• ই-পেপার

সাশ্রয়ী মূল্যে সারা দেশে বসুন্ধরার পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু

ডলারের অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংকট

৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম

অনলাইন ডেস্ক
৫ বছরেই দ্বিগুণ হতে পারে সোনার দাম
সোনার গয়না। ছবি : রয়টার্স

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বেড়েছে রেকর্ড গতিতে। বিশ্ববাজারের সাময়িক ওঠানামা বাদ দিলে এই মূল্যবান ধাতুর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা চলছে বছরের পর বছর ধরে। ২০২০ সালেও যেখানে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ ডলার, বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। খবর ডয়েচে ভেলে

অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বজুড়ে কাগজের মুদ্রার মান কমছে। অন্যদিকে বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় প্রথাগত বিনিয়োগ এখন আর আগের মতো লাভজনক মনে হচ্ছে না। ফলে নিজেদের সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে নিরাপদ বিনিয়োগের খোঁজে সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দিকে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। আর অতিরিক্ত চাহিদার কারণেই বিশ্ববাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।

জার্মানিভিত্তিক ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি সোনা কিনছে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মজুদ ব্যাপক হারে বাড়াচ্ছে। ব্যাংকটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই ধারা বজায় থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে সোনার দাম বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হয়ে প্রতি আউন্স ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে।

জার্মানির ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবার্গের বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার মনে করেন, মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান, সুদের হার কমার পূর্বাভাস এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় অঙ্কের কেনাকাটার কারণেই সোনার বাজারে এই তেজি ভাব।

তবে এর পাশাপাশি বাজারে ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো নতুন খাতের অংশগ্রহণকারীদেরও দেখছেন তিনি। শ্যালেনবার্গার জানান, ডিজিটাল মুদ্রার বিনিয়োগকারীরাও এখন ঝুঁকি এড়াতে তাদের সম্পদের একটি অংশ দিয়ে সোনা কিনছেন, যা সোনার দাম বাড়াতে নতুন জ্বালানি জোগাচ্ছে।

ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল হুয়েহ জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মতো বড় ও স্থায়ী ক্রেতারা এখন বাজার থেকে সাধারণ গহনা ক্রেতাদের একরকম দূরে ঠেলে দিয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সোনার দামের রেকর্ড গড়াতে এই প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদাই মূল ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, ডিজেড ব্যাংকের বিশ্লেষক থমাস কুল্পের মতে, বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধাবস্থাই সোনা কেনার প্রধান কারণ। যেকোনো সংকটে সোনা সবসময়ই স্বাধীনতার গ্যারান্টি এবং সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।

সোনা নিজে থেকে কোনো লভ্যাংশ বা সুদ তৈরি করতে পারে না এবং এর দামেও ফটকা বাজারের প্রভাব থাকে। তবুও গদির নিচে নগদ টাকা লুকিয়ে রাখার চেয়ে সম্পদ সুরক্ষায় সোনা রাখা অনেক বেশি নিরাপদ।

তবে শ্যালেনবার্গার কিছুটা সতর্ক করে বলেন, নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সোনার সুনাম মাঝে মাঝে একটু বাড়িয়ে বলা হয়। পুরো সম্পদ সোনায় রূপান্তর না করে, যেকোনো পোর্টফোলিও বা তহবিলের ৫ থেকে ১০ শতাংশ সোনায় রাখা উচিত, যা বাজারের ঝুঁকি বা ওঠানামা কমাতে সাহায্য করে।

অবশ্য ডয়চে ব্যাংকের মাইকেল হুয়েহ ভিন্ন মত পোষণ করে বড় পরিসরেই সোনা জমা রাখার পক্ষে। তিনি মনে করেন, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ও মুদ্রাস্ফীতি থেকে বাঁচতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা জমানোর সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যৌক্তিক।

অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে সবসময়ই কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকে। ডয়চে ব্যাংকের ২০৩১ সালের মধ্যে আউন্সপ্রতি ৮ হাজার ডলারের পূর্বাভাস নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার এই পূর্বাভাসের সাথে একমত নন। তার মতে, গোল্ড ইটিএফ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার যে জোয়ার ছিল, তা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়েছে। ফলে আগামী পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো বড় কোনো কারণ তিনি দেখছেন না।

তবে ডয়চে ব্যাংকের গবেষক মাইকেল হুয়েহ তার পূর্বাভাসে অনড়। তিনি মনে করেন, বিশ্ব রাজনীতিতে এখন স্নায়ুযুদ্ধের মতো চরম উত্তেজনা চলছে। ফলে উদীয়মান দেশগুলো মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৪০ শতাংশই সোনায় রূপান্তর করতে পারে। আর তেমনটি হলে সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছানো অসম্ভব কিছু নয়।

ডিজেড ব্যাংকের থমাস কুল্প অবশ্য মধ্যপন্থা অবলম্বন করছেন। ৮ হাজার ডলারের পূর্বাভাসকে তিনি উড়িয়ে না দিলেও কিছুটা সতর্ক। তবে তিনি আশাবাদী হয়ে বলেন, ‘আগামী ১২ মাসের মধ্যে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ডলারে উঠে যাবে। বাজারে সোনার মৌলিক চাহিদা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে, তাই দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার ইতিবাচক থাকবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।’

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বিজিএমইএ, সিএমপি ও জেলা পুলিশকে ত্রাণ হস্তান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে বিজিএমইএ, সিএমপি ও জেলা পুলিশকে ত্রাণ হস্তান্তর
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। বন্যাকবলিত মানুষের জন্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে সরাসরি ত্রাণ বিতরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমানের উদ্যোগে এবং ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এই মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর অংশ হিসেবে গত ১৪ ও ১৬ জুলাই বিজিএমইএর পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের কাছে ২০০ বস্তা করে ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। সংগঠনটির নেতারা জানান, প্রশাসনের মাধ্যমে এসব ত্রাণসামগ্রী দ্রুত ও সুষমভাবে বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সহসভাপতি এনামুল আজিজ চৌধুরী, পরিচালক ও সাবেক প্রথম সহসভাপতি এস এম আবু তৈয়ব, পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক খন্দকার বেলায়েত হোসেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানরা। এ সময় সিএমপি ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ত্রাণ গ্রহণকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী এবং পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিজিএমইএ’র এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা আশ্বাস দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে।

এর আগে গত ১৫ জুলাই বিজিএমইএ’র বিভিন্ন স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও কর্মকর্তারা চট্টগ্রামের বন্যাবিধ্বস্ত বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় সেখানকার সহস্রাধিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, দেশের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও বিজিএমইএর এ ধরনের সহায়তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তারা।

ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম রোধে নিয়মিত অডিট হবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক
ব্রোকারেজ হাউজের অনিয়ম রোধে নিয়মিত অডিট হবে : বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু সংস্কারমূলক কার্যক্রম চলছে। হাউজগুলো ঘন ঘন অডিটের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এতে পুঁজিবাজারে সচ্ছতা আসবে। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থায় সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

শনিবার এফডিসি’তে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয় নিয়ে ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজার চাঙার নামে রোডশো’র কোন প্রয়োজন নেই। ভালো ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে মার্কেটকে আকর্ষণীয় করতে পারলে বিনিয়োগকারীরা আস্থা ফিরে পাবে। রোডশো’র নামে অর্থ অপচয় কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

‘বর্তমানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ওপর কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই। বিএনপি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে পুঁজিবাজারকে চাঙা করার যে অঙ্গীকার করেছিল তা বাস্তবায়নে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী জাতীয় সংসদে তাদের বক্তব্যে বিএসইসি’কে স্বাধীনভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।’

মাসুদ খান বলেন, বর্তমান কমিশনও কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করে যাচ্ছে। এতে ধীরে ধীরে শেয়ারবাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। খ্যাতনামা বহুজাতিক কোম্পানি ও বড় বড় প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আনতে ডাইরেক্ট লিস্টিং করা হবে। এতে কালক্ষেপণ হবে না। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবে। বিগত সরকারের আমলে একীভূত হওয়া ৫টি ব্যাংক ও বেশ কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদের চেয়ে দেনা বেশি। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নেবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘ দুই দশকে কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। দীর্ঘদিনের কারসাজি, আস্থাহীনতা ও সুশাসনের ঘাটতিসহ নানা সংকট মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে পুঁজিবাজার। বিগত শাসনামলে গ্যাম্বলারদের কারসাজিতে পরিণত হয়েছিল দেশের পুঁজিবাজার। এবারই প্রথমবারের মতো কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা ছাড়াই সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে এনে পুঁজিবাজারকে চাঙা করতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা পরিলক্ষিত হচ্ছে। শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা বর্তমান কমিশনের একটি সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত। পুঁজিবাজারের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে চাঙা করতে কমিশনের সচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়াও রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। আওয়ামী শাসনের ১৫ বছরে জাল—জালিয়াতি, কারসাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে শেয়ারবাজার থেকে ১ লাখ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সে সময় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়ে কমপক্ষে ১৫ জন বিনিয়োগকারী আত্মহত্যা কিংবা হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। ক্রমাগত লোকসানের কারণে গত এক দশকে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পুঁজিবাজার ছেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ বিনিয়োগকারী। যার সংখ্যা ১৪-১৫ লাখ। এসব বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগই ঋণগ্রস্ত হয়ে দায় দেনার ভয়ে এখনো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ আরো বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্নে বাংলাদেশের অবস্থান। এমনকি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে পাকিস্তানের চাইতেও বাংলাদেশের অবস্থান নিচে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সুশাসন বজায় রাখা না গেলে পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে না। বাংলাদেশে এমন অনেক বহুজাতিক কোম্পানি রয়েছে যেগুলো সম্পূর্ণ বিদেশি মালিকানাধীন। বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তি বা সরকারের কোনো শেয়ার নেই। পুঁজিবাজারে বিদেশি প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংক, মেটলাইফ, নেসলে বাংলাদেশ, পিএনজির মতো নামী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত করা জরুরি।

‘দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণেই পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকদের পরাজিত করে বিজয়ী হয় প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন— অধ্যাপক আবু মুহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক ফারুক মেহেদী, সাংবাদিক ইকবাল আহসান ও সাংবাদিক হোসাইন শাহাদাত। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ এবং মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সমর্থনজোরদারের লক্ষ্যে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)-এর সভাপতি ও সহ-সভাপতির সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শনিবার (১৮ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত পৃথক বৈঠকে ইকোসকের সভাপতি, নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা, ইকোসকের সহ-সভাপতি ও আলজেরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আমর বেনজামার কাছে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর পক্ষে সরকারের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমাত্রিক প্রভাব এবং অন্যান্য বহিঃপ্রতিকূলতার কারণে বাংলাদেশ পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতিকালের পূর্ণ সুফল গ্রহণ করতে পারেনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণে দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং ব্যাপক কাঠামোগত সংস্কার সুসংহত করা, সুশাসন জোরদার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আর্থিক খাত শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং একটি শক্তিশালী ও টেকসই মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তরণকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল করা।

ইকোসকের সভাপতি ও সহ-সভাপতি এলডিসি থেকে উত্তরণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সামনে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে আলোকপাত করে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এ সময় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ -এর সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান উপস্থিত ছিলেন।

সাশ্রয়ী মূল্যে সারা দেশে বসুন্ধরার পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম শুরু | কালের কণ্ঠ