বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে চলমান কর্মসূচির বাস্তবতা পুনর্মূল্যায়ন করে নতুন কাঠামোয় এগোনোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সরকার বলছে, পরিবর্তিত দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে (সিকোয়েন্সিং) অগ্রসর হওয়াই হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ। একই সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে নতুন একটি আইএমএফ কর্মসূচি নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আইএমএফ’র উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, চলমান আইএমএফ কর্মসূচির অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হয়।
বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বর্তমান আইএমএফ কর্মসূচিটি ভিন্ন অর্থনৈতিক ও নীতিগত বাস্তবতায় নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, সরকার সংস্কার কার্যক্রম থেকে সরে আসতে চায় না। বরং দেশের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অগ্রাধিকারভিত্তিক ও বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার কার্যক্রম ধাপে ধাপে এগিয়ে নিতে আগ্রহী। এ প্রেক্ষাপটে নবনির্বাচিত সরকারের অধীনে তিন বছর মেয়াদি নতুন একটি আইএমএফ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্ভাব্য নতুন কর্মসূচিতে বাস্তবভিত্তিক সময়সীমার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্ক বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ঘনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং ব্যাংক খাতের সংস্কারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে একযোগে কঠোর সংস্কারের বদলে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য রোডম্যাপ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন কর্মসূচির আলোচনায় করনীতি সংস্কার, জ্বালানি মূল্য সমন্বয়, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়সীমাও আরো নমনীয় হতে পারে।
বৈঠকে উভয়পক্ষই একটি বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য নতুন আইএমএফ কর্মসূচি এবং এ সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।









