• ই-পেপার

যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড শ্রমবাজার

বাণিজ্যমন্ত্রী

চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার

অনলাইন ডেস্ক
চলতি অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার
ফাইল ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পণ্য ও সেবা রপ্তানি থেকে সরকার ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আজ রবিবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

দেশের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকার রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো, নতুন বাজার সম্প্রসারণ এবং পণ্যের বহুমুখীকরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

দাম আরো কমে যত ‍টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা

অনলাইন ডেস্ক
দাম আরো কমে যত ‍টাকায় বিক্রি হচ্ছে সোনা
সংগৃহীত ছবি

সব শেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমানো হয়েছে সোনার দাম। এখন ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

রবিবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশনের (বাজুস) সব শেষ সমন্বয়কৃত দামেই বিক্রি হচ্ছে। গত শুক্রবার নতুন দাম সমন্বয় করে বাজুস। যা ওই দিন সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৯৪ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪৫ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৮ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

এক মিনিটে সর্বাধিক রড উৎপাদনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েছে একেএস

অনলাইন ডেস্ক
এক মিনিটে সর্বাধিক রড উৎপাদনে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস গড়েছে একেএস

এক মিনিটে সর্বাধিক স্টিলের রড উৎপাদন করে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্টিল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান একেএস। ‘এক মিনিটে সর্বাধিক স্টিলের রড উৎপাদন’ বিভাগে বিশ্বরেকর্ড গড়ে আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়া অনুযায়ী একেএস মাত্র এক মিনিটে ৫২টি স্টিলের রড উৎপাদন করে। প্রতিটি রডের দৈর্ঘ্য ছিল ১০৮ মিটার। বিশ্বের দ্রুততম রড উৎপাদন কারখানা, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ প্রকৌশল এবং আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে এ রেকর্ড অর্জন সম্ভব হয়েছে।

একেএস জানায়, তাদের উৎপাদন ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো বৈদ্যুতিক আর্ক চুল্লি প্রযুক্তি। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে শতভাগ পরিশোধিত স্টিল উৎপাদন করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ বিষয়ে আবুল খায়ের স্টিল মেল্টিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মোমিন বলেন, ‘এ বিশ্বরেকর্ড অর্জন শুধু একেএসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক নয়, এটি বাংলাদেশের উৎপাদনশিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। বিশ্বমানের প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং উৎকর্ষের প্রতি আমাদের অবিচল প্রতিশ্রুতির ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সর্বোচ্চ মানের স্টিল উৎপাদনে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, উৎপাদন উৎকর্ষের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশে একমাত্র আবুল খায়ের স্টিলই তাদের উৎপাদনব্যবস্থায় শূন্য পানি নিঃসরণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত পানি সম্পূর্ণ পরিশোধন করে পুনর্ব্যবহার করছে।

এ ছাড়া সৌরশক্তির ব্যবহার, আধুনিক ধোঁয়া ও নির্গমন পরিশোধন ব্যবস্থার মাধ্যমে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের পুনর্ব্যবহার এবং নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

একেএসের দাবি, দেশের আবাসন, শিল্প ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে নির্ভরযোগ্য স্টিল সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ এ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্টিলশিল্পের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উৎপাদন দক্ষতাকে বিশ্বদরবারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স পেল বিএমএটিএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স পেল বিএমএটিএস

দেশের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমবারের মতো একটি স্বীকৃত জাতীয় শিল্প সংগঠনের অধীনে আসছে। বাংলাদেশ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রান্সফরমার্স অ্যান্ড সুইচগিয়ার (বিএমএটিএস)-কে বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে লাইসেন্স দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, যা বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পের জন্য নতুন প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরি করবে।

মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন-২ শাখা গত ২১ জুলাই সংগঠনটিকে লাইসেন্স নম্বর ০৯/২০২৬ প্রদান করে। অনুমোদনের মাধ্যমে ট্রান্সফরমার, সুইচগিয়ার ও সংশ্লিষ্ট বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার সুযোগ পাবে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ফলে দেশে ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ারের চাহিদা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প, শিল্পায়ন এবং নগরায়ণের কারণে এই খাতের গুরুত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কাঁচামাল সংগ্রহ, প্রযুক্তি উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি ক্রয়নীতির মতো বিভিন্ন বিষয়ে উদ্যোক্তারা দীর্ঘদিন ধরে সমন্বিত প্রতিনিধিত্বের অভাব অনুভব করছিলেন।

নতুন সংগঠনটি শিল্পের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের কাছে উপস্থাপন, নীতিগত সহায়তা আদায় এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতেও সংগঠনটি কাজ করতে পারবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনপত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬০ দিনের মধ্যে যৌথমূলধন কম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে নিবন্ধন সম্পন্ন করা, স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ সভা আয়োজন এবং ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন।

বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্প গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের ট্রান্সফরমার ও সুইচগিয়ার সরবরাহ করছে। শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, একটি শক্তিশালী শিল্প সংগঠন গড়ে ওঠার ফলে নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

উদ্যোক্তারা বলছেন, বিএমএটিএসের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুধু একটি নতুন সংগঠনের সূচনা নয়; বরং দেশের বিদ্যুৎ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম উৎপাদন শিল্পকে আরো সংগঠিত, আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

যুদ্ধে লণ্ডভণ্ড শ্রমবাজার | কালের কণ্ঠ