঋণ, ঋণ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি, এলসি ও আমদানি-রপ্তানির সময়সীমা বাড়ানো, কর ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে ছাড় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা তহবিল গঠন।

এ ছাড়া পরিস্থিতি মোকাবেলায় নৌপরিবহন, অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্ত মন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে।

দীর্ঘ মেয়াদে বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সচল রাখতে একটি জাতীয় ট্রেড কনটিনিউটি ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নেরও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনগুলো।

যৌথ চিঠিতে সই করেছেন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।